ছাত্রলীগের মহানগর কমিটি পূনর্গঠনের গুঞ্জন

রুবেল খান॥ ছাত্রলীগের মহানগর শাখার কমিটি পূনর্গঠন গুঞ্জনে তৎপরতা বেড়েছে পদ প্রত্যাশী আলোচিত ও সমালোচিত ছাত্রনেতাদের। নতুন কমিটিতে পদ পেতে ত্যাগীদের সাথে নাম জুড়ে আলোচনায় আসার অপকৌশল নিয়েছেন তারা। আর সমালচিত এই কথিত ছাত্র নেতাদের তালিকায় রয়েছেন বিবাহিত, সন্তানের জনক, আলোচিত মামলার আসামী ও চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীর সু খ্যাতি অর্জনকারীরা। বিতর্কিত এই পদ প্রত্যাশিদের বেপরোয়া কর্মকান্ডে শংকিত হয়ে পড়েছেন বঞ্চিত এবং ত্যাগি ছাত্র নেতারা।
খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, একের পর এক বিতর্কিত কর্মকান্ডে জড়িয়ে থাকা বরিশাল মহানগর ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে প্রায় বছর খানেক পূর্বে। মেয়াদ থাকা অবস্থায় ছাত্রলীগের তিন সদস্য বিশিষ্ট মহানগর কমিটি’র নেতৃবৃন্দ সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনায় পদে পদে ব্যার্থতার প্রমাণ দেয়। তবে বিভিন্ন আলোচিত এবং সমালচিত কর্মকান্ডের মাধ্যমে ঐতিহ্যবাহী সংগঠন ছাত্রলীগ এর বিগত দিনের সুনাম এবং সংগ্রামের ইতিহাস ম্লান করে দেয়। বিশেষ করে বর্তমান কমিটির নেতৃবৃন্দ সরকারী দপ্তর দখল করে টেন্ডারবাজী, জমি দখল এবং সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে এগিয়ে থাকায় ভেঙ্গে পড়ে মহানগর ছাত্রলীগের সাংগঠনিক ভিত্তি। তার পরেও ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সভাপতি বদিউজ্জামান সোহাগের গনিষ্ঠভাজন হওয়ার সুবাদে মহানগর ছাত্রলীগের জসিম-অসিমের মেয়াদ উত্তীর্ণ কমিটি এখনো টিকে আছে।
তার মধ্যে সাধারণ সম্পাদক অসীম দেওয়ান আছেন বসন্তের কোকিল হয়ে। মহানগর ছাত্রলীগের নেতা হলেও বেশিরভাগ সময় তিনি থাকছেন রাজধানী ঢাকায়। কখন বরিশালে আসেন আবার কখন কিভাবে যাচ্ছেন তা জানেনা ছাত্রলীগের পদধারী নেতারাও।
সাংগঠনিক সম্পাদক তৌসিক আহম্মেদ রাহাত নোংরামি থেকে বাঁচতে সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে দূরে সরে আছেন। তিনি ব্যস্ত হয়ে আছেন চাকুরী নিয়ে।
এদিকে বর্তমান কমিটির পদধারীরা প্রকাশ্যে না থাকলে ছাত্রলীগের মহানগর কমিটি চলছে কিছু স্ব-ঘোষিত পদধারী ছিচকে নেতাদের বিতর্কিত কর্মকান্ডের মধ্যে দিয়ে।
মহানগর ছাত্রলীগের কয়েকটি সূত্র জানায়, কমিটি পূর্ণাঙ্গ করার অথবা ভেঙ্গে ফেলার একাধিক সম্ভাবনা ইতিপূর্বে বরিশাল মহানগরে দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে জল্পনা কল্পনার শেষ নেই। প্রকৃত পক্ষে এর কোনটিরই অগ্রগতি হয়নি আদৌ। উল্টো বরিশাল মহানগর কমিটি নিয়ে বিড়ম্বনার শিকার হতে হয়েছে কেন্দ্রীয় সাবেক নেতাদের।
অপরদিকে সকল জল্পনা কল্পনার অবসন ঘটিয়েছে গত ৩১ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা এবং নির্দেশনা মূলক বক্তব্য। তার বক্তব্যের ভাষায় উঠে আসে ছাত্রলীগ থেকে আগাছা তুলে ফেলতে হবে। যেসব জেলা এবং উপজেলা সহ ইউনিয়ন কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণ কিংবা আহ্বায়ক কমিটি রয়েছে সে সব কমিটি ভেঙ্গে নতুন করে কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন কেন্দ্রীয় নেতাদের। প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্যে নড়ে চড়ে বসেছেন কেন্দ্রীয় নেতারা। আর সে দিক থেকে সর্ব প্রথম পূনর্গঠনের তালিকায় উঠে আসছে বরিশাল জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের কমিটি। যে কারণে এই দুটি শাখা কমিটি বিলুপ্ত’র ঘোষণা আসতে পারে যে কোন সময়। সেই সাথে গঠন করা হবে নতুন কমিটি। এমন পূর্বাভাস পাওয়া গেছে কেন্দ্রীয় নেতাদের মুখ থেকেও। গত ১৮ জানুয়ারি মঠবাড়িয়ার কৃতি সন্তান ছাত্রলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি বায়জীদ এর সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এমন আভাস দিয়েছেন।
ঐ অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। অনুষ্ঠানে বরিশাল জেলা ও মহানগরের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সকল নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে সংগঠন শীঘ্রই নুতন করে সাজানোর তাগিদ তথা নতুন কমিটি গঠনের অগ্রিম বার্তা দিয়েছেন কেন্দ্রীয় নেতারা। ঘোষণার পর থেকেই নতুন কমিটিতে পদ পেতে ত্যাগিদের সাথে লাইম লাইটে উঠে আসতে মরিয়া হয়ে আছে বেশ কয়েক সুবিধেবাদী ছাত্রলীগ কর্মীরা। এর মধ্যে পদবীর দাবীদার হিসেবে উঠে আসে বেশ কয়েক জনের নাম। যার মধ্যে রয়েছেন মাইনুল ইসলাম, অনিক সেরনিয়াবাত ও রইচ আহম্মেদ মান্না সভাপতি পদের দাবিদার এবং সাধারণ সম্পাদক পদের দাবিদার হিসেবে রেজাউল করিম রেজা, রিফাত হোসেন রাব্বি ওরফে পন্টি রাব্বি ও সহ বেশ কয়েক জন।
এদের মধ্যে কুটকৌশলী হয়ে আলোচনায় আসার অভিযোগ রয়েছে বেশ কয়েক জনের বিরুদ্ধেই। সাংগঠনিক যোগ্যতায় দুর্বল হলেও মিডিয়া কভারেজ নিতে ব্যস্ত ঐ সকল ছাত্রলীগ কর্মীরা হলেন রইচ আহম্মেদ মান্না, রেজাউল করিম রেজা, পন্টি রাব্বি ও কানন। রইচ আহম্মেদ মান্নার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের। মহানগর ছাত্রলীগের সম্পাদক অসিম দেওয়ানের ঘনিষ্ট ভাজন মান্না ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ও এক সন্তানের জনক বলেও সূত্রটি জানিয়েছেন। অনিক সেরনিয়াবাত এর বিরুদ্ধে একটি রাজনৈতিক মামলার আসামী হওয়া ছাড়া তেমন কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। এমনকি বিএম কলেজ অবৈধ ছাত্র কর্ম পরিষদের সমাজ সেবা সম্পাদকের পদ পেয়েও সেই পদ থেকে নিজেই অব্যা হতি নিয়ে কিছুটা ত্যাগের পরিচয় দিয়েছেন অনিক সেরনিয়াবাত। তাছাড়া সাংগঠনিক এবং নেতৃত্বের দিক থেকে অনিক অনেকটা যোগ্য বলে মনে করছেন সাবেক ও বর্তমান ছাত্র নেতারা। সাধারণ সম্পাদক পদের দাবীদার হিসেবে রেজাউল করিম রেজার বিতর্কের শেষ নেই। জেলার সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাকের অনুসারী রেজা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের চাঞ্চল্যকর মামলার অন্যতম আসামী। অপর সম্পাদক পদের দাবিদার রিফাত হোসেন রব্বি ওরফে পন্টি রাব্বি কাউনিয়া এলাকার চিহ্নিত ইয়াবা ব্যবসায়ী। মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে ইতিপূর্বে তিনি হামলার স্বীকারও হয়েছেন।
তবে নতুন কমিটির গুঞ্জনে এরাই ফুলে ফেপে ওঠায় তা বিতর্কের সৃষ্টি করেছে ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ে।
এসকল বিষয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসাইন বলেন, বরিশাল মহানগর ছাত্রলীগের কমিটি নিয়ে চিন্তভাবনার প্রেক্ষিতে শীঘ্রই সিদ্ধান্ত নিবেন তারা। নতুন এই সিদ্ধান্তের অগ্রভাগে থাকবে ত্যাগী ও সাংগঠনিক দক্ষতা সম্পন্ন ছাত্রনেতারা। বিতর্কিতদের স্থান হবেনা ছাত্রলীগে বলেও জানিয়েছেন তিনি।