হঠাৎ করে বেড়েছে অগ্নিকান্ড

রুবেল খান॥ বরিশালে হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে অগ্নিকান্ড। চলতি মাসের শুরু থেকে প্রায় প্রতিদিনই নগরী সহ বিভাগের কোথাও না কোথাও অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটছে। এতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমানও কয়েক কোটি টাকা ছাড়িয়েছে বলে দাবী করেছেন সংশ্লিষ্টরা।এদিকে হঠাৎ করে অগ্নি কান্ডের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় উৎকন্ঠিত হয়ে পড়েছে দক্ষিণাঞ্চলবাসী। প্রশাসন এবং ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তারা এসব ঘটনাকে স্বাভাবিক অগ্নিকান্ড দাবী করলেও সাধারন মানুষের মাঝে সৃষ্টি হয়েছে নানা রহস্যের। এসব অগ্নিকান্ড নাশকতা হতে পারে বলেও ধারনা তাদের।
সূত্রমতে, গত ১০ মার্চ থেকে গত ২৪ মার্চ পর্যন্ত ২০টির মত অগ্নিকান্ডের খবর পাওয়া গেছে। যার মধ্যে শুধুমাত্র নগরী এবং সদর উপজেলাতেই ৮টি ঘটেছে। আর এসব ঘটনায় পুড়ে ছাই হয়েছে নগদ অর্থ, স্বর্ণাংলকার, বসত ঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, যানবাহন সহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপন। আর এর আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমান দাড়িয়েছে কয়েক কোটি টাকায়।
ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্স কার্যালয় সূত্রে জানাগেছে, সর্বশেষ গত ২৪ মার্চ রাতে নগরীর নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনাল সংলগ্নে আকস্মিক অগ্নিকান্ডের ঘটনা গটে। রাত তিনটার দিকে এই অগ্নি কান্ডে পুড়ে গেছে হোটেল সহ ৭টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ৫ লক্ষ টাকার মালামাল। তবে সেখান থেকে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিটের তৎপরতায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে ৩ লাখ টাকার মালামাল। ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র ষ্টেশন অফিসার মোহাম্মদ আলাউদ্দিন’র মতে বৈদুতিক শর্ট সার্কিটের মাধ্যমে অগ্নিকান্ডের সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে ২৪ মার্চের পূর্বেও ঘটেছে একাধিক অগ্নিকান্ড। এর মধ্যে গত ১১ মার্চ নগরীর বাংলা বাজার এলাকায় একটি বসত ঘর ও খাবার হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। এতে পুড়ে ছাই হয়েছে নগদ অর্থ সহ প্রায় ১০ লক্ষ টাকার মালামাল। একই দিন শেবাচিম হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের বাথরুমের বিদ্যুৎ’র বোর্ডে আগুন জ্বলতে দেখে রোগীর স্বজনরা। এতে উপস্থিত সকলের মাঝে আতংক ছড়িয়ে পড়লেও কোন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
১২ মার্চ সাগরদী ব্রাঞ্চ রোডে পুড়ে গেছে এক অটোরিক্সা চালকের বসত ঘর। শেষ সম্বল একটি অটো রিক্সা সহ পুড়ে গেছে বসত ঘরের সব মালামাল।
১৩ মার্চ বরগুনার তালতলি উপজেলা ইদুপাড়ায় রহস্যজনক অগ্নিকান্ডে ৫ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়।
