হায়রে র‌্যাফেল ড্র

সাইদ মেমন॥ বর্তমানে নগরীর বাসিন্দারা র‌্যাফেল ড্র ভাইরাসে আক্রাক্ত। নগরীর চায়ের দোকান থেকে শুরু করে যেখানে লোকজন জড়ো হয়, সেখানে র‌্যাফেল ড্র, এর গল্প শুরু হয়। আলোচনা-সমালোচনার ডাল-পালা ছড়াতে ছড়াতে এখন হয়রানিতে রূপ নিয়েছে। পুরস্কারের আশায় প্রায় প্রতিদিন টিকিট ক্রেতাদের নিয়ে মজার হয়রানিতে মেতে উঠছে কিছু আমোদ প্রিয় বাসিন্দারা। আমোদ প্রিয়দের মজার হয়রানি যে কোন সময় ভয়ংকর রূপ নেয়ার আশংকা করছেন সচেতন শান্তি প্রিয়রা। এমনিতে হাস্য রসের খোরাক হয়ে বিব্রত পরিস্থিতির মুখে পড়ায় নাম পরিচয় গোপন রাখা এই ব্যবসায়ী গতকাল রোববার পড়েন মজার হয়রানিতে। ওই ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীর মুখ থেকে জানা গেল, সকালে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নম্বরে একটি কল আসে, অপর প্রান্ত থেকে তাকে জানানো হয় যে, তিনি র‌্যাফেল ড্রতে স্বর্নালংকার পেয়েছেন। র‌্যাফেল ড্র’র টিকেটের পিছনে লেখা বলায় বিশ্বাস করেছেন জানিয়ে ব্যবসায়ী বলেন, আমি ব্যবসার হিসেব নিকাশ ফেলে রেখে পরিবারকে খবরটি জানিয়ে দ্রুত মেলার মাঠে যাই। পরিবারের সদস্যরাও মোটর সাইকেল ও অটোতে সেখানে আসে। কিন্তু মেলায় গিয়ে জানতে পারেন দুর্যোগপূর্ন আবহাওয়ায় শনিবার রাতে র‌্যাফেল ড্র হয়নি। রাগে ক্ষোভে সে নম্বর থেকে ফোন করে জানানো হয়েছিল সেখানে কল করেন। সেই নম্বর বন্ধ থাকায় কোন বিপর্যয় হয়নি। খোলা থাকলে যে ভাষার দূষন কতটা ভয়াবহ পর্যায়ে যেতো তা ওই ব্যবসায়ী নিশ্চিত করে বলতে পারেননি। এরপর এলাকায় এসে যখন সকলের হাস্য রসের মুখে পড়েন, তখন তো ক্ষোভে ফেটে পড়েন ওই ব্যবসায়ী। তিনি তখন হন্যে হযে ফোন করা ব্যক্তিকে খুজতে শুরু করেন। তাকে চিহ্নিত করতে পারলে ভয়ংকর কোন ঘটনা ঘটতো তা নিশ্চিত করে বলল এলাকাবাসী। শুধু ওই ব্যবসায়ী নয়, এর আগের দিন ওই এলাকায় আরো একজনকে একইভাবে মজার হয়রানির হাসির খোরাক হতে হয়েছে। এই ঘটনা শুনে সদর রোড এসে বৃষ্টির জন্য এটি ফাস্টফুডের দোকানে আশ্রয় নেই। সেখানে আরো অন্তত ৫/৬ জন ভদ্রলোক ছিলেন। দীর্ঘসময় বৃস্টি হওয়ায় এলোমেলোভাবে আলাপ আলোচনায় চলে আসে র‌্যাফেল ড্র। তখন এলোমেলো নয়, সকলেই চলে গেলো র‌্যাফেল ড্র’র আলোচনায়। সেখানে উঠে এলো র‌্যাফেল ড্র নিয়ে ঘটে যাওয়া নানা ঘটনা। এসব ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করতে পারেনি কেউই। ফাস্টফুডের দোকানি কর্মচারী আরিফ বললেন, এক নারী নাকি র‌্যাফেল ড্র’র পুরস্কারের আশায় বেসরকারি সংস্থা থেকে ঋন করেছেন। একজন জানালো ৫ হাজার টাকা। কিন্তু আরিফ বলল না, ৫ হাজার নয়। ওই নারী ৩৫ হাজার টাকা ঋণ উত্তোলন করেন। পরে সেই টাকা দিয়ে র‌্যাফেল ড্র’র টিকেট কিনেছেন, কিন্তু তিনি কোন পুরস্কার পাননি। এ নিয়ে ওই নারীর পরিবারে বর্তমানে কলহ চলছে। অনুসন্ধান করে জানা গেছে। গত প্রায় দেড়মাস ধরে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় আনন্দ মেলার নামে চলা যাত্রা, জুয়ার সাথে চলছে র‌্যাফেল ড্র’। জোনাকী, রূপসী বাংলা ও বর্তমানে দৈনিক সবুজ বাংলা র‌্যাফেল ড্র। কিছুদিন পূর্বে নগরবাসীর কাছে ১৬ লাখ টাকার র‌্যাফেল ড্র’র টিকেট বিক্রি করে পরে ড্র’ করেনি। এমনকি টাকা ফেরত না দিয়ে ১৬ লাখ টাকা আত্মসাত করে পালিয়েছে রূপসী বাংলা র‌্যাফেল ড্র’ কর্তৃপক্ষ। সচেতন বাসিন্দারা জানালো, এক ভিক্ষুক দিনভর ভিক্ষে করে পাওয়া টাকায় র‌্যাফেল ড্র’র টিকেট ক্রয় করেছে। রূপসী বাংলা নামে র‌্যাফেল ড্র কর্তৃপক্ষ তাদের ১৬ লাখ টাকা নিয়ে পালিয়ে গেলেও মেলার আয়োজক বা নগরীর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এমনকি প্রশাসন নিশ্চুপ রয়েছে। শনিবার র‌্যাফের ড্র’ না করে গতকাল রোববার টিকেট বিক্রি করতে গিয়ে নগরীর নাজির মহল্লা ও ভাটারখাল এলাকায় বিক্ষুব্ধদের রোষানলে পরে ধোলাইয়ের শিকার হতে হয়েছে বিক্রেতাদের। পৃথিবীর মধ্যে অন্যতম আশ্চর্যজনক বাস্তব ঘটনা ঘটা এই দেশে এমনভাবে প্রতারনা বা নিষিদ্ধ ঘটনা প্রকাশ্যে ঘটবে। তা প্রতিরোধে কোন ব্যবস্থা থাকবে না। কিন্তু প্রতারনা রক্ষায় থাকবে প্রশাসন ও আইন শৃংখলা বাহিনী।