হাতি দিয়ে প্রকাশ্যে চাঁদাবাজী

রুবেল খান ॥ বন্ধ হচ্ছে না হাতির চাঁদাবাজী। দোকান পাট এবং বাড়ি ঘরের পর এবার খোদ মহাসড়কে চাঁদাবাজিতে নেমে পড়েছে হাতি। মহাসড়কে চলন্ত বাস ও ট্রাক সহ যানবাহন থামিয়ে হাতি দিয়ে উঠানো হচ্ছে চাঁদার টাকা। এতে করে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশংকা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে হাতি দিয়ে প্রকাশ্যে চাঁদাবাজীর এমন চিত্র নজরে আসছে না প্রশাসনের।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হাতি নিয়ে চাঁদাবাজী অনেক পুরানো একটি পন্থা। তবে এই পন্থাকে অনেকে অভিনব হিসেবেই দেখছেন। বিভিন্ন সার্কাসে হাতি দিয়ে খেলা দেখানো হয়। সেই হাতি দিয়েই আবার দিনের বেলায় ভরপুর চাঁদাবাজী করেন সার্কাসের মালিক এবং হাতির মনীব।
হাতির চাঁদাবাজী একটা সময় কিছুটা সহনশীলতার মধ্যে ছিলো। কেননা তখন মানুষের ঘরে ঘরে গিয়ে ৫টাকা থেকে বিভিন্ন হারে চাঁদা আদায় করা হতো। এসময় টাকার পাশাপাশি চাল-ডালও দেয়া হতো হাতির খাবারের জন্য। তবে বর্তমান সময়ে হাতি ব্যবহার করে চাঁদাবাজি অনেকটা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এখন শুধুমাত্র বাসা বাড়িতেই নয় হাতি নিয়ে চাঁদাবাজী শুরু হয়েছে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং মহাসড়কে।
পিঠে চেপে বসে থাকা মনিব হাতি নিয়ে চাঁদা আদায় করছেন প্রকাশ্যে। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অসৎ উপায়ে আদায় করছেন হাজার হাজার টাকা। মানুষের খুশি মত নয়, মনিবের খুশি মত চাঁদার টাকা তুলছে হাতি। এতে করে ৫টাকা দিলে রেগে যাচ্ছে হাতি। তাকে থামাতে হলে দিতে হচ্ছে ২০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত। যতক্ষন পর্যন্ত চাঁদা আদায় না হচ্ছে ততক্ষন পর্যন্ত মনীবের অদৃশ্য ইশারায় দাঁড়িয়ে থাকছে হাতি।
সরেজমিনে দেখাগেছে, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি মহাসড়কে যানবাহন থেকে হাতি দিয়ে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার এমন চিত্র পরিবর্তনের চোখে ধরাপড়ে নগরীর কাশিপুর এবং গরিয়ার পাড় এলাকায়। ঐ দিন নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে শুরু করে গরিয়ারপাড় পর্যন্ত চলন্ত যানবাহন থেকে হাতি দিয়ে চাঁদা আদায় করা হয়েছে। দ্রুত গতিতে চালিয়ে আসা যাত্রীবাহি বাস এবং ট্রাক সহ অন্যান্য যানবাহনগুলো মহাসড়কের উপর দাড়িয়ে শূরের সাহায্যে গতিরোধ করে হাতি। পরে চালক এবং যাত্রীদের কাছ থেকে নির্দিষ্ট হারে চাঁদা আদায় করতে দেখা গেছে। এসময় যাত্রীরা আতংকে টাকা দিতে বাধ্য হয়েছে।
এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দক্ষিণাঞ্চলের মধ্যে একমাত্র বন্যহাতি পোষেন দি লক্ষ্মন দাস সার্কাস কর্তৃপক্ষ। দেশের বিভিন্ন স্থানে অনুষ্ঠিত সার্কাসে খেলা দেখিয়ে দর্শকদের বিনোদন দিচ্ছে লক্ষ্মন দাসের হাতি। তবে বর্তমান সময়ে সার্কাসের প্রচলন অনেকটা কমে গেছে। যে কারণে হাতির ভরন পোষনের যোগান দেয়াটা কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে দাবি লক্ষ্মন দাস সার্কাস মালিক পক্ষের। এজন্যই হাতির চাঁদাবাজীতে আদায় হওয়া টাকা দিয়েই হাতির ভরন পোষন করানো হচ্ছে এমনই দাবী জানিয়েছেন লক্ষ্মন দাস সার্কাসের হাতির লালন পালনকারী মনীব।
তিনি জানিয়েছেন, হাতি নিয়ে যে টাকা আদায় করেন তার সিংহভাগ চলে যাচ্ছে সার্কাসের মালিক পক্ষের পকেটে। বাকি টাকা দিয়ে হাতির ভরন পোষন হচ্ছে। যা থাকছে তা দিয়ে তারা (মনীব) নিজের সংসার চালাচ্ছেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, হাতির ভরন পোষনের নামে লক্ষ্মন দাস সার্কাস কর্তৃপক্ষ তাদের তিনটি হাতি দিয়ে প্রতিনিয়ত চাঁদাবাজি করাচ্ছে। এজন্য চাঁপ সৃষ্টি করছে হাতির মনীবের উপর। নির্দিষ্ট হারে চাঁদা উঠিয়ে না দিতে পারলে নির্যাতন করা হয় মনীবদের। তাই তো বাধ্য হয়ে হাতি নিয়ে বেপরোয়া চাঁদাবাজীতে নেমে পড়েছেন তারা।