হরতালের প্রভাব মুক্ত ছিল বরিশাল ৪ শিবির কর্মী আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ জামায়াতের আমির মাওঃ মতিউর রহমান নিজামির ফাঁসি কার্যকর হওয়ার প্রতিবাদে ডাকা হরতালের প্রভাব মুক্ত ছিলো বরিশাল। সকাল থেকে হরতাল সমর্থনে কোথাও কোন পিকেটিং কিংবা মিছিলের খবর পাওয়া যায়নি। তবে মিছিলের প্রস্তুতিকালে শিবিরের চার কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার দিকে নগরীর মহানগর কলেজ এলাকা থেকে তাদের আটক করে বিমান বন্দর থানার এসআই মো. মনিরুল ইসলাম।
আটকৃতরা হলেন- জামায়াত শিবির বরিশাল মহানগরের কর্মী মো. তৈয়বুর রহমান, মো. ইসমাইল হোসেন, মো. জিয়া উদ্দিন ও মো. নাঈম।
জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসি কার্যকর হওয়ার প্রতিবাদে দেশব্যাপী হরতাল ডাকে জামায়াতে ইসলাম। গতকাল বৃহস্পতিবার সারা দেশের ন্যায় বরিশালেও সকাল সন্ধ্যা হরতাল পালন করা হয়। তবে হরতালের প্রভাব নগর কিংবা বরিশালের কোথাও পড়েনি। হরতাল ঘোষণা হলেও জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীরা বেলা ১২টা পর্যন্ত মাঠে নামতে পারেনি।
তবে ১২টার পর মহানগর কলেজ এলাকা থেকে হরতাল সমর্থনে মিছিল বের করার চেষ্টা করে জামায়াত-শিবির নেতা-কর্মীরা। এসময় খবর পেয়ে বিমানবন্দর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের ধাওয়া করে। এসময় চার শিবির নেতা-কর্মীকে আটক করতে পারলেও বাকিরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। আটকৃতদের মাঝে তিনজন বরিশাল সরকারি বিএম কলেজের সম্মান শ্রেণির এবং বাকি একজন সরকারি বরিশাল কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র বলে পুলিশ জানিয়েছে। এছাড়া গতকাল বৃহস্পতিবার জামায়াত-শিবিরের হরতাল সমর্থনে কোন কার্যক্রম ছিলো না।
যে কারণে সকাল থেকে বরিশালের প্রতিটি রুটেই যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক ছিলো। বরিশাল-ঢাকা সহ দূরপাল্লার রুটে ছেড়ে গেছে যাত্রীবাহী পরিবহন। নগরীর অভ্যন্তরে গণপরিবহন চলাচল ছিলো পূর্বের ন্যায় স্বাভাবিক। তবে দূরপাল্লার রুটে হরতালের কারণে যাত্রী সংখ্যা কম দেখা গেছে।
বরিশাল মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ও সিনিয়র সহকারি কমিশনার মো. আবু সাঈদ জানান, হরতালে সকল প্রকার নাশকতা এবং বিশৃঙ্খলা রোধে মহানগরীতে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন ছিলো। বাস টার্মিনাল, লঞ্চ ঘাট ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সহ নগরের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশ মোতায়েন ছিলো। বিশেষ চেক পোষ্ট ছাড়াও পুলিশ এবং গোয়েন্দা পুলিশের টহল ছিলো জোরদার। পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন (র‌্যাব) এবং আর্মড পুলিশ সদস্যরা হরতালে আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় বিশেষ ভূমিকা রাখেন। শুধুমাত্র বরিশাল মহানগরী এলাকায় নয়, জেলার প্রতিটি উপজেলায় জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে বিশেষ নজরদারী এবং পুলিশের তৎপরতা ছিলো চোখে পড়ার মতো।
বরিশাল জেলা বাস মালিক গ্রুপের সভাপতি মো. আফতাব আহম্মেদ বলেন, হরতালে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক ছিলো। পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতায় সকাল থেকে পূর্বের ন্যায় যানবাহন চলাচল করেছে। কোথাও কোন অপ্রীতিকর ঘটনার শিকার হতে হয়নি বাস শ্রমিকদের।