নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ “ক্রোধ” শুধু এক শিশুর জীবন প্রদীপ নিভিয়ে দেয়নি। একই সাথে আরো তিন শিশুর ভবিষ্যত অনিশ্চয়তায় ফেলে দিয়েছে বানারীপাড়ার হাফিজুল হত্যা মামলার আসামী নূপুর আক্তার নীলা।
গতকাল রোববার অতিরিক্ত মুখ্য বিচারবিভাগীয় হাকিম মো. শিহাবুল ইসলামের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। পরে তাকে জেল হাজতে পাঠানোর আদেশ দেন অতিরিক্ত মুখ্য হাকিম।
স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ক্রোধের বশঃবর্তি হয়ে আসামী নীলা শিশু হাফিজুলের জীবন প্রদীপ নিভিয়ে দেয়নি। একই সাথে নিজের তিন কন্যা শিশুর ভবিষ্যত অনিশ্চয়তার পথে নিয়ে গেছে।
মাত্র ৬ মাস বয়সী কন্যা বিন্তু ও তিন বছর বয়সী কন্যা অনু আক্তার তার সাথে কারাগারে গিয়েছে। অপর ৬ বছরের কন্যা পারিবারিক ও সামাজিকভাবে নানা প্রশ্নের মুখে পড়বে। এতে তার ভবিষ্যত জীবন হুমকিতে পড়বে। এমন মন্তব্য আদালত পাড়ার আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীসহ সংশ্লিষ্টদের।
গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে বানারীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে তিন বছর চার মাস বয়সী শিশু হাফিজুল শেখ। সে পৌর শহরের ৯ নং ওয়ার্ডের ফেয়ারী কুইন বিউটি পার্লারের পিছনের বারান্দায় করা ঘরের ভাড়াটিয়া রিকসাচালক রিপন শেখের ছেলে।
ওই ঘটনায় রিপন শেখ ঘরের মালিক নূপুর আক্তার নীলাকে আসামী করে শুক্রবার সকালে বানারীপাড়া থানায় মামলা করে। সেই মামলার আসামী হিসেবে শনিবার রাজধানীর রাজাবাজার ভাইয়ের স্ত্রীর আত্মীয়ের বাসা থেকে নীলাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সে বানারীপাড়া পৌরসভার টিএন্ডটি মোড় এলাকায় বাবলা মৃধার স্ত্রী।
আদালতে দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে নীলা ঘটনার বর্ণনা দিয়ে জানায়, স্কয়ার হাসপাতালের কর্মচারী স্বামী বাবলা রাজধানীতে থাকে। টিএন্ডটি মোড় এলাকার বাসায় ৬ বছর, তিন ও ছয় মাস বয়সী তিন কন্যাকে নিয়ে থাকে সে। স্বামী রাজধানীতে থাকায় সাংসারিক ঝামেলা তাকে মেটাতে হয়। ভাড়াটিয়া রিকসা চালত রিপন শেখের ছেলে হাফিজুল সব সময় কান্নাকাটি করে। একারণে তার সন্তানদের ঘুম ভেঙ্গে যায়। এছাড়াও ঘুম পড়ানো যায় না। বিষয়টি রিপনকে বলা হয়। এরপরেও তারা কোন কর্ণপাত করেনি।
ঘটনার দিন দুপুরে সন্তানদের ঘুম পড়ানোর সময় অনবরতভাবে কান্না করে হাফিজুল। রাগে সে রিপনের ঘরে গিয়ে দেখতে পায় ঘর বাহির থেকে শিকল দিয়ে আটকানো। ভিতরে হাফিজুল কাঁদছে।
শিকল খুলে ভিতরে গিয়ে হাফিজুলের এক হাতের বাহু ধরে খাটের উপর ফেলে বের হয়। বেড়িয়ে সামনে রিপনকে পেয়ে তার সাথে তর্ক করেন। পরে হাফিজুলকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাই রাতে ভয়ে তিনি ঢাকা গিয়ে ভাইয়ের স্ত্রীর এক স্বজনের বাসায় আত্মগোপন করে।
তাকে গ্রেপ্তার করা মামলার তদন্তকারী এসআই মোস্তাফিজুর রহমান জানান, পরিবার সদস্যদের বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখিয়ে নীলার আত্মগোপনের স্থানের সন্ধান বের করা হয়। পরে তাকে সেখান থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।