বরিশাল-লক্ষ্মীপুর রুটের ‘এমভি পারিজাত’ নৌযান চলাচলে বাধা সৃষ্টির জন্য বারবার রিট করায় জরিমানা

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ বরিশাল-লক্ষ্মীপুর রুটে সমুদ্র পরিবহন অধিদফতরের অনুমোদিত নকশায় নির্মিত উপকূলিয় নৌপথ অতিক্রমকারী যাত্রীবাহী নৌযান ‘এমভি পারিজাত’এর বৈধ চলচলে বাধা সৃষ্টির লক্ষ্যে হাইকোর্টের রুল নিস্পত্তি সহ একই বিষয়ে বারে বারে রীট দাখিলকারীকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ। অত্যাধুনিক নৌ সরঞ্জামাদী সমৃদ্ধ বিআইডব্লিউটিএ’র সময়সূচী অনুযায়ী চলাচলকারী নৌযানটি চলাচলে ইতোপূর্ব ৩টি রিট আবেদন নিস্পত্তি হবার পরেও একই বিষয়ে ৪র্থ রিট দায়ের করা হয়। কিন্তু সে রীটটি বাদী কর্তৃক প্রত্যাহারে গত ২৭ জানুয়ারির বাদী ও বিবাদী পক্ষের আইনজীবীদের শুনানী গ্রহণ করে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা সহ প্রত্যাহারের অনুমোদন প্রদান করেন বিজ্ঞ আদালত। এর ফলে বরিশালÑলক্ষ্মীপুর (মজু চৌধুরীর হাট) রুটে এমভি পারিজাত চলাচলে আর কোন আইনগত বাঁধা থাকল না বলে জানিয়েছেন নৌযানটি পরিচালনাকারী কোম্পানির আইনজীবীগণ।
বরিশালের জামান এন্টারপ্রাইজ নামের একটি প্রতিষ্ঠান সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তর থেকে উপকূলিয় এলাকায় চলাচল উপযোগী নকশা অনুমোদন করানোর মাধ্যমে এমভি পারিজাত নামের নৌযানটি নির্মাণ করে। বিআইডব্লিউটিএ’র রুট পারমিট ও সময়সূচী অনুযায়ী নৌযানটি বরিশালÑলক্ষ্মীপুর রুটে চলাচল শুরু করলে জনৈক সবুজ বেপারী জনস্বার্থে হাইকোর্টে একটি রীট পিটিশন দায়ের করেন। কিন্তু বিজ্ঞ আদালত এমভি পারিজাত’কে একটি ত্রুটিমুক্ত নৌযান হিসেবে অখ্যায়িত করে। উচ্চ আদালত বাদীকে ‘ক্লীন হ্যান্ডে’ আদালতে না আসার কথা উল্লেখ করে মামলাটি নিস্পত্তি করে দেন।
কিন্তু এরই কিছুদিন পরে জনৈক সেলিম গাজী একই বিষয়ে আরেকটি রিট পিটিশন দায়ের করে। কিন্তু মহামান্য হাই কোর্ট এ বিষয়ে কোন আদেশ না দেয়ায় বাদী মামলাটি প্রত্যাহার করে নেয়। একই ব্যক্তি কিছুদিন বাদে ঐ বিষয়েই ৪র্থ দফা রিট পিটিশন দায়ের করলে হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চ নৌযানটি চলাচলে স্থগিতাদেশ সহ রুল জারি করে। বিষয়টি নিয়ে নৌযনটির স্বত্ত্বাধিকারী হাইকোর্টরে সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে আবেদন পেশ করলে শুনাণী অন্তে নৌযানটি চলাচলের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে নেয় বিজ্ঞ আদালত। ফলে বিগত কিছু দিন ধরে নৌযানটি নির্বিঘেœ বরিশালÑলক্ষ্মীপুর রুটে যাত্রী পরিবহন করছিল।
