স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ শহীদদের স্মরনে পূষ্পার্ঘ অর্পন, র‌্যালী, পদযাত্রা, কুচকাওয়াজ, আলোচনা সভা ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতা সহ নানা কর্মসূচির মাধ্যমে নগরীতে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন করা হয়েছে। কর্মসূচীর অংশ হিসেবে ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতিস্তম্ভ এবং বধ্যভূমিতে পুষ্পার্ঘ অর্পন করা হয়। এর পূর্বে ত্রিশ গোডাউনের ১০ম আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন ক্যাম্প প্রধান ফটক থেকে বধ্যভূমির শহীদ স্মৃতি স্তম্ভ পর্যন্ত খালি পায়ে পদযাত্রা করেন বরিশাল জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার মো. গাউস, ডিআইজি মো. হুমায়ুন কবির, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার শৈবাল কান্তি চৌধুরী, জেলা প্রশাসক মো. শহীদুল আলম প্রমুখ। পরে সেখানে জেলা প্রশাসনের সাবেক এডিসি ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধার কবরে পুষ্পার্ঘ অর্পন করা হয়।
পরে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, বরিশাল মেট্রোপলিটন, জেলা ও বিভাগীয় উল্লেখিত উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জেলা প্রশাসন কার্যালয় সংলগ্ন মৃক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভে পূষ্প মাল্য অর্পন করে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
এদিকে ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসের দিন ভোর হতে না হতেই শত শত মানুষ ভিড় জমায় মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি স্তম্ভে। একে একে সারিবদ্ধ ভাবে স্মৃতিস্তম্ভে ভুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তারা।
মুক্তিযোদ্ধা এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের পর পরই শহীদ বেদিতে পুষ্পার্ঘ অর্পন করেন বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষে সাধারন সম্পাদক এ্যাড. তালুকদার মো. ইউনুস-এমপি। ৩০ ওয়ার্ডের সভাপতি ও সাধারন সম্পাদকদের নিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন মহানগর আ’লীগ নেতা সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ। এছাড়াও সাধারন সম্পাদক এ্যাড. আফজালুল করিম। সদর আসনের সাংসদের পক্ষে সাবেক ভিপি মো. জুয়েল।
এছাড়া শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন বরিশাল ও মহানগর বিএনপি নেতা-কর্মীর, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, শ্রমিক লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কৃষক লীগ, বরিশাল প্রেসক্লাব, বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটি, জাতিয় পার্টি, বিভিন্ন শিক্ষক সমিতি, ওয়াকার্স পার্টি, জাসদ, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফন্ট, সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজেবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
এর পূর্বে সকালে বরিশাল পুলিশ লাইন্স মাঠে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যদিয়ে শুরু হয় মাহান স্বাধীনতা দিবসের কর্মসূচি। এর পর সকাল সাড়ে ৮টায় নগরীর বান্দ রোডের বঙ্গবন্ধু উদ্যানে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় কুচকাওয়াজ ও শরীর চর্চা প্রদর্শনী পালিত হয় নানা বর্ণিল কর্মসূচি। বিকালে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে অনুষ্ঠিত হয় প্রীতি ফুটবল টুর্ণামেন্ট।
সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আলোচনা সভা, পুরস্কার বিরতরনী ও সাংস্কৃতি অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অশ্বিনী কুমার হলে ‘সুখি ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের লক্ষে ডিজিটাল প্রযুক্তির সার্বজনীন ব্যবহার’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাংসদ এ্যাড. তালুকদার মো. ইউনুস। জেলা প্রশাসক মো. শহীদুল আলম’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- বিভাগীয় কমিশনার মো. গাউস, বরিশাল রেঞ্জ’র ডিআইজি মো. হুমায়ুন কবির, মেট্রোপলিটন পুলিশেল উপ-পুলিশ কমিশনার মো. গোলাম আব্দুর রউফ খান, জেলার পুলিশ সুমার একেএম এহসান উল্লাহ। আলোচনা সভা শেষে শিশু একাডেমি ও জেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে আয়োচিত চিত্রাংকন, দেশাত্ববোধক গান, আবৃত্তি প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরন করা হয়। পাশাপাশি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে হতদরিদ্র মুক্তিযোদ্ধাকে দেয়া হয়েছে সম্মাননা ও আর্থিক সহায়তা। এছাড়াও জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জেলার ১০টি উপজেলায় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এছাড়া বরিশাল প্রেসক্লাবের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে শিশুদের চিত্রাংকন ও মুক্তিযুদ্ধের প্রশ্নোত্তর প্রতিযোগিতা। সকাল ৯টায় সংগঠন কার্যালয়ে বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটি আয়োজন করে মুক্তিযুদ্ধের কথা, মুক্তিযোদ্ধা সম্মাননা প্রদান, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরন অনুষ্ঠান। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর ড. হারুনর রশিদ’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয় মহান স্বাধীনতা দিবসের আলোচনা সভা।
