রেজা হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী সন্ত্রাসী মেহেদী আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ পলিটেকনিক ছাত্রলীগ নেতা রেজাউল করিম রেজা হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী সন্ত্রাসী যুবলীগ সদস্য মেহেদী হাসান ওরফে বড় মেহেদীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঢাকায় পালিয়ে যাবার পথে বরিশাল-ঢাকা নৌ রুটের এমভি কালাম খান লঞ্চ থেকে তাকে গ্রেফতার করে কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশ। গ্রেফতারের পর তাকে থানায় নিয়ে আসলে সেখানে রেজার অনুসারী বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা মেহেদীর উপর হামলা চালায়। এসময় তাকে বেধড়ক মারধর শুরু করলে পুলিশ দ্রুত আসামি মেহেদীকে থানার মধ্যে সরিয়ে নিয়ে প্রধান গেট বন্ধ করে দেয়।
আটককৃত যুবলীগ সদস্য মেহেদী হাসান নগরীর সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট সংগ্নের বাসিন্দা। সে বরিশাল বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন খান আলোর ভাতিজা বলে জানা গেছে।
এদিকে ঘটনার ৪৮ ঘন্টা পর ছাত্রলীগ নেতা রেজা হত্যায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। গতকাল রবিবার নিহতের ভাই ঢাকার ফার্মেসী ব্যবসায়ী রিয়াজুল করিম বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেছেন। এতে ১৪ জন নামধারী আসামি ছাড়াও ৬ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে বলে মডেল থানার দায়িত্ব প্রাপ্ত অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতাউর রহমান নিশ্চিত করেছেন। অবশ্য উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মেহেদীকে জিজ্ঞাসাবাদ করায় তাৎক্ষনিকভাবে হত্যাকান্ডের বিষয়ে কোন তথ্য জানাতে পারেননি তিনি।
তবে থানা পুলিশের গোপন সূত্র জানিয়েছে, ছাত্রলীগ নেতা রেজাউল করিম রেজা হত্যাকান্ডের মূল পরিকল্পনায় ছিলেন যুবলীগ নেতা মেহেদী হাসান ওরফে বড় মেহেদী। ঘটনার পূর্বে সন্ধ্যার পর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের প্রবেশ গেট সংলগ্ন নিজ বাড়িতে রেজাকে হত্যার বিষয়ে খুনিদের নিয়ে পরিকল্পনা করেন মেহেদী। তাছাড়া রেজা সহ তার ৫ সহযোগির ক্যাম্পাসে প্রবেশের তথ্য হত্যাকারিদের জানিয়েছে অপর এক ছাত্রলীগ নেতা। তবে রেজা কিলিং মিশনে অংশ নেয় ৫ জন। এরা হলো ঐ ছাত্রলীগ নেতার সহযোগী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ছাত্র সাইদুল ইসলাম, ছোট মেহেদী, আমির কুটির এলাকার হরিজন কলোনীর বাসিন্দা কালা জাহিদ, রাকিব ও বাবু। তাছাড়া হত্যাকান্ডের সময় রুমের লাইট বন্ধ করে ঘরের ভেতর দিয়ে ঘটনা পর্যবেক্ষণ করে যুবলীগ নেতা বড় মেহেদী।
কোতয়ালী মডেল থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতাউর রহমান জানান, রবিবার রাতে ছাত্রলীগ নেতা রেজাউল করিম রেজা হত্যার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই মামলায় হত্যাকারী কালা জাহিদকে প্রধান এবং যুবলীগ সদস্য মেহেদীকে দ্বিতীয় আসামি করে মোট ১৪ জনের নামে এবং আরো ৬ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
তিনি জানান, রবিবার রাতে এমভি কালাম খান লঞ্চে ঢাকায় পালাবার চেষ্টা করে মামলার দ্বিতীয় নম্বর আসামি বড় মেহেদী। গোপন তথ্যের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারেন তারা। পরবর্তীতে লঞ্চে থাকা আনসার সদস্যদের সাথে যোগাযোগ করে তাদের মাধ্যমে মেহেদীকে আটক করানো হয়। লঞ্চের আনসার সদস্যরা মেহেদীকে আটকের পর তাদের হেফাজতে রাখেন। পরে লঞ্চ মালিক পক্ষের সাথে যোগাযোগ করে এমভি কালাম খান লঞ্চের গতি কমান। লঞ্চটি বেলতলা পর্যন্ত পৌছালে কোতয়ালী মডেল থানার এসআই দেলোয়ার হোসেন, এসআই আবু তাহের এবং এসআই মুরাদ স্পিট বোডে সেখানে পৌছে লঞ্চ থেকে মেহেদীকে আটক করে।
এদিকে মেহেদীকে থানায় নিয়ে আসা মাত্রই থানার ভেতরে ময়ূরী চত্ত্বরে অবস্থানরত ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা ঘাতক মেহেদীর উপর অতর্কিত হামলা চালায়। এসময় তারা পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে মেহেদীকে বেধড়ক মারধর করে।
এদিকে নিহতের বড় ভাই রাঙ্গামাটি সদর হাসপাতালের স্টোর কিপার মো. কবির হোসেন জানান, প্রত্যক্ষদর্শী এবং রেজার সাথে আহত দু’জনের সাথে যোগাযোগ করে তাদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী মামলার আসামি করা হয়েছে। মামলায় কালা জাহিদ এবং মেহেদী ছাড়াও পলিটেকনিক ছাত্রলীগ নেতা জসিম উদ্দিন, ছোট মেহেদী, ড্রাম রাকিব, পলাশ, সাইদুল ইসলাম, রিয়াজ, বেল্লাল, মাসুম, মুসা ও সৈকত সহ আরো ১৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। এছাড়া ৬ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন নিহতের বড় ভাই।
তবে আসামিদের উল্লেখিত নামের বিষয়টি নিশ্চিত হতে মডেল থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতাউর রহমান বলেন, তদন্তের স্বার্থে বাকি আসামিদের নাম বলা সম্ভব হচ্ছে না। তাছাড়া একজন মাত্র আসামি গ্রেফতার হয়েছে। বাকিরা গ্রেফতার হলে তাদের নাম প্রকাশ করা হবে।