১৪ মার্চ রাজাপুরের মঠবাড়ি ইউনিয়নের পুখরিজানা গ্রামে একটি দোকানে অগ্নি সংযোগ করে দুর্বিত্তরা। এতে দোকানে থাকায় প্রায় অর্ধ লক্ষ টাকার মালামালের ক্ষয়ক্ষতি হয়।
১৯ মার্চ সদর উপজেলার চন্দ্রমোহন বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের সৃষ্টি হয়। এসময় সেখানকার ১২টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পুড়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্থদের দাবী অনুযায়ী সেখানে আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে অর্ধকোটি টাকা।
২০ মার্চ গভির রাতে নগরীর কাশিপুর বাজার এলাকায় একটি রিক্সার গ্যারেজে অগ্নি কান্ডের সৃষ্টি হয়। এসময় সেখানে থাকা ১৪টি রিক্সা পুড়ে আড়াই লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়। একই রাতে বিএম কলেজে ক্রিড়া অনুষ্ঠানের মঞ্চে পেট্রোর বোমা নিক্ষেপ করে দুর্বিত্তরা। এতে অনুষ্ঠান শুরুতে হয় বিলম্ব।
২০ মার্চ গভির রাতেই উজিরপুর উপজেলার বরাকোঠা মালিকান্দা গ্রামে অগ্নিকান্ডে ৬টি বসত ঘর পুড়ে যায। এতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমান দাড়ায় ১০ লক্ষাধিক টাকা।
২১ মার্চ ভোলার লালমোহন উপজেলার বদরপুর ইউনিয়নে অগ্নিকান্ডে পুড়ে যায় ঘরবাড়ি।
২২ মার্চ মনপুরার হাজির হাট বাজার এবং এর পূর্বে বরগুনার ৬নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ কার্যালয় সহ ৫টি মুদি দোকান পুড়ে যায়।
এসব ঘটনা ছাড়াও রয়েছে আরো একাধিক অগ্নি কান্ডের ঘটনা। যার প্রতিটি ঘটনা স্থাপনা বা বসত ঘরের মালিক পক্ষ রহস্য জনক এবং অগ্নিসংযোগ বলে দাবী করেছেন। তবে ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ পুড়ে যাওয়ার ঘটনা এবং অগ্নি কান্ডের সূত্রপাতকে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট বলে দাবী করেছেন। বরিশাল নগরী এবং সদরের ঘটা অগ্নিকান্ডের প্রতিটি ঘটনায় তাৎক্ষনিক প্রতিক্রিয়ায় সদর ফায়ার ষ্টেশনের জ্যেষ্ঠ ষ্টেশন অফিসার মোহাম্মদ আলাউদ্দিন শর্ট সার্কিটের কথাই জানান।
শর্ট সার্কিদের কারন হিসেবে তিনি বলেন, স্থাপনায় ওয়ারিং এর তার পুরানো হয়ে সেগুলোর মেয়াদকাল শেষ হয়ে যায়। এর ফরে বিভিন্ন স্থানে ত্রুটি দেখা দেয়। আর এ থেকে এক পর্যায় অগ্নিকান্ডের সৃষ্টি হচ্ছে।
তাছাড়া চলতি মৌসুম ঝুকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন তারা। এ সময়টাতে শর্ট সার্কিটে অগ্নিকান্ড বেশি হয়ে থাকছে। চলতি মৌসুমে শর্ট সার্কিটে অগ্নি সংযোগের ঘটনা আরো বেশি ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
মো. আলাউদ্দিন আরো বলেন, তিনি বলেন, রাতে বিদ্যুৎ এর চাহিদা কমে যায়। রাতে সব মিল কারখানা এবং বসত বাড়িতে সকল বৈদ্যুতিক কার্যক্রম বন্ধ থাকে। এ সময় যে খানটাতে বাল্ব জ্বলছে বা বৈদ্যুতিক কাজ চলে সেখানে বিদ্যুৎ এর লোড বেশি পড়ছে। এসময়টাতেই দুর্ঘটনা ঘটছে। তবে আদালতে নাশকতার সৃষ্টির পরবর্তীতে বরিশাল নগরী এবং সদর উপজেলায় ঘটে যাওয়া অগ্নিকান্ডের ঘটনার মধ্যে কোন নাশকতা বা অগ্নি সংযোগের আলামত তারা পাননি বলেও জানান এই কর্মকর্তা।