২০২১ সালে ২৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে – প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যামে বরিশাল নগরীর রূপাতলীতে থাকা সামিট গ্রুপের ১১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উদ্বোধন করলেন প্রধামন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল বুধবার দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে এর উদ্বোধন করা হয়। ভিডিও কনফারেন্সে উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ২০২১ সালে ২৪ হাজার, ২০৩১ সালে ৪৩ হাজার ও ৪১ সালে ৬০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজ সম্পূর্ন করা হবে। আমরা ৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পূর্বে বিদ্যুৎ নিয়ে দেশে হাহাকার ছিলো। আমরা ক্ষমতায় এসে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য সরকারী-বেসরকারীভাবে বিভিন্ন প্রকল্পের কাজে হাত দিয়েছিলাম। পরবর্তীতে বিএনপি-জামাত জোট সরকার ক্ষমতায় এসে বিএনপি নেত্রীর ছেলে বিদ্যুৎ এর নামে দিয়েছিল খাম্বা। আর হাত্তয়া ভবনে বসে দুর্নীতি, লুটপাট করা ছাড়া আর কিছুই দিতে পারেনি। আজ দেশের ৮০ ভাগ মানুষ বিদ্যুতের সুবিধা ভোগ করছেন।
প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, আমরা ২০১৭ সালের জানুয়ারী মাস পর্যন্ত ১৫ হাজার ৩৫১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছি। এছাড়া সরকার আরো কয়েকটি তেল ও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মানের কাজ করছে। যাতে দেশের মানুষ সুফল পায়।ভিডিও কনফারেন্স শেষে জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে রক্ষিত ফলক উম্মোচন করেন বিভাগীয় কমিশনার মোঃ গাউস। বরিশাল বিদ্যুৎ বিভাগ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানী খনিজ সম্পদ মন্ত্রালয়ের আয়োজনে সামিট ১১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ডিআইজি শেখ মো. মারুফ হাসান, পুলিশ কমিশনার এসএম রুহুল আমিন, পুলিশ সুপার এসএম আক্তারুজ্জামান ও সামিট বরিশাল অঞ্চলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক লে. জেনারেল (অব.) আবদুল ওয়াদুদ, সাবেক এমডি তৌহিদুল ইসলাম এবং পিডিবি’র চেয়ারম্যান সহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক ড. গাজী মোঃ সাইফুজ্জামান।
এদিকে নগরীর রূপাতলী এলাকার ২৫নং ওয়ার্ডে কীর্তনখোলা নদীর তীর ঘেষা সামিট বরিশাল পাওয়ার লিমিটেডের ক্যাপ্টেন এএসএম ফেরদৌস বলেন, বর্তমান সরকারের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়ে ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরের দিকে সামিট বরিশাল পাওয়ার লিমিটেড এর উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু হয়। প্রায় ১৪ একর জমিতে গড়ে ওঠা সামিট বরিশাল পাওয়ার লিমিটেডের কার্যক্রম শেষ করার সময় বেধে দেয়া হয়েছিলো মাত্র ১৫ মাস। সে অনুযায়ী দেশী এবং বিদেশী ৪টি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় মাত্র ৯ মাসের মধ্যেই বিদ্যুৎ উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করতে সক্ষম হয় সামিট পাওয়ার লিমিটেড। আর তাই ২০১৬ সালের ৩০ এপ্রিল থেকেই সামিট বরিশাল পাওয়ারে ১২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়। এএসএম ফেরদৌস আরো বলেন, ব্যয়বহুল পাওয়ার স্টেশনে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য অত্যাধুনিক ক্ষমতা সম্পন্ন ৭টি জেনারেটর রয়েছে। এক একটি জেনারেটরে প্রতিদিন ১৮ দশমিক ৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। একই সাথে ৭টি জেনারেটরে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য জন্য প্রতিদিন প্রায় ৬০ লাখ টাকার ফার্নেস অয়েল প্রয়োজন হচ্ছে। যা সামিট এর নিজস্ব নৌযানের মাধ্যমে সরবরাহ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, সামিট পাওয়ার লিমিটেড এর বরিশালের প্রকল্প কার্যালয়ে তিনটি ভবন ছাড়াও ফার্নেস অয়েল রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ২টি বিশাল আয়োজনের সেন্ট্রাল ট্যাংকি রয়েছে। সার্বক্ষনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার সাথে সিসিটিভি ক্যামেরার পাশাপাশি নিজস্ব চৌকস নিরাপত্তা বাহিনীও রয়েছে। অত্যাধুনিক মানের অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের পাশাপাশি রয়েছে দক্ষ টেকনিশিয়ান এবং প্রকৌশলী। তবে বিদ্যুৎ উদপাদন কার্যক্রম বহু আগে শেষ হলেও এখানকার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসন ব্যবস্থার জন্য বহুতল ভবন নির্মান কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ক্যাপ্টেন এএসএম ফেরদৌস বলেন, সরকার চাইলে ভবিষ্যতে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমা আরো বৃদ্ধি করার ব্যবস্থা করে রাখা হয়েছে। অবশ্য এজন্য নতুন পাওয়ার স্টেশন করতে হবে। তিনি বলেন, বর্তমানে তারা যে ১২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করছেন তা নগরীর রূপাতলী এলাকার পাওয়ার গ্রীডে ক্যাবলের মাধ্যমে সরবরাহ করা হচ্ছে। সেখান থেকে সামিটের উৎপাদিত বিদ্যুৎ সরাসরি চলে যাচ্ছে জাতীয় গ্রিডে। সেখান থেকেই প্রয়োজন অনুসারে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুৎ সরবরাহ দেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি। ভিডিও কনফারেন্সে’র মাধ্যমে সামিট বরিশাল পাওয়ার সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ৪টি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষনা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।