এদিকে বরিশাল সাধীনতা দিবস উদযাপনে পুষ্পার্ঘ অর্পন ছাড়াও পৃথক পৃথক ভাবে আলোচনা সভা করেছে বরিশাল জেলা ও মহানগর বিএনপি।
তাদের পাশাপাশি আলোচনা সভা করেছে বরিশাল মহানগর আওয়ামীলীগ। ২৬ মার্চ সন্ধ্যায় নগরীর সদর রোডের শহীদ সোহেল চত্তর সংলগ্ন আওয়ামীলীগের দলীয় কার্যালয়ে কমিটির সাধারন সম্পাদক এ্যাড. আফজালুল করিম’র সভাপতিত্বে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এর পূর্বে নগর আওয়ামীলীগের কর্মসূচীর অংশ হিসেবে সকালে সোহেল চত্তরের দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় এবং দলীয় পতাকা উত্তোলন করে নেতা-কর্মীরা। পরে দলীয় কার্যালয়ে জড়ো হয়ে শহীদ বেধিতে পুষ্পার্ঘ অর্পন করেন তারা।
এছাড়া স্বাধীনতা দিবস উদযাপনে নানা কর্মসূচী পালন করেছে বরিশাল জেলা আওয়ামীলীগ নেতা-কর্মীরা। সকাল থেকেই মহান স্বাধীনতা দিবস এবং শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে নগরীর প্রতিটি সরকারী, বেসরকারী ও স্বায়ত্বশাসিত সকল প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। দুপুরে প্রতিটি সরকারী হাসপাতাল, কারাগার ও এতিম খানায় খাওয়ানো হয় বিভিন্ন প্রকার উন্নত মানের খাবার। এছাড়া সন্ধ্যায় সরকারী ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে আলোক সজ্জা করা হয়।
এসব ছাড়াও ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালনে নৃত্যানুষ্ঠান, ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সম্মাননা প্রদান সহ নানা কর্মসূচি পালন করেছে বরিশালের বিভিন্ন বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও উন্নয়ন সংগঠনগুলো।
২৬ মার্চ উপলক্ষ্যে সকালে জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে জাতীয় ও দলের পতাকা উত্তোলন করা হয়। বিকেল ৫টায আলেকান্দা কার্যালয়ে মহানগর সভাপতি জসিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা হয়। বাংলাদেশ টিএন্ডটি শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেল ইউনিয়ন বিবিএ’র আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি মোঃ এনায়েত হোসেন ও বেতার বিভাগীয় কমিটির সভাপতি মোঃ নুরুল আমিন আকনের নেতৃত্বে আ’লীগের সকল কর্মসূচীতে অংশগ্রহন করে। এছাড়াও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতিতে পুস্পস্তবক অর্পন করে। সাহেবের হাট শহীদ জিয়াউর রহমান ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নাহিদা পারভিনের সভাপতিত্বে সকাল ১০টায় আলোচনা সভা ও অনুষ্ঠান করা হয়। কাউনিয়া বালিকা আলিম মডেল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মোঃ আমির হোসেনের সভাপতিত্বে দিবসটির তাৎপর্য শিক্ষার্থীদের কাছে তুলে ধরা হয়। এ সময় জাতীয় পতাকা উত্তোলন, কুরআন তেলাওয়াত, আলোচনা সভা ও বঙ্গবন্ধুর জীবন কীর্তির উপর আলোকচিত্র প্রদর্শন করা হয়। বাঘিয়া গাউসুল আজম মহিলা দাখিল মাদরাসার সুপার মাওলানা মোঃ সোহরাব হোসেনের সভাপতিত্বে দিবসটি যথাযোদ্য মর্যাদার সাথে উদযাপন করা হয়েছে। এ সময় আলোচনা সভা সহ মিলাদ মাহফিল ও দোয়া মোনাজাত করা হয়। স্বাধীনতা দিবসে জাতিয় শিক্ষক কর্মচারী ফ্রন্টের উদ্যোগে এক আলোচনা সভা করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন অধ্যক্ষ তোফাজ্জেল হোসেন। স্বাধীনতা দিবসে বাংলাদেশ কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি (বাকবিশিস) এর আঞ্চলিক কমিটির সম্পাদক জলিলুর রহমান এবং জেলা কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ্য মশিউর রহমান এর নেতৃত্বে সকাল ৭টায় মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভে পুস্পস্তবক অর্পন করা হয় এবং বিকেলে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। বরিশাল জেলা ও মহানগর জিয়া পরিষদের উদ্যোগে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন মহানগর সভাপতি এ্যাডঃ আকতার হোসেন মেবুল। এছাড়াও বাংলাদেশ কমিউনিষ্ট পার্টি, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র, জাতীয় নারী শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, বাংলাদেশ যুুব ইউনিয়ন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট, বিজ্ঞান মঞ্চ, বরিশাল জেলার যৌথ উদ্যোগে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে নাজির মহল্লা মোড়ে গণ জমায়েত অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় সভাপতিত্ব করেন শ্রমিক নেতা এ্যাডঃ এ.কে আজাদ। এসব অনুষ্ঠানে প্রতিটি সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃনন্দও উপস্থিত ছিলেন।