১০ শিবির নেতাকর্মী আটকে ডিবি হাঁস কোতয়ালী থানা বাগডাস

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ ডিম পাড়ে হাসে, খায় বাগডাসে। গতকাল শুক্রবার এই প্রবাদের একটি মিল খুঁজে পাওয়া গেছে। মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ তথ্য সংগ্রহসহ ১০ শিবির কর্মীকে আটক করে। কিন্তু তারা হাসে পরিনত হয়ছে। ফল বাগডাসের মতো নিয়েছে কোতয়ালী পুলিশ। এমনই তথ্য পাওয়া গেছে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে।  কৌশলে শিবির আটকের সব সফলতা কোতয়ালী থানা নিলেও ডিবি পুলিশ সদস্যরা উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ভয়ে কিছু বলার সাহস পায়নি।
কোতয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাখাওয়াত হোসেন সাংবাদিকদের জানান, একদিকে ইসলামকে কটুক্তি করে আব্দুল লতিফ সিদ্দিকির বক্তব্য এবং অন্যদিকে জামায়াত ইসলামের সাবেক আমির গোলাম আজমের মৃত্যু। এ দুটি ইস্যুকে কেন্দ্র করে নগরীতে নাশকতার পরিকল্পনায় নগরীর রূপাতলী এলাকার কাঠালতলায় মিজানুর রহমানের মেসে গোপন সভা করছিলো জামায়াত-শিবির নেতা-কর্মীরা। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পেয়ে তারা ওই মেসে বাড়িতে অভিযান চালায়। এ সময় বাইরে থেকে তালাবদ্ধ মেসের মধ্যে থেকে ১০ শিবির কর্মীকে আটক করা হয়। একই সাথে মেস থেকে উদ্ধার করা হয় বিপুল সংখ্যক জিহাদী বই ও চাঁদা আদায়ের খাতা। ওসি শাখাওয়াত হোসেনের নেতৃত্বে আটককৃত শিবির কর্মীদের মধ্যে ৬ জন বরিশাল বিশ্ব বিদ্যালয়ের, ২জন ব্রজমোহন বিশ্ব বিদ্যালয় (বিএম) কলেজ ও দু’জন বরিশাল টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের ছাত্র।
এরা হলেন, বরিশাল বিশ্ব বিদ্যালয়ের শিবির কর্মী জসিম উদ্দিন (১৮), হাফিজুর রহমান (১৮), আসাদুজ্জামান (১৮), শাহরিয়ার ইসলাম (২০), রুবেল হোসাইন (২০) ও তুহিন হোসেন (২০)। বিএম কলেজের তাকদির হোসাইন (২১) ও শাহীন (২১)। এছাড়া টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের রাজগুল (১৯) ও মাহবুব আলম (১৫)। আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলে জানান ওসি শাখাওয়াত।
এদিকে নিজেদের পক্ষে সাফাই গেয়ে মডেল থানার ওসি শাখাওয়াত হোসেন সাংবাদিকদের এসব কথা জানালেও পাওয়া গেছে হাঁস এবং বাগডাসের সু-পরিচিত সেই প্রবাদের ন্যায় কিছু তথ্য।
মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শর্তে জানান, কোতয়ালী মডেল থানার ওসি যে সফলতা তাদের বলে দাবী করছেন তা সম্পূর্ন ভিত্তিহীন। কেননা শিবির কর্মী আটক এবং জেহাদী বই উদ্ধারের সকল অবদান ডিবি পুলিশের।
ওই কর্মকর্তা জানান, অভিযানের একদিন আগে থেকে আমাদের কাছে তথ্য ছিলো যে শুক্রবার রূপাতলী কাঠাল তলায় ঐ মেস বাড়িতে জামায়াত শিবিরের গোপন বৈঠক হবে। পূর্ব তথ্য অনুযায়ী শুক্রবার ঐ ডিবি কর্মকর্তা সহ ২/৩ জন মিলে মেসের আশপাশে অবস্থান নেয়। এ সময় মডেল থানা পুলিশের টহল টিমের সহায়তা নেন তারা। ডিবি’র ওই কর্মকর্তা আরো জানায়, থানা পুলিশ দরজায় তালা এবং স্থানীয়দের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে ফিরে আসার জন্য রওনা দেয়। তখন ডিবির কর্মকর্তা দরজার নিচে ১০ মিনিট নাক পেতে  ঘ্রান নিয়ে ভেতরে শিবির কর্মীদের অবস্থান নিশ্চিত করে।
অবশেষে অবস্থানকারী ডিবি পুলিশের সহযোগিতায় মডেল থানার  সদস্যরা শিবির কর্মীদের আটক করে। পরে থানার ওসি এবং সেকেন্ড অফিসার ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের আটক করে থানায় নিয়ে আসে। সেই সাথে ডিবি’র কথা ভুলে গিয়ে ওসি শাখাওয়াত কেড়ে নেন সকল সফলতা। তারা উপ-পুলিশ কমিশনার (সাউথ) মোঃ আব্দুর রউফ এর কাছেও নিজেদের সফতলার কথা প্রকাশ করেন।
ডিবি পুলিশের অফিসার বলেন, থানায় এসে ওসি এবং অন্যান্য অফিসারদের কর্মকান্ড দেখে বেশ হতবাক তারা। কিন্তু উর্ধ্বতন অফিসারদের ভয়ে কিছু না বলে মুখ বুঝে থানা থেকে চলে এসেছেন।
থানা পুলিশের দাবী তথ্য তাদের। সহযোগিতা করেছে ডিবি পুলিশের দু-একজন অফিসার।