প্রচন্ড গরম আর লোড শেডিংএ অতিষ্ঠ জনজীবন ॥ বাড়ছে রোগের প্রাদুর্ভাব

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ প্রচন্ড গরম আর লোড শেডিংয়ে ওষ্ঠাগত হয়ে পড়েছে নগর জীবন। এক দিকে জৈষ্ঠের কাঠ ফাটা রোদ অন্যদিকে ঘন্টার পর ঘন্টা চলছে অঘোষিত লোড শেডিং। যে কারনে বাইরে রোদের তাপদাহে পুড়ে ঘরে গিয়েও পাওয়া যাচ্ছে না একটু স্বস্তি। কর্মক্ষেত্রেও দেখা দিয়েছে অস্থিরতা। অবশ্য আবহাওয়া অফিস বলছে সূর্যের পারদ নিচে নেমে যাওয়ায় তাপদাহ বেড়েছে। গতকাল শনিবার রোদের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিলো ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে এর পূর্বে অর্থাৎ শুক্রবার তাপমাত্রা আরো বেশি ছিলো। এমন পরিস্থিতি আরো কয়েকদিন থাকার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানিয়েছেন আবহাওয়া অফিস।
বরিশাল আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, বৈশাখের শুরু থেকেই বরিশাল নগরী সহ দক্ষিণাঞ্চলে শুরু হয় বৃষ্টিপাত। অসময়ে টানা বৃষ্টির পাশাপাশি কালবৈশাখী ঝড়ে বিপর্যন্ত হয় দক্ষিনের জনপদ। তবে সাম্প্রতিক সময়ে হঠাৎ করে বৈরী আবহাওয়ার কিছু হলেও পরিবর্তন ঘটেছে। সেই সাথে বেড়েছে সূর্যের তাপমাত্রা। সকালে সূর্য ওঠার পরে তাপমাত্রা কিছুটা সহনশীল থাকলেও বেলা বাড়ার সাথে সাথে তা অস্বস্তির কারন দায়ে দাড়াচ্ছে। অল্প কিছু সময়ের মধ্যেই ঘামে ভিজে যাচ্ছে মানুষের শরীর। এমনকি পশু-পাখিও ছুটছে স্বস্তির খোঁজে। সাধারন মানুষ গরম থেকে একটু স্বস্তি পেতে গাছ পালা, নির্জনস্থান কিংবা নদীর ধারে প্রাকৃতিক উৎস বাতাসের সন্ধানে ছুটছে। বিশেষ করে দিন মজুর রিক্সাচালক, মাঠের শ্রমিকদের মন বসছে না কাজের প্রতি। গরম থেকে স্বস্তি পেতে গাছের নিচে বিশ্রাম নেয়ার স্থানে মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। এসব কারনে ফুটপাতের ঠান্ডা শরবত, বিভিন্ন প্রকার ফলের জুস, ফ্রিজের ঠান্ডা পানি এবং আইসক্রিম এর কদর বেড়েছে কয়েক গুন।
এদিকে শুধুমাত্র দিন মজুরদের বেলায় নয়, সরকারি-বেসরকারি কর্মক্ষেত্রেও দেখা দিচ্ছে একই যন্ত্রনা। চারদিকে প্রখর রোদের কারনে দিশেহারা হয়ে পড়ছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তার মধ্যে আবার ঘন্টার আগা-মাথায় চলে যাচ্ছে বিদ্যুৎ। ঘন্টার পর ঘন্টা লোড শেডিং এর কারনে অফিস পাড়ায় কাজকর্ম করতে গিয়েও হাপিয়ে উঠছেন তারা। তাই বেলার বাড়ার সাথে সাথে অফিস পাড়াও অনেকটা জনশুণ্য হয়ে যাচ্ছে। সাধারন মানুষ অতি প্রয়োজন ছাড়া বের হচ্ছে না ঘরের বাইরে। স্কুল-কলেজ শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং কর্মজীবীদের পথচলার সঙ্গী হয়েছে ছাতা। বৃষ্টি নয়, রোগের তাপ থেকে নিজেকে একটু আড়াল করতেই ছাতা ব্যবহার বেড়েছে। তবে সকাল-দুপুর রোদে পুড়লেও বিকাল থেকে রাতে ভ্যাপসা গরমে হাপিয়ে যাচ্ছে মানুষ। কোন কাজকর্ম না করে বসে সময় কাটাতে গেলেও ঘামে ভিজে যাচ্ছে সমস্ত শরীর। সাথে বিদ্যুৎ না থাকায় গরমের যন্ত্রনা আরো বেড়ে যায়। কোন কারন ছাড়াই গভীর রাতে লোড শেডিং হচ্ছে। তা একবার নয়, রাতের শুরু থেকে ভোর হওয়া পর্যন্ত অন্তত অসংখ্যবার লোড শেডিং যেন নিয়মে পরিনত হয়েছে।
নগরীতে ভাটিখানা এলাকার বাসিন্দা শাহ মুনির বলেন, গরমের তীব্রতার কারনে এখন বাইরে নামাটাও কষ্টকর হয়ে পড়েছে। কিন্তু তার পরেও জীবিকার তাগিতে বাইরে নামতে হচ্ছে। কিন্তু কাজ শেষে একটু স্বস্থির জন্য বাসায় ফিরেও স্বস্তির খোঁজ মিলছে না। কেননা বিদ্যুৎ এর লাগামহীন ভেলকিবাজির কারনে ঘরে ফ্যানের পাখা ঘুরছে না। ঘন্টার আগায় মাথায় বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। ঘন্টার পর ঘন্টা বিদ্যুৎ বিহীন থাকতে হচ্ছে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে। এতে করে শিশু সন্তান এবং বৃদ্ধরা গরম আর লোড শেডিং এর যন্ত্রনায় হাফিয়ে উঠছে।
এদিকে বরিশাল শেবাচিম এবং সদর হাসপাতালে খোঁজ নিয়ে দেখাগেছে, রোদের তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে সাথে বেড়েছে রোগের প্রাদুর্ভাব। বিশেষ করে ডায়েরিয়া, খুজলি-পাঁচরার রোগীর সংখ্যা কয়েকগুন বেড়েছে। সেই সাথে হিট স্ট্রোকের রোগীর সংখ্যাও হাসপাতালে দিন দিন বেড়ে চলেছে। তাছাড়া গরমের অসহ্য যন্ত্রনা থেকে নিস্তার পেতে ফুটপাতের অস্বাস্থ্যকর খাবার খেয়ে পেটে পিড়া সহ নানা রোগ জীবানুতে আক্রান্ত হচ্ছে সাধারন মানুষ।