স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের নিয়মনীতি না মেনে চলছে আলেকান্দার রওশনআরা ক্লিনিক

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করেই নগরীর পুলিশ লাইনের সম্মুখে চলছে ডাঃ হারুন অর রশিদ এর ক্লিনিক নামের কশাইখানার কার্যক্রম। অবৈধ টাকায় গড়ে ওঠা বহুতল বসত বাড়ির আড়ালে কশাই হারুন খুলে বসেছেন রওশনআরা ক্লিনিক (ইএনটি কেয়ার) নামক প্রতিষ্ঠানটি। বিসিসি’র একটি ট্রেড লাইসেন্স ছাড়া যার নেই কোন বৈধ কাগজপত্র। তার পরেও মাসের পর মাস উৎকোচের বিনিময়ে ম্যানেজ করে চলায় প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না  বরিশাল স্বাস্থ্য বিভাগের কর্তারা।
জানাগেছে, কশাই খ্যাত ডাঃ হারুন অর রশিদ বরিশাল মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করেন। পরে বরিশাল সদর হাসপাতালে যোগদান করেন তিনি। পরবর্তীতে পদোন্নতি পেয়ে ইএনটি বিভাগের কনসালটেন্ট হন ডাঃ হারুন।
এদিকে ডাক্তার হারুনের সহকর্মীরা জানায়, ডাক্তার হারুন চাকুরীতে যোগদানের পর পরই নগরীতে ‘দালাল স¤্রাজ্য’ চালু করেন। এরা নগরীর লঞ্চঘাট, বাস টার্মিনাল ও সদর রোডসহ বিভিন্ন স্থান থেকে রোগী ধরে নিয়ে আসে সদর রোডের বাটার গালিতে কশাই হারুনের চেম্বারে। এর পরে শুরু হয় হারুনের চিকিৎসার নামের বানিজ্য। সামান্য মাথা ব্যাথা হলেও সিটি স্ক্যান, এক্সরে, আলট্রাসনোগ্রাম, রক্ত পরীক্ষা সহ বিভিন্ন পরীক্ষা,নিরীক্ষা করিয়ে হাজার হাজার টাকা পার্সেন্টেজ হাতিয়ে নেয়। নগর জুড়ে দালালের মাধ্যমে জাল বিস্তার করে অন্যান্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের কাছে আসা রোগীদের ধরে নিয়ে যায় ডাক্তার কশাই হারুনের কাছে। এসব করে অসহায় মানুষের কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে হারুন হন আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ। অবৈধ অর্জনের টাকা দিয়ে নগরীর পুলিশ লাইনের সামনে বহুতল বাড়ি নির্মান করেন। কিন্তু চতুর কশাই হারুন নিজে অবৈধ টাকায় বহুতল ভবন নির্মান করলেও প্রশাসনিক জটিলতা এড়াতে বাড়ির মালিক হিসেবে তার স্ত্রী মাকসুদা বেগমকে জাহির করেন।
এদিকে নীতিমালা অনুযায়ী জনবহুল বা আবাসিক এলাকায় কোন প্রকার ক্লিনিক স্থাপন করা যাবে না। করতে হলে স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়, পরিবেশ অধিদপ্তর, সিটি কর্পোরেশন সহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের অনুমতি এবং নিয়মাবলি মেনে ক্লিনিক বা হাসপাতাল নির্মান করা যাবে। কিন্তু ডাঃ হারুন এসব নীতিমালার ধার ধারেন না। তিনি সকল আইন কানুন পেছনে ফেলে জনবহুল এবং আবাসিক এলাকায় খুলে বসেছেন ক্লিনিক। তাও আবার নিজ বহুতল ভবনের নিচ তলায়। বসত বাড়ির আড়ালে স্ত্রী মাকসুদা বেগম এর নামে অবৈধ ভাবে ক্লিনিকটি ব্যবসা করলেও এর নেই কোন বৈধ কাগজপত্র। শুধু মাত্র একটি ট্রেড লাইসেন্স ক্লিনিকের টেবিলের গ্লাসের নিচে রেখে দেয়া হয়েছে। তবে ডাঃ হারুন ক্লিনিকের বৈধ কাগজপত্র আছে বলে দাবী করলেও এর কোনটিই দেখাতে পারেননি। তবে মেয়ে এবং জামাতাদের দোহাই দিয়ে সম্মানের দিকে তাকিয়ে এ নিয়ে পত্রিকায় লেখালেখি না করার জন্যও অনুরোধ জানান তিনি। এজন্য যে কোন শর্ত মেনে নিবেন বলেও মন্তব্য করেন কশাই খ্যাত ডাঃ হারুন অর রশিদ।