হায় হায় কোম্পানীর কর্মকর্তা পালানোর সময় আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ নগরীতে চাকুরী দেয়ার প্রলোভনে অর্ধশতাধিক গ্রাহকের প্রায় কোটি টাকা আত্মসাত করে পালিয়েছে এনআরবি গ্লোবাল কোম্পানি নামের একটি হায়হায় এনজিও প্রতিষ্ঠান। এ ঘটনায় হায়হায় কোম্পানির বরিশাল অফিস থেকে মালামাল নিয়ে পালাবার সময় কোম্পানির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম নামে এক প্রতারককে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল সোমবার সকাল পৌনে ১১টার দিকে নগরীর করিম কুটির এনজিও অফিসের সামনে থেকে তাকে আটক করা হয়। তবে গতকাল রাত পর্যন্ত আটককৃত প্রতারক শফিকুল ইসলামকে আদালতের কাছে সোপর্দ করেনি থানা পুলিশ। এই ঘটনায় প্রতারিত গ্রাহকরা মামলার প্রস্তুতি নিয়েছেন।
নগরীর ফকিরবাড়ি রোডের বাসিন্দা ফারজানা হক নামের এক প্রতারিত গ্রাহক জানান, এনআরবি গ্লোবাল নামে একটি এনজিও প্রতিষ্ঠানের শাখা অফিস খোলা হয় নগরীর করিম কুটির এলাকার ভাড়া বাড়িতে। এ শাখা অফিসটির প্রধান অফিস ঢাকায় অবস্থিত বলে গ্রাহকদের জানানো হয়।
ফারজানা হক আরো জানান, কোম্পানির জেনারেল ম্যানেজার তসলিমা তার স্বামী হাবিব সরদার, উন্নয়ন বিভাগের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মতিউর শেখ, সহকারী ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু মুছা সিদ্দিকি, আক্তার হোসেন দিদার এবং ঢাকা প্রধান কার্যালয়ের সহকারী ব্যবস্থাপনা পরিচালক সুমি সহ অন্যান্যরা বিভিন্ন বেসরকারী এনজিও এবং কোম্পানিতে ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকা বেতনে ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার ও সহকারী জেনারেল ম্যানেজার পদে চাকুরী দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বরিশালের প্রায় ৫০ জন গ্রাহকের কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা করে হাতিয়ে নেয়। এর মধ্যে ফারজানার পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকেই চাকুরীর প্রলোভন দেখিয়ে সাড়ে ৩ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়।
এদিকে টাকা হাতিয়ে নেয়ার কয়েক দিন পরেই নিরুদ্দেশ হয়ে যায় হায়হায় কোম্পানির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তবে হঠাৎ করেই গতকাল সকালে এনআরবি গ্লোবাল কোম্পানির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম নগরীর করিমকুটির ভাড়া অফিস থেকে তাদের মালামাল নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এসময় গ্রাহকরা খবর পেয়ে তাকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। এই ঘটনায় তিনি মামলা করবেন বলেও জানান ফারজানা।
শুধু ফারজানা নয়, তারমতো আরো একাধিক গ্রাহক তাদের পরিশ্রম এবং ঘামঝড়ানো টাকা ফেরত পেতে এনআরবি গ্লোবাল কোম্পানির নামের হায়হায় কোম্পানির প্রতারকদের বিচারের পাশাপাশি তাদের টাকা ফেরত পেতে প্রশাসনের নিকট আকুতি জানিয়েছেন।