২৩ নং ওয়ার্ডে এনামুল হক বাহার নির্বাচিত

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ প্রশাসনের কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে কোন প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শেষ হয়েছে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের ২৩ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে উপ-নির্বাচন। গতকাল বুধবার সকাল থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত উপ-নির্বাচনে ৩ হাজার ১৫০ ভোট পেয়ে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন ঘুড়ি প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করা যুবলীগ কর্মী এনামুল হক বাহার। পাশাপাশি এ নির্বাচনে সর্বনি¤œ ভোট পাওয়ায় জামানত হারাচ্ছেন ৩ প্রার্থী। তারা সর্বনি¤œ ৩ ভোট থেকে সর্বোচ্চ ৪৮ ভোট পেয়েছেন। এরা হলেন- নুরুল ইসলাম, শেখ জিয়াউর রহমান এবং মো. শামীম।
এদিকে প্রশাসনের নজীর বিহিন নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে দিয়ে ভোট গ্রহন সম্পন্ন হলেও পরাজিত প্রার্থীদের পক্ষ থেকে অভিযোগ থেকেই গেলো। তাদের অভিযোগ বিজয়ী প্রার্থীদের ভয়ে তিন এর একাংশ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেননি।
এদিকে ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী গতকাল বুধবার সকাল ৮টা থেকে বিসিসি’র ২৩ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে উপ-নির্বাচনের ভোট গ্রহন শুরু হয়। প্রশাসনের পাঁচ স্তরের নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে কোন প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা কিংবা কারচুপির অভিযোগ ছাড়াই শান্তিপূর্ণ ভাবে ভোট উৎসব সম্পন্ন হয়। অবাধ, সুষ্ঠু এবং শান্তিপূর্ণ ভোট উৎসবের লক্ষ্যে এবং অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ২৩ নং ওয়ার্ডের আওতাধীন ৫টি কেন্দ্র এবং আশেপাশের এলাকায় র‌্যাব, পুলিশ, বিজিবি, আর্মড পুলিশ এবং আনসার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি প্রত্যেকটি কেন্দ্রে একজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং একজন করে সহকারী পুলিশ কমিশনার দায়িত্বে ছিলেন। যে কারনে কোন প্রকার বাঁধা বিপত্তি এবং আশংকা ছাড়াই ভোটারদের উপস্থিতিতে নির্বাচন সম্পন্ন হয়।
বিকাল ৪টায় ভোট গ্রহন শেষ হবার পর পরই স্ব-স্ব কেন্দ্রে প্রার্থী এবং তাদের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে ভোট গ্রহন শুরু হয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার মধ্যেই শেষ হয় ভোট গননা। এমনকি ৭টা বাজার আগেই বেসরকারীভাবে ঘোষনা করা হয় বিজয়ী প্রার্থীর নাম।
ভোটের ফলাফলে ঘুড়ি প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহন করা প্রার্থী যুবলীগ কর্মী এনামুল হক বাহার ৩ হাজার ১৫০ ভোটের বিশাল ব্যবধানে জয়লাভ করেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক এড. জিএম আক্তার হোসেন রিপন টিফিন ক্যারিয়ার প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১ হাজার ৪৬৫ ভোট।
এছাড়া বাকি ৬ জন প্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যে পর্যায়ক্রমে আলতাফ হোসেন রেডিও প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৭৭৯, আমীর হোসেন মিঠু লাটিম প্রতীক নিয়ে ৯৪০, লুৎফর রহমান ঠেলাগাড়ি প্রতীক নিয়ে ৬৫৭, নুরুল ইসলাম ট্রাক্টর প্রতীক নিয়ে ৪৮, শেখ জিয়াউর রহমান ব্যাডমিন্টন প্রতীক নিয়ে ৫ ও মো. শামীম ৩ ভোট পেয়ে পরাজিত হয়েছেন।
সদর উপজেলার নির্বাচন অফিসার আব্দুল মান্নান জানান, ওয়ার্ডের মোট ভোটার ছিল ১১ হাজার ২৩৫। এর মধ্যে ৭ হাজার ৮৮ জন ভোট দিয়েছেন। সব মিলিয়ে ৪ হাজার ১৪৭ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেনি। ৫টি কেন্দ্রে এদের ভোট গ্রহন করা হয়। তাছাড়া নিয়ম অনুযায়ী ভোট না পাওয়ায় ৪৮ ভোট পাওয়া নুরুল ইসলাম ৫ ভোট পাওয়া শেখ জিয়াউর রহমান এবং ৩ ভোট পাওয়া মো. শামীম তাদের জামানত হারাবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।