হরতাল অবরোধে সবজি চাষীরা ক্ষতিগ্রস্থ লাভবান খুচরা বিক্রেতারা

সিদ্দিকুর রহমান॥ লাগাতার হরতাল অবরোধে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বিভাগের সবজি চাষীরা। শাক-সবজির ফলন বেশি হলেও সরবরাহে বাধাগ্রস্ত হওয়ায় সঠিক মূল্য পাচ্ছে না তারা। শহরের পাইকারী ও খুচরা বাজার গুলোতে একই চেহারা বিদ্যমান। শাক-সবজি চাষ করা কৃষক আব্দুল মোতালেব জানান, তিনি ভোলা থেকে এসেছেন তার চাষ করা কুমড়া নিয়ে। এখানে এসে বাজারের বেহাল দশা দেখে মাথায় হাত পড়ার মত অবস্থা হয়েছে। তিনি বলেন, উৎপাদন খরচ ও পরিবহন খরচ মিলিয়ে কেজি প্রতি ১০ টাকা হারে বিক্রি হলে সামান্য লাভের আশা করা যায়। কিন্তু পাইকারী ব্যবসায়ীদের কেজি প্রতি ৬ টাকার বেশি দিচ্ছে না। যার ফলে লাভ তো হবেই না বরং ক্ষতির হার বেশি হবে বলে তিনি জানায়।
নগরীর শাকসবজীর পাইকারী বাজার বহুমুখী সিটি মার্কেটে গিয়ে দেখা গেছে দক্ষিণাঞ্চল থেকে আসা শাসসবজিতে পরিপূর্ন হয়ে আছে বাজারটি। দূর দূরান্ত থেকে আসা পাইকারী ব্যবসায়ী ও খুচরা ব্যবসায়ীদের উপচে পড়া ভিড় রয়েছে। এ সময় পাইকারী বাজারের ব্যবসায়ী সোহরাব বাণিজ্যলয়ের স্বত্তাধিকারী সোহরাবের কাছে বর্তমান বাজারের অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন বিগত বছরের তুলনায় সবজি উৎপাদন বেশি হওয়ায় পন্যের মূল্য কমে গেছে। কিন্তু যে রকম বিক্রির আশা করছি সে রকম হচ্ছে না। কৃষকরাও আশানুরূপ মূল্য পাচ্ছে না। দেশের এই সংকটপূর্ণ অবস্থায় দেশের উত্তরাঞ্চল থেকে সবজি আসছে না আবার আমারও রীতিমত ঐদিকে সবজি সরবরাহ করতে পারছিনা। এ সময় তিনি আরও জানান, বেগুন কেজি প্রতি ৮-৯ টাকা, করলা ২৬-২৮ টাকা, কচুরলতি ২২-২৫ টাকা, পটল ৩০-৩৫ টাকা, লাউ প্রতি পিচ ১৫-১৬ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৮-১০ টাকা, টমেটো ১২-১৩ টাকা, গাজর ১৫-১৮ টাকা, পেঁপে ১০-১২ টাকা, ঢেড়শ ১৫-২৮ টাকা, শষা ১০-১২ টাকা, পুইশাক ৮-১০ টাকা, লাল শাক আঁটি প্রতি ৩-৪ টাকা হারে বিক্রি করা হচ্ছে। যা গত বছরের তুলনায় দাম অনেক কম। যার ফলে উৎপাদনকারীরা ক্ষতির মুখে পড়লেও লাভবান হচ্ছে খুচরা ব্যবসায়ীরা। এদিকে নগরীর নতুন বাজার, চৌমাথা বাজার, পোর্ট রোড কাঁচা বাজার ঘুরে দেকা গেছে বেগুন কেজি প্রতি প্রকারভেদে ১৬-১৮টাকা, করলা ৩৫টাকা, কচুরলতি ৪০-৪৫টাকা, পটল ৪০-৪৫টাকা, লাউ প্রতি পিচ ২০-২৫টাকা, মিষ্টি কুমড়া ১৫-২০ টাকা, গাজর ২৫টাকা, পেপে ১৫-২০টাকা, ঢেড়শ ৩৫টাকা, শসা ২৫-৩০টাকা, পুইশাক ১৫-১৬টাকা, লালশাক আটি প্রতি ৫টাকা হারে বিক্রি করা হচ্ছে। পোর্টরোডের ব্যবসায়ী আব্বাস হোসেন জানান বিগত বছরের তুলনায় পন্য সরবরাহ বেশি থাকলেও তেমন বিক্রি হচ্ছে না। কারণ গ্রামাঞ্চলে প্রতিটি পরিবালের কম বেশি সবজি চাষ করে। যার ফলে শহরের মানুষের চাহিদা ছাড়া গ্রামে মানুষের সবজি ক্রয়ের চাপ খুবই কম। কিন্তু রাস্তায় ঘুরে ঘুরে ভ্রাম্যমান সবজি বিক্রেতাদের মধ্যে দেখা গেছে অন্যচিত্র। পাইকারী ও খুচরা বাজার গুলো থেকে ভ্রাম্যমান বিক্রেতার বেশ কয়েকজন একত্রিত হয়ে ভ্রাম্যমান বাজার খুলে বসে সিন্ডিকেট তৈরি করছে। তারা সব সবজি চড়া দামে বিক্রি করছে যার ফলে প্রতারনার শিকার হচ্ছে সাধারন ক্রেতারা। হাত বদল হতেই শাকসবজির দাম বেড়ে যাচ্ছে কোন কারণ ছাড়াই। ভ্রাম্যমান ব্যবসায়ীদের অজুহাত সরবরাহ কম থাকায় বাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় সব জিনিসের দাম কম তবে শাকসবজির দাম বাড়লেও তাতে কোন ধরনের প্রভাব পড়েনি। এই সকল বিষয়াদি নিয়ে বহুমুখী সিটি পাইকারী কাঁচা বাজারের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন ভুইয়া ও সাধারন সম্পাদক শেখ আব্দুল খালেক জানান, উৎপাদন বেশি কিন্তু পন্যের চাহিদা কম যার ফলে উৎপাদকরা কিছু ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছে। উত্তরাঞ্চল থেকে কোন ধরনের সবজির ট্রাক ঠিকমত আসছে না, যার ফলে কিছু কিছু সবজির ঘাটতি রয়ে যাচ্ছে। এছাড়াও আগামী ১ বৈশাখ থেকে সব ধরনের শাক সবজির সরবরাহ বৃদ্ধি পাবে বলে ধারনা করছেন। এ সময় তারা আরও বলেন ভোলা, আটঘর, কুরিয়ানা, পটুয়াখালী, স্বরূপকাঠি থেকে যেসব শাকসবজি আসছে। সেইসব দিয়ে বাজার পরিচালনা করা হচ্ছে। হরতাল-অবরাধ বাজারে প্রভাব সম্পর্কে জানতে চাইলে তারা জানান, প্রথম প্রথম সমস্যার সৃষ্টি হলেও একঘেয়েমি হরতাল-অবরাধের কারনে আর সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে না।