সড়ক ও জনপথের অর্ধ লক্ষাধিক ব্লক ভাঙন প্রতিরোধে ব্যবহারের উদ্যোগ

রুবেল খান ॥ কীর্তনখোলা নদীর আব্দুর রব সেরনিয়াবাত  ও খয়রাবাদ সেতুর নিচে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা ব্লক ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। এই ব্লক সুগন্ধা নদীর ভাঙ্গনে হুমকির মুখে থাকা বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সেতু ও কীর্তনখোলার থেকে বেলতলা ফেরীঘাট রক্ষায় ব্যবহার করার সিদ্বান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাহী প্রকৌশলী। সেতুর নিচে পড়ে থাকা বিপুল পরিমান এসব ব্লকের বড় একটি অংশ স্থানীয়রা তাদের ঘরবাড়ি ও রাস্তা তৈরির কাজে ব্যবহার করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সরোজমিনে গিয়ে এর সত্যতাও মিলেছে।
সড়ক ও জনপদ বিভাগ সূত্রে জানাগেছে, দপদপিয়ায় কীর্তনখোলা এবং খয়রাবাদ নদীর উপরে শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত সেতু প্রতিরক্ষা এবং কীর্তনখোলার ভাঙন রোধে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে এসব ব্লক তৈরী করা হয়। কিন্তু তৈরী করা সব ব্লক সেতু প্রতিরক্ষার কাজে ব্যবহার হয়নি। ফলে অর্ধ লক্ষেরও বেশি ব্লক নদীর দুই প্রান্তে অবহেলায় ও কোন ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা না করে স্তুপ করে রাখা হয়। বেশ কয়েক বছর পেরিয়ে গেলেও অবহেলায় পড়ে থাকা ব্লকগুলো সংরক্ষন বা এগুলো ব্যবহার করেনি সড়ক ও জনপথ বিভাগ। ফলে ব্লকের সংখ্যা ক্রমশই কমে যাচ্ছে।
সরেজমিনে ঘুরে দেখাগেছে, শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত সেতুর নিচে কীর্তনখোলার দুই প্রান্তে অবহেলায় পড়ে থাকা ব্লকগুলো পারিবারিক কাজে লাগাচ্ছে স্থানীয়রা। নিজেদের জমির সিমানা নির্ধারন, খেতের বেড়া দেয়া, বাড়ির সামনে সিঁড়ি নির্মান, ইট, বালু ও খোয়া ব্যবসায়ীদের ব্যক্তিগত কাজে এবং চলাচলের সুবিধায় রাস্তা নির্মান করা হয়েছে। এমনকি সড়ক ও জনপথ বিভাগের অবহেলায় পড়ে থাকা কোটি টাকার ব্লক বাড়ি নির্মানের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্র জানায়, দপদপিয়া ও কর্নকাঠি প্রান্তে কীর্তনখোলা নদীর দুই পাড়ে অর্ধলক্ষের বেশি ব্লক ছিলো। তা স্থানীয় প্রভাবশালীরা ট্রাক ভরে নিয়ে গেছে। যা এলাকায় প্রতিটি ঘর এবং দোকানে গিয়ে সত্যতা পাওয়া গেছে।
সূত্রগুলো আরো জানায়, বিগত দিনে ব্লক চুরিতে বাধা দেয়া নিয়ে স্থানীয় প্রভাবশালীদের মধ্যে অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটেছে একাধিক। ফলে এখন কোন বাধা ছাড়াই যে যেভাবে পারছে ব্লক গুলো নিয়ে যাচ্ছে।
অপরদিকে সচেতন স্থানীয়রা মতামত প্রকাশ করে বলেন, নদী ভাঙ্গনে বরিশালের বিভিন্ন স্থানে ফেরি চলাচাল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ভাঙনে হুমকির মুখে পড়ছে সড়ক বিভাগের গুরুত্বপূর্ন ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সেতু সহ  বেশ কয়েকটি সেতু। এছাড়া চরবাড়িয়া ইউনিয়নে কীর্তনখোলার ভাঙনে কয়েক একর জমি, বাড়ি-ঘর এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নদী গর্ভে বিলিন হয়েছে। ঘর রক্ষা করতে গিয়ে মানুষের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। তাই অবহেলায় ব্লক গুলো ফেলে না রেখে ভাঙন রোধে এগুলো ব্যবহার করলে অসহায় মানুষের উপকারে আসতো। এতে ভাঙন রোধের পাশাপাশি সরকারী সম্পদ রক্ষা হবে।
তবে স্থানীয়দের এ মতামত বাস্তবায়ন সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদ শাহীদ। তিনি বলেন, দপদপিয়ায় কীর্তনখোলার দুই প্রান্তে ৬০ হাজারের বেশি ব্লক রয়েছে। যা সড়ক বিভাগের সম্পদ রক্ষায় কাজে লাগানোর জন্য ইতোমধ্যে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এছাড়া সড়ক বিভাগের ব্লক পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাজে ব্যবহারের কোন নিয়ম নেই। চরবাড়িয়ার ভাঙন রক্ষায় ওই  পরিমান ব্লক দিয়ে সম্ভব নয়।
নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদ শাহীদ বলেন, চরবাড়িয়া ইউনিয়ন না হলেও বেলতলা ফেরীঘাট রক্ষায় দপদপিয়ায় স্তুপ রাখা ব্লক ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এছাড়া সুগন্ধা নদীর তীব্র ভাঙনের হাত থেকে বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সেতু রক্ষা খুব জরুরী হয়ে দাড়িয়েছে। আমাদের বরাদ্দ না থাকায় ঐ সেতু প্রতিরক্ষায় খুব শিঘ্রই দপদপিয়ার ব্লকগুলো কাজে লাগানো হবে।
ব্লক চুরি এবং স্থানীয়দের পারিবারিক কাজে ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, সরকারী সম্পদ রক্ষার দায়িত্ব সকলের। কিন্তু তা না করে নিজেদের কাজে ব্যবহার করা অন্যায়। তবে পারিবারিক কাজে ব্যবহার হওয়া ব্লকগুলো উদ্ধার করা হবে কি না সে সম্পর্কে কিছু জানাননি তিনি।