হামলা-সংর্ঘষে আহত-১০ সর্বোচ্চ আদালত থেকে নির্দেশনা পেলেও দখল নিতে পারছে না খান সন্স গ্রুপ

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ সর্বোচ্চ আদালত থেকে জমি বুঝে পেলেও তা দখল নিতে পারছে না খান সন্স গ্রুপ। এমনকি আদালতের রায় মেনে নিয়ে নগরের ব্যাপ্টিস্ট মিশন রোডে মা ও শিশু বিশেষায়িত হাসপাতালের জন্য নির্ধারিত জমি ছেড়ে দিতে খ্রিষ্টানদের একাংশ রাজি হলেও অপর অংশ তাদের বাধা দিচ্ছে। গতকাল শুক্রবার খ্রিষ্টানদের একাংশের ছেড়ে দেয়া জমিতে নিজস্ব লোক উঠাতে গিয়ে অবৈধ দখলদারদের হামলার শিকার হয়েছেন খান সন্স এর পক্ষের বেশ কয়েকজন লোক। তখন এ নিয়ে দুই গ্রুপের মাঝে দফায় দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে খবর পেয়ে কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। সেই সঙ্গে ঐ স্থানে মোতায়েন করা হয় বিপুল সংখ্যক পুলিশ।
বরিশাল মেট্রোপলিন কোতয়ালী মডেল থানার দায়িত্বে থাকা সহকারি পুলিশ কমিশনার মো. আজাদ রহমান জানান, নগরের ১১নং ওয়ার্ডে গীর্জা সংলগ্ন খ্রিষ্টান কলোনীর জমি নিয়ে খান সন্স এর সাথে খ্রিষ্টানদের একাংশের বিরোধ চলে আসছে। খান সন্স এর দাবী আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শুক্রবার সকালে তারা খ্রিষ্টান কলোনীর জমিতে থাকা ঘরে তাদের নিজস্ব লোক উঠাতে চায়। এসময় কথা কটাকাটি থেকে হাতাহাতির সৃষ্টি হয়।
খান সন্স গ্রুপের ‘অলিম্পিক প্রোপার্টিজ লিমিটেড’ এর ব্যবস্থাপক তাজরিন জামান রানা জানান, মা ও শিশুদের জন্য একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাপ্টিষ্ট চার্চ সংঘের কাছ থেকে আড়াই একর জমি ক্রয় করেন তারা। ২০১২ সালে জমিটি বুঝে নিতে গেলে তখন সেখানে অবৈধভাবে বসবাসকারী এবং বহিরাগত একটি চক্র তাদের বাধা দেয়।
পরবর্তীতে সব ধরনের আইনী জটিলতা এবং নিয়ম মেনে নেন তারা। এমনকি চলতি বছরের ২ ফেব্রুয়ারি সর্বোচ্চ আদালত থেকে খান সন্সের পক্ষে জমির মালিকানা বুঝে পান তারা।
তিনি বলেন, খ্রিষ্টান কলোনীর অধিকাংশ পরিবার তাদের পক্ষে রয়েছে। আর তাই সেখানকার ৮টি পরিবারকে নগরের সোনামিয়ার পুল এলাকায় ৩ শতাংশ করে জমি কিনে পুনর্বাসন করে দিয়েছেন।
গতকাল শুক্রবার সকালে পরিবারগুলো কলোনীর ঘর খালি করে চলে যাওয়ায় সেখানে খান সন্স এর নিজস্ব লোকেদের উঠিয়ে দিতে যান। তখন কলোনীতে অবৈধ দখলদার ও বহিরাগত সন্ত্রাসীরা তাদের বাধা দেয়। এমনকি খান সন্স এর লোকদের উপর হামলা চালায় তারা। এতে তাদের পক্ষের জন বাড়ৈ, তার ভাই জ্যাকব বাড়ৈ এবং রবিন বাড়ৈ আহত হয়েছে।
বরিশাল ব্যাপ্টিস্ট চার্চ এর সম্পাদিকা মেরী জনসন বলেন, ২০০২ সাল থেকে গীর্জা সংলগ্নে ব্যাপ্টিস্ট চার্চ সংঘের ট্রাষ্টি জমিতে বসবাস করে আসছে ভূমিহীন খ্রিষ্টানরা। ২০১২ সালে জমির নিয়ন্ত্রনকারী প্রতিষ্ঠান ব্যাপ্টিস্ট চার্চ সংঘ গোপনে ২ একর ৫৩ শতাংশ জমি খান সন্স গ্রুপের অলেম্পিক প্রোপার্টিজ এর কাছে গোপনে বিক্রি করে দেয়। এ ঘটনায় ১৩/১২ দেয়ানি মামলা করেন তারা। মামলাটি এখনো বিচারাধীন রয়েছে। তার মধ্যে শুক্রবার খান সন্স গ্রুপের কর্মকর্তারা লোকজন নিয়ে বিরোধীয় জমি দখলের চেষ্টা করলে তারা বাধা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে খান সন্স এর পক্ষ নিয়ে খ্রিষ্টানদের একাংশের জন, জ্যাকব সহ বেশ কয়েকজন ভূমিহীন খ্রিষ্টানদের উপর হামলা চালায়। এতে রনজিৎ মল্লিক, মালা বিশ্বাস, জীবন বাড়ৈ, শোভা বালা ও রানু বালা সহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে।
ঘটনাস্থলে থাকা খান সন্স গ্রুপের জিএম আনসার আলী হাওলাদার সাংবাদিকদের জানান, মা ও শিশুদের জন্য একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাপ্টিষ্ট চার্চ সংঘের কাছ থেকে তারা জমিটি ক্রয় করেছেন। তাই খ্রিষ্টানদের একাংশ স্বেচ্ছায় জমি দখল মুক্ত করে দিতে যাচ্ছে। কিন্তু অপর পক্ষ এতে বাধা দিচ্ছে। তারা জমিটি জবর দখলের চেষ্টা করছে।
তিনি বলেন, খ্রিষ্টানদের একাংশ যে মামলাটি করেছে তা খ্রিষ্টানদের গীর্জা সহ মোট ২১ একর জমি নিয়ে। এর সাথে আড়াই একর জমির কোন সম্পর্ক নেই বলেও দাবী জানান তিনি।