স্বামীকে আটকে রেখে ধর্ষণে ছাত্রলীগ সভাপতিকে ধরিয়ে দিলেন সাদিক আবদুল্লাহ

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ বানারীপাড়া উপজেলার বেতাল গ্রামে স্বামীকে আটকে রেখে তার দ্বিতীয় স্ত্রী নববধূকে রাতভর ধর্ষণের অভিযোগে ছাত্রলীগের সভাপতি সুমন মোল্লাসহ তিন সহযোগির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। গতকাল রোববার রাতে ধর্ষক উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি সুমন হোসেন মোল্লাকে পুলিশের হাতে ধরিয়ে দিয়েছেন মহানগর আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ। এর পূর্বে গতকাল রোববার ধর্ষিতা গৃহবধূ বাদী হয়ে ছাত্রলীগ সভাপতি সুমন সহ ৪ জনকে আসামী করে বানারীপাড়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে। ধর্ষিতাগৃহবধূ উপজেলার সলিয়াবাকপুর গ্রামের আব্দুল রহমানের পুত্র সেলিম এর দ্বিতীয় স্ত্রী এবং লক্ষ্মীপুর রামগতি উপজেলার পূর্ব সরসীতা গ্রামের কণ্যা। গৃহবধূ বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রয়েছে।

এদিকে ধর্ষনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সুমন হোসেন মোল্লা। তবে গৃহবধূর স্বামীর কাছে চাঁদা দাবীর বিষয়টি স্বীকার করেছে সে। পাশাপাশি ঘটনাটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা মুলক বলে দাবী করেছে পুলিশের হাতে আটক হওয়া ছাত্রলীগ সভাপতি সুমন মোল্লার বড় ভাই এনায়েত হোসেন মোল্লা।

তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে বানারীপাড়া থানার ওসি সাজ্জাদ হোসেন বলেন, সিএনজি চালক সেলিশ চট্টগ্রামের পাহারতলী এলাকায় বসবাস করতো। সেখানে থাকাবস্থায় ২১ বছর বয়সি নারীর সাথে ১০ মাস প্রেমের সমর্কের পরে দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে তাকে বিয়ে করে। তবে বিষয়টি তার প্রথম স্ত্রী জানত না।

তিনি বলেন, গত ১৫ দিন পূর্বে দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে বানারীপাড়ায় আসে। কিন্তু প্রথম স্ত্রী দ্বিতীয় স্ত্রীকে মেনে না নেয়ায় তাকে বিভিন্ন আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে রাখা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত শনিবার রাতে দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে উপজেলার বেতাল গ্রামে নানা শামসুল হাওলাদারের বাড়িতে ওঠে। বিষয়টি টের পেয়ে উপজেলা ছাত্রীকের সভাপতি সুমন মোল্লা তার সহযোগিদের নিয়ে ওই বাড়িতে যায়। তারা দু’জন স্বামী-স্ত্রী না হয়ে অবৈধ ভাবে বসবাস করছে বলে দাবী করে।

স্বামী সেলিম অভিযোগ করেন, অবৈধ সম্পর্কের অজুহাত দেখিয়ে তার কাছে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবী করে সুমন। টাকা দিতে অপরাগতা প্রকাশ করায় সেলিমকে পার্শ্ববর্তী বেতাল ক্লাবের একটি কক্ষে আটকে রাখে। এছাড়া স্ত্রীকে তার ফুফু আনোয়ারা বেগম এর বাড়িতে নিয়ে নববধূকে রাতভর ধর্ষন করে।

ওসি বলেন, সেলিমের ভাষ্য অনুযায়ী সকালে স্থানীয়রা তাকে ক্লাবের মধ্যে থেকে উদ্ধার করে। পরে স্ত্রীকে ধর্ষনের বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে থানা পুলিশকে অবহিত এবং ধর্ষনের অভিযোগ এনে গৃহবধূ বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন।

এদিকে ধর্ষন মামলা থেকে বাঁচতে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সুমন হোসেন মোল্লা গতকাল সন্ধ্যার দিকে মহানগর আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ’র কালিবাড়ি রোডের বাসার আশে পাশে ঘোরা ফেরা করে। বিষয়টি সাদিক আবদুল্লাহর নজরে পড়লে তিনি পুলিশকে খবর দিয়ে সুমনকে ধরিয়ে দেন।

ধর্ষনের অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সুমন হোসেন মোল্লা বলেন, সেলিম নামের ব্যক্তি বহিরাগত নারী নিয়ে অবৈধ ভাবে বসবাস করছেন এমন সংবাদ পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়েছেন। সেখানে অবৈধ ভাবে মেলামেশা করার অপরাধে সেলিমের কাছ থেকে অর্থনৈতিক ভাবে লাভবান হতে চেয়েছিলেন। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে আমাদের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা সুযোগ নেয়ার চেষ্টা করছে।

সুমনের ভাই এনায়েত হোসেন মোল্লা বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে জেলা পরিষদ, উপজেলা এবং ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে বিরোধের জের ধরে আমাদের পরিবারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। তিনি প্রশাসনের কাছে এর সুষ্ঠু তদন্তের দাবী জানিয়েছেন।