হরিজন উৎসবে শ্রদ্ধা-শুভেচ্ছা আর্শিবাদে সিক্ত জেলা প্রশাসক

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ পরিচ্ছন্ন করি আমরাই, আমরা তাই সম্মান ও সমৃদ্ধি চাই এই স্লোগানে বর্নাঢ্য আয়োজনে প্রথম বারের মত অনুষ্ঠিত হল “বরিশাল হরিজন উৎসব”। নগরীর পরিচ্ছন্নতার কাজে নিয়োজিত হরিজন সম্প্রদায়ের মানুষদের নিয়ে জেলা প্রশাসক শহীদুল আলম গতকাল রোববার এই ভিন্নধর্মী অনুষ্ঠান করেছেন। এতে হরিজন সম্প্রদায়ের মধ্যে উৎসাহ ও উদ্দীপনা বিরাজ করেছে।
জেলা প্রশাসক মোঃ শহীদুল আলম জানান, সামাজিক উন্নয়নে হরিজন সম্প্রদায়ের লোকরা পরিচ্ছন্নতার কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তু দেখা গেছে শহর পরিষ্কার রাখার ক্ষেত্রে যে সম্প্রদায় এত বড় ভূমিকা রাখছে তাদেরকে কেউই মূল্যায়ন করছে না। তাই জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শহরের ৮টি জোনে বসবাসকারী প্রায় ৪০০ পরিবারের ১০০০ সদস্যদের নিয়ে এই আয়োজন করা হয়েছে।
উৎসবের অংশ হিসেবে ক্রীড়া প্রতিযোগীতায় সম্প্রদায়ের শিশু থেকে বৃদ্ধ বয়সী লোকেরা স্বতস্ফূর্ত অংশগ্রহন করেছে। এছাড়াও ৪টি ইভেন্টে এই ক্রীড়া প্রতিযোগীতা অনুষ্ঠিত হয়। হরিজন সম্প্রদায়ের শিশুদের জন্য চকলেট দৌড়, মধ্যবয়সী বালকদের জন্য ৫০ মিটার দৌড়, মহিলা ও যুবতীদের জন্য বালিশ খেলা এবং সব বয়সীদের মানুষদের অংশগ্রহনে হাড়ি ভাঙ্গা খেলা অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে সন্ধ্যায় আলোচনা সভা ও পুরষ্কার বিতরনী অনুষ্ঠান জেলা প্রশাসক শহীদুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য দেয় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(সার্বিক) আবদুল্লাহ আল মামুন, সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শাহনেওয়াজ শাহীন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রেহানা বেগম, মোহাম্মদ হোসেন চৌধুরী, প্রকৌশলী শহিদুল আলম, প্রেসক্লাব সাবেক সভাপতি এসএম ইকবাল, আবুল কালাম আজাদ, জেলা আইনজীবী সভাপতি এ্যাডঃ আনিস উদ্দিন শহীদ, সমাজ সেবা অধিদপ্তরের ডিডি মনোজ কুমার ঘরামী, অধ্যক্ষ তপংকর চক্রবর্তী প্রমুখ। সভায় বক্তারা বলেন বিগত ৫০ বছরের এই জেলায় অনেক জেলা প্রশাসক এসেছেন এবং চলে গেছেন। কিন্তু বর্তমান জেলা প্রশাসকের মত এই রকম ভিন্নধর্মী উদ্যোগ কেউই গ্রহন করেনি। তার এই উদ্যোগটি জেলা প্রশাসনে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। এ সময় তারা আরও বলেন, এই সম্প্রদায়ের লোকদের ঘৃনা না করে তাদের পাশে দাড়িয়ে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। এছাড়াও উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে সময়ের মূল ¯্রােতধারায় ফিরে আসার আহবান জানানো হয়। এদিকে হরিজন ঐক্য পরিষদের জেলা সভাপতি সানুলাল ও সাধারন সম্পাদক জয়ন্ত কুমার দাস জানান, সমাজের সকল ক্ষেত্রে পরিচ্ছন্নতার কাজে নিয়োজিত হরিজন সম্প্রদায়ের মানুষদের জন্য জেলা প্রশাসক মোঃ শহীদুল আলমের এই উদ্যোগকে চিরদিন কৃতজ্ঞার সাথে স্মরণ করবে। এছাড়াও তিনি যে আমাদের উন্নতি নিয়ে চিন্থা ভাবনা করেন তারই একটা উদাহারন এই উৎসবটি। এ সময় তারা বলেন প্রতি বছর এই উৎসবটি যাতে ধারাবাহকভাবে চলে সেজন্য জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে। অন্যদিকে এই সম্প্রদায়ের সন্তানরা যাতে উচ্চ শিক্ষা লাভ করতে পারে সেদিকে খেয়াল রাখার আহবান জানান তারা। অন্যদিকে রুবী দাস নামে হরিজন সম্প্রদায়ের এক বৃদ্ধা আবেগে আপ্লুত কন্ঠে বলেন আমাদের জন্য এই রকম জাকজমকপূর্ন অনুষ্ঠান আগে কখনও হয়নি। যা একমাত্র বর্তমান জেলা প্রশাসক করে দেখিয়েছেন। তাকে আমি আশির্বাদ করি তিন যেন অনেক বছর বেচে থাকেন এবং হরিজন সম্প্রদায়ের পাশে থেকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিবেন। এই উৎসবকে ঘিরে সুশীল সমাজে দেখা গেছে নানা রকম প্রতিক্রিয়া। তারা জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন এই উৎসবটি ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। অন্যদিকে আলোচনা অনুষ্ঠান শেষে ক্রীড়া প্রতিযোগীতায় ১ম, ২য় এবং ৩য় স্থান অধিকারীদের পুরস্কার দেয়া হয়। এছাড়াও সম্প্রদায়ের শিল্পীদের পরিবেশনায় মনমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়। পরে সম্প্রদায়ের সকল মানুষদের জন্য নৈশ ভোজের আয়োজন করা হয়।