বিএম কলেজে তুষার-নাহিদ গ্রুপের সংঘর্ষে আহত-৭

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ বড় ধরনের সংঘাতের দিকে এগোচ্ছে বিএম কলেজ শাখা ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। এখানকার বিবাদমান দুটি গ্রুপের মধ্যে প্রায় প্রতিদিনই ঘটছে কোন না কোন অপ্রীতিকর ঘটনা। আর সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই গতকাল ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের বিবাদমান দুই গ্রুপের মাঝে রক্তক্ষয়ি সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়েছে। এসময় ক্যাম্পাসে প্রকাশ্যে অবৈধ অস্ত্র প্রদর্শনের পাশাপাশি তিন রাউন্ড গুলি করেছে তারা।
গতকাল বুধবার দুপুর আড়াইটার দিকে ছাত্রলীগের সংঘর্ষে আহত হয়েছে উভয় পক্ষের ৭ জন। এর মধ্যে ৫ জনকে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সংঘর্ষের পর থেকে বিএম কলেজ ক্যাম্পাস এখনো উত্তপ্ত রয়েছে। একেক সময় একেক পক্ষ ক্যাম্পাসে সশস্ত্র মহড়া দিচ্ছে। যে কারনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে চরম উৎকন্ঠা বিরাজ করছে।
এদিকে পুলিশের পক্ষ থেকে দাবী করা হয়েছে ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হলেও কোন প্রকার গুলির ঘটনা ঘটেনি। তাছাড়া পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রনে রয়েছে।
অপর দিকে সংঘর্ষের ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। গতকাল বিকেল চারটার দিকে বিএম কলেজ স্টাফ কাউন্সিলে জরুরী সভার মাধ্যমে ৫ সদস্য বিশিষ্ট এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক মো. ইউনুসকে প্রধান করে গঠিত কমিটিতে সদস্য হিসেবে রয়েছে শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক এস.এম কাইয়ুম উদ্দিন, হোস্টেল সুপার রফিকুল ইসলাম, বেল্লাল হোসেন এবং শাহ সাজেদা। আগামী ৩ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার জন্য কমিটিকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কলেজ অধ্যক্ষ স.ম ইমানুল হাকিম।
প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীরা জানায়, গতকাল কলেজের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের একটি স্মরনিকা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী অবৈধ ছাত্র কর্মপরিষদের কথিত ভিপি মঈন তুষার সমর্থক, রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ও ফ্লাইট সার্জেন্ট ফজলুল হক ডিগ্রী হোস্টেলের ৩০৩ নম্বর কক্ষের বাসিন্দা মাকছুদুর রহমান মুবিন এক ছাত্রীকে ইভটিজিং করে। এ অপরাধে তাকে মারধর করে অবৈধ ছাত্র কর্ম পরিষদের কথিত জিএস নাহিদ সেরনিয়াবাত এবং তার সহযোগী ফয়সাল আহম্মেদ মুন্না সহ তাদের সমর্থকরা।
খবর পেয়ে তুষার সমর্থক বহিরাগত ছাত্রলীগ নামধারী ক্যাডার পাসপোর্ট সোহাগ, সাঈদ ওরফে চুশনি সাঈদ, মিঠু এবং হাসান সহ ২৫/৩০ জন মিলে নাহিদ এবং মুন্না বাহিনীর উপর হামলা চালায়। এসময় দুই গ্রুপের মধ্যে ধারালো অস্ত্র নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ এবং ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। সংঘর্ষ চলাকালে তুষার সমর্থক ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা ক্যাম্পাস থেকে মিছিল নিয়ে বের হলে নাহিদ এবং মুন্না তাদের সাথে থাকা অবৈধ অস্ত্র দিয়ে তিন রাউন গুলি করে পালিয়ে যায় বলে দাবী করেছেন তুষার গ্রুপ।
তবে গুলি করার বিষয়টি ভিত্তিহীন দাবী করে নাহিদ সেরনিয়াবাত মুঠোফোনে অভিযোগ করেন কথিত ছাত্রলীগ নেতা মঈন তুষার এবং তার বহিরাগত ক্যাডাররা ক্যাম্পাসে ঢুকে অবৈধ আগ্নেয় অস্ত্র প্রদর্শন করে। এসময় তারা সাধারণ শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে তিন রাউন্ড গুলি করে পালিয়ে যায়।
এদিকে দুই গ্রুপের মাঝে সংঘর্ষের সময় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে উভয় পক্ষের ৭ জন আহত হয়েছে। আহতরা হলো নাহিদ গ্রুপের ফয়সাল আহম্মেদ মুন্না, ইমরান, জামান, রিমন, সোহেল অপর গ্রুপের মুবিন এবং মিরাজ। এর মধ্যে মুন্না এবং ইমরান ছাড়া বাকি ৫ জনকে শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
জানতে চাইলে কোতয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাখাওয়াত হোসেন বলেন, দুপুরে ছাত্রলীগের মঈন তুষার এবং নাহিদ সেরনিয়াবাত গ্রুপের মাঝে সংষর্ঘ হয়েছে। বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার আগেই আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে এনেছি। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রনে রয়েছে। তাছাড়া ক্যাম্পাসে কোন প্রকার গুলির ঘটনা ঘটেনি বলে দাবী করে ওসি বলেন, পরবর্তী কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ক্যাম্পাসে অতিরিক্তি পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে।
কলেজ অধ্যক্ষ অধ্যাপক স.ম. ইমানুল হাকিম বলেন, আমি শুনেছি বহিরাগতরা ক্যাম্পাসে ছাত্রদের সাথে ঝামেলা করেছে। এ নিয়ে বিকাল চারটায় কলেজ প্রশাসনিক ভবনের সভা কক্ষে স্টাফ কাউন্সিলে এক জরুরী সভা করেছেন তারা। এসময় ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং দোষিদের চিহ্নিত করতে ৫ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করে দিয়েছেন। আগামী তিন দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার জন্য তদন্ত কমিটিকে নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানান অধ্যক্ষ। এর পাশাপাশি ক্যাম্পাস এবং ছাত্রাবাসে বহিরাগতদের আগমন বন্ধ করতে সংশ্লিষ্ট হোটেল সুপারদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।