ছাত্রলীগ নেতা মুন্নাকে কুপিয়ে জখম হামলাকারী ছাত্রকে চাঁপাতিসহ আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ বিএম কলেজের অস্থায়ী ছাত্র কর্মপষিদের ক্রীড়া সম্পাদক ও ছাত্রলীগ নেতা ফয়সাল আহম্মেদ মুন্নাকে কুপিয়ে জখম করেছে অনুসারী পাওনাদার। গতকাল মঙ্গলবার রাতে এই ঘটনার পর পুলিশ পাওনাদার একই কলেজ ছাত্র সুনীল বাড়ৈকে চাপাতিসহ আটক করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। সুনীল বিএম কলেজের ইতিহাস বিষয়ের মাষ্টার্সের ছাত্র। সে উজিরপুর উপজেলার বিল্ববাড়ী এলাকার রাজেন্দ্র বাড়ৈর ছেলে। সুনীল ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ও মুন্নার প্রতিপক্ষ ভিপি মঈন তুষারের অনুসারী। সে হিন্দু হলের ২৬ নং কক্ষের আবাসিক ছাত্র। ক্যাম্পাস সুত্র জানিয়েছে, সুনীল এক সময় মুন্নার অনুসারী ছিল।
তাই ঘটনার পর বিএম কলেজে ক্যাম্পাসে জিএস নাহিদ সেরনিয়াবাত এবং মুন্না সমর্থকরা বিক্ষোভ মিছিল করেছে।
কোতয়ালী মডেল থানার এসআই আসাদুজ্জামান জানায়, মুন্নার কাছে সুনীল বাড়ৈ দেড়লাখ টাকা পায়। ওই টাকা চাইলে না দিয়ে টালবাহানা করে মুন্না। এছাড়াও সুনীলকে তার ভাড়া বাসা থেকে বের করে দেয়। দুইদিন পূর্বে মুন্না তার অনুসারীদের দিয়ে সুনীলকে মারধর করিয়েছে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বিএম কলেজে মুন্নাকে পেয়ে টাকা ফেরত চায়। টাকা না দেয়ায় সুনীল সাথে থাকা চাপাতি দিয়ে মুন্নার ঘাড়ে কোপ দিয়েছে।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে সুনীলকে চাপাতিসহ আটক করা হয়েছে বলে এসআই আসাদ জানিয়েছেন।
এই ঘটনায় ক্যাম্পাসে মিছিল বের করে অনুসারীরা। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ক্যাম্পাসে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
নগরীর নতুন বাজার সংলগ্ন বগুড়া পুলিশ ফাঁড়ির টিএসআই শাহাবুদ্দিন জানান, বিএম কলেজ ছাত্র কর্মপরিষদের ক্রীড়া সম্পাদক ফয়সাল আহম্মেদ মুন্নাকে কুপিয়ে জখমের খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে সুনীলকে আটক করেন। পরে কুপিয়ে জখমে ব্যবহার করা চাপাতি রক্তমাখা অবস্থায় উদ্দার করেছেন।
সুনীল বাড়ৈ জানায়, পাচ বছর পূর্বের পাওনা টাকা ফেরত না দিয়ে তাকে মারধর করেছে। এই কারনে উজিরপুরে গিয়ে চাপাতি নিয়ে আসেন। রাতে বিএম কলেজ ছাত্রদলের ক্যাডার ফিরোজ খান কালুর সহযোগী শিপনের সাথে দাড়িয়ে কথা বলতে ছিলো ফয়সাল আহম্মেদ মুন্না। সেখানে গিয়ে পাওনা টাকা ফেরত চায়। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায় সাথে থাকা চাপাতি দিয়ে মুন্নার ঘাড়ে আঘাত করেছে সে।
এদিকে মুন্নাকে কুপিয়ে জখমের প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে বিএম কলেজ ছাত্রলীগের একটি পক্ষ। তারই অংশ হিসেবে ঘটনার পর পরই বিএম কলেজ ক্যাম্পাসে বিক্ষোম মিছিল বের করে নাহিদ সেরনিয়াবাত ও মুন্না সমর্থকরা। এ নিয়ে ক্যাম্পাস উত্তপ্ত হয়ে যাওয়ায় সাধারন শিক্ষার্থীদের মাঝে আতংকের সৃষ্টি হয়েছে। যে কারনে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রাখতে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে কোতয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন।