স্বামীর লাথিতে আহত অন্তঃসত্ত্বা কলেজ ছাত্রীর মৃত্যু

পরিবর্তন ডেক্স ॥ দীর্ঘ ২১ দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে মৃত্যুকে বরণ করে নিলো স্বামীর নির্মম নির্যাতনের শিকার বাউফল উপজেলা বিলবিলাশ গ্রামের কলেজ ছাত্রী নাজমিন আক্তার (২০)। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকা বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ বিশ্ব বিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে তার। এ ঘটনায় স্থানীয় বাউফল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
নিহতের বাবা মোতাহার উদ্দিন জানায়, প্রায় ১বছর পূর্বে প্রেমের সম্পর্কের মাধ্যমে একই গ্রামের নোমান মৃধার সাথে বিয়ে হয় নাজমিনের। বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন সময় ২লক্ষ টাকা যৌতুকের জন্য নাজমিনের উপরে নির্যাতন করে আসছিলো। স্বামীর নির্যাতন থেকে রক্ষা পেতে এইচএসসি পরীক্ষার্থী ও অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী বাবার বাড়িতে চলে যায়। পরবর্তীতে গত ২৬ মে স্বাভাবিক ডেলিভারীর মাধ্যমে নাজমিন একটি সন্তান জন্ম দেয়। পরদিন ২৭ মে সে পরীক্ষা দিয়ে কেন্দ্র থেকে বের হয় নাজমিন। তখন কলেজের সামনে স্বামীর সাথে কথা কাটাকাটি হয় তার। এক পর্যায় পাশন্ড যৌতুক লোভি স্বামী নোমান মৃধা ক্ষিপ্ত হয়ে গৃহবধুর পেটে লাথি মারে। এতে তার প্রচন্ড রক্তক্ষরণ হয় এবং জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বাউফল হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সেখান থেকে ঢাকা বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। অবশেষে গতকাল তার মৃত্যু হয়েছে। ময়না তদন্ত শেষে লাশ বাড়িতে নিয়ে দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে। নিহতের বাবা বাদী হয়ে এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন বলে তিনি জানিয়েছেন।