হিজলায় ৬ দিনে ৪৪ জেলের জরিমানা

হিজলা প্রতিবেদক॥ হিজলা উপজেলার মেঘনা নদীতে মা ইলিশ রক্ষার অভিযান চালিয়ে গত ৬দিনে সরকারের আইন অমান্য করে মা ইলিশ ধরার অপরাধে ৪৪ জেলেকে আটক করেছে এবং ২ লক্ষ ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায়। ৪৪ জেলের মধ্যে ৩ জনকে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে ৩ মাস সশ্রম কারাদন্ড আর বাকী ৪১ জনকে ৫ হাজার টাকা অনাদায়ে ১মাস কারাদন্ড দিয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোবাইল কোর্টের আওতায় এই সাজা প্রদান করেন। এছাড়াও জাল পোড়ানো হয়েছে ৩৫ হাজার মিটার যার মূল্য প্রায় ৮ লক্ষ টাকা। বরফের ক্যান ধ্বংস করা হয়েছে ৪১০ পিচ। বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে বরফ কলের বিদ্যুৎ সংযোগ। এমনকি সিলগালা করা হয়েছে বরফ কলগুলো। সরকারি আইন অনুযায়ী গত ৫ই অক্টোবর থেকে ১৫ ই অক্টোবর পর্যন্ত মাছ আহরন, বিপনন ও সংরক্ষনকে উপেক্ষা করে জেলেরা মেঘনা নদীতে মাছ ধরায় এ শাস্তি দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের কঠোরতা উপেক্ষা করেও ইতিমধ্যে অনেক অসাধু মাছ ব্যবসায়ীরা শত শত বরফ ক্যান জমা করে। বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে প্রশাসন ৪১০টি ক্যান ইতিমধ্যে ধ্বংস করলেও বিভিন্ন সূত্রে জানা যায় হিজলা গৌরবদী, মেমানিয়া,  হরিনাথপুর ও ধুলখোলা বিভিন্ন বাগানে রয়েছে অসংখ্য বরফের ক্যান। যার পিছনে ছুটে বেড়াচ্ছে উপজেলা প্রশাসন। হিজলা উপজেলার মেঘনার মা ইলিশ রক্ষার অভিযানে অংশগ্রহন করছেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ওয়াহেদুজ্জামান, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা অলোক কুমার সাহা, হিজলা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা এনামুল হক, সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা লুৎফর রহমান, জসিম উদ্দিনসহ আরও কয়েকজন। প্রশাসনের পাশাপাশি ধুলখোলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন মাতুব্বর জেলে সমিতি সহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ নিয়ে ধুলখোলার  মেঘনা নদীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে জেলে ও জাল আটক করে প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করেছে।  যদি প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এভাবে জাতীয় মৎস্য সম্পদকে রক্ষার জন্য সোচ্চার হয়ে কাজ করে তাহলে হিজলা মেঘনায় কখনই জেলে ও অসাধু ব্যবসায়ীরা মা ইলিশ ধ্বংস করতে পারবেনা। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মীর আব্দুল আউয়ালের কাছে অভিযান সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন সামনের দিনগুলোতে আরও কঠোর অভিযান চালানো হবে এমনকি যদি ব্যবসায়ী মাছ মজুদ করে তাদেরকে গ্রেফতার করা হবে।