স্বেচ্ছাসেবকরা সমাজের মেরুদ– জার্মান রাষ্ট্রদূত

কলাপাড়া প্রতিবেদক॥ স্বেচ্ছাসেবক কর্মীরা সমাজের ভাল কিছু করতে পারে তারা সমাজ পরিবর্তণকারী এবং সমাজের মেরুদ-। এছাড়াও তারা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে সদ্য নিযুক্ত জার্মান রাষ্ট্রদূত ড. থোমাস প্রিন্স। জার্মানরা ঐতিহ্যগতভাবে স্বেচ্ছাসেবাকে গুরুত্ব দেয় বলেও জানান তিনি। গতকাল বুধবার দুপুরে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের পাখিমারা পি ভি মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষতি কমানোর লক্ষ্যে ‘স্বেচ্ছাসেবকদের আগাম প্রস্তুতিবিষয়ক’ এক অনুষ্ঠানে তিনি এই কথা বলেন। থোমাস প্রিন্স বলেন, ‘জার্মান রাষ্ট্রদূত হিসেবে বাংলাদেশে এসে প্রথমেই বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের নীলগঞ্জ ইউনিয়নে আসতে পেরে আমি খুব সম্মানিত বোধ করছি। ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতিমূলক মহড়া দেখতে পেরে আমি খুবই উৎসাহিত এবং আনন্দিত’। বাংলাদেশের ওয়েভ ফাউন্ডেশন নামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কোস্টাল লাইভলিহুড অ্যাডাপটেশন প্রজেক্ট (ক্ল্যাপ), জার্মান সরকারের উন্নয়ন সংস্থা জিআইজেড ও জার্মান উন্নয়ন ব্যাংক কেডব্লিউএফ-এর সহযোগিতায় পটুয়াখালীর ঘূর্ণিঝড় প্রবণ এলাকায় ২০১০ সাল থেকে স্বেচ্ছাসেবীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছে। প্রতিষ্ঠানটির আয়োজনে ঘূর্ণিঝড় প্রবণ এলাকা নীলগঞ্জে একটি মহড়ার আয়োজন করা হয়। মহড়ায় ঘূর্ণিঝড়ের সময় স্বেচ্ছাসেবকদের ভূমিকা ও স্থানীয়দের আগাম প্রস্তুতির একটি মহড়া প্রদর্শণ করা হয়। স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজে জার্মানদের দীর্ঘ ইতিহাস আছে জানিয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন,‘আজকে অনেক স্বেচ্ছাসেবীদের একসঙ্গে দেখে খুব আনন্দ লাগছে। স্বেচ্ছাসেবকরা একটি সমাজের মেরুদ-। জার্মানিতে অনেক স্বেচ্ছাসেবক আছেন। তাঁদের অনেকে জার্মান ফায়ার ব্রিগেড এবং জার্মান রেডক্রসের সঙ্গে কাজ করে।’ প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল বিশেষভাবে সমস্যার সম্মুখীন হয় উল্লেখ করে জার্মান দূত বলেন, ‘আমি খুবই খুশি যে, জার্মান সরকার আপনাদের সাহায্য সহযোগিতা করছে। ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতিমূলক মহড়া দেখে পরবর্তী ঘূর্ণিঝড়ের সময়ে আপনারা যেন আরো ভালো প্রস্তুতি নিতে পারেন, সেটাই কামনা করছি’। উদাহরণ দিয়ে থোমাস প্রিন্স বলেন, ‘যার ভালো প্রস্তুতি থাকে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগেই সে অর্ধেক জিতে যায়।’ কোস্টাল লাইভলিহুড অ্যাডাপটেশন প্রজেক্ট (ক্ল্যাপ)-এর প্রধান উপদেষ্টা ড. পূর্ণিমা ডরিস চট্টোপাধ্যায় দত্ত এই অনুষ্ঠানে বিশেষ অথিতির বক্তব্যে বলেন, ‘সেচ্ছাসেবকরা সমাজে পরিবর্তন আনতে সাহায্য করে, সমাজকে ভালোর দিকে নিয়ে যেতে সাহায্য করে। আজকের এই মহড়া প্রমান করলো নীলগঞ্জবাসী ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় প্রস্তুত।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন দুর্যোগ প্রস্তুতির বিষয়ে কাজ করছি। আজকের মহড়া সেই কাজের সফল মঞ্চায়ণ।’ অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, কলাপাড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মোতালেব তালুকদার, উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, জার্মান উন্নয়ন ব্যাংকের (কেএফডব্লিউ) বাংলাদেশ ও নেপালের পরিচালক ডেভিড কুনজ, নীলগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল মালেক খান, বেসরকারী সংস্থা ওয়েভ ফাউন্ডেশনের উপ-নির্বাহী পরিচালক মো. আনোয়ার হোসেন প্রমুখ। সভা সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন, ওয়েভ ফাউন্ডেশনের কলাপাড়া প্রকল্প কর্মকর্তা মো. আনিছুর রহমান।