ইতোমধ্যে গত ২৭ জানুয়ারি আকস্মিকভাবেই রিটকারী সেলিম গাজী হাইকোর্টে পূর্বে দায়ের করা রিট পিটিশনটি প্রত্যাহার করে নেয়ার আবেদন পেশ করেন। বিষয়টি নিয়ে হাইকার্টের মাননীয় বিচারপতি এম মোয়াজ্জেম হোসেন ও বিচারপতি এমডি বদরুজ্জামানÑএর আদালতে শুনাণী শেষে গত মঙ্গলবার আদেশ প্রদান করেন। বিজ্ঞ আদালত তার আদেশে মামলাটি প্রত্যাহার অনুমোদনের পাশাপাশি একই বিষয় নিয়ে বার বার রিট পিটিশন করে বিবাদীকে হয়রানী করায় বাদীকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন। রায় হাতে পাবার ১৫ দিনের মধ্যে তা বিবাদী কাজী ওয়াহিদুজ্জমানকে প্রদানের জন্য বাদীকে নির্দেশ প্রদান করেন বিজ্ঞ আদালত। মহামান্য আদালত ফয়সালাকৃত একই বিষয় নিয়ে একই ব্যক্তির মামলা পরিচালনার জন্য বাদীর আইনজীবীকেও তিরষ্কার করেন।
হাইকোর্টের সর্বশেষ এ আদেশের ফলে বরিশালÑলক্ষ্মীপুর রুটে উপকূলিয় নৌযান এমভি পারিজাত-এর চলাচলে আর কোন আইনগত বিধিনিষেধ থাকল না।
সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরের অনুমোদিত নকশা ও প্রতিষ্ঠানটির প্যানেল প্রকৌশলীদের তত্বাবধায়নে নির্মিত নিরাপত্তা সনদ লাভকারী ‘এমভি পারিজাত’ বরিশালÑলক্ষ্মীপুর রুটে চলাচলে ইতোপূর্বে বিআইডব্লিউটিএ সময়সূচী প্রদান করে। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, বার বারই পারিজাত-এর চলাচলে বাধার সৃষ্টি করে আসছে সরকারি বিঅইডব্লিউটিসি’র সী-ট্রাক ইজারা নিয়ে পরিচালনাকারী ব্যক্তি। বিআইডব্লিউটিসি’র সী-ট্রাকের ইজারাদার-এর ইন্ধনে বিভিন্ন ব্যক্তি একই বিষয়ে এপর্যন্ত চার দফায় হাই কোর্টে রীট দায়ের করে নিষেধাজ্ঞা জারি করালেও তার সবগুলোই খারিজ হয়ে গেল।
সরকার দেশের উপকূলিয় নৌপথে নিরাপদ যাত্রী পরিবহনের লক্ষ্যে বিআইডব্লিউটিসি’কে এ পর্যন্ত ১২টি সী-ট্রাক সংগ্রহে অর্থের যোগান সহ এ লক্ষ্যে প্রতিবছর নগদ ভর্তূকিও প্রদান করে আসছে। অথচ সংস্থাটির একটি কুচক্রী মহল নানা কারসাজী করে এসব সী-ট্রাক ইজারার মাধ্যমে পরিচালনা করে কতিপয় ব্যবসায়ীর পকেট ভাড়ী করতে সহায়তা করে বলে অভিযোগ রয়েছে। উপরন্তু ঐসব ইজারাদার মনোপলী ব্যবসার লক্ষ্যে শুধুমাত্র ১৫ মার্চ থকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত দূর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মৌসুমে ঐসব নৌযান পরিচালনা করে থাকে। সংস্থাটির কারিগরি ও বাণিজ্য বিভাগের যোগসাজসে অক্টোবরের মধ্যভাগ থেকে মধ্য মার্চ পর্যন্ত এসব সী-ট্রাক নানা অজুহাতে বসিয়ে রাখা হয়। সমুদ্র পরিবহন অধিদফতর থেকে অশান্ত মৌসমে অভ্যন্তরীন রুটে কোন নৌযানকে উপকূলিয় এলাকায় চলাচলের অনুমোদন দেয়া হয়না ।
সে নিরিখে সমুদ্র পরিবহন অধিদফতরের অনুমোদিত নকশায় উপকূলিয় নৌপথে চলাচল উপযোগী করে নির্মিত এমভি পারিজাত নৌযানটি অত্যাধুনিক নৌ সরঞ্জামাদী সহ নির্মিত হলেও তার চলাচলে বারবারই আইনগত বিপত্তি সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছিল। বিজ্ঞ আইনজীবীদের মতে, গত মঙ্গলবার মহামান্য হাইকোর্টের দৈত বেঞ্চের আদেশের ফলে এ বিষয়ে আর কোন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির সুযোগ থাকল না।