স্পেনের বিদায়

অনলাইন ডেস্ক ।।বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিল ইউরো ও গতবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেন। সেই সঙ্গে শেষ হলো এক অধ্যায়ের। শুধু নিয়ম রক্ষার একটি ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামার সুযোগ পাবে জাভি-ইনিয়েস্তারা।

অতীতের সকল পরিসংখ্যান উল্টে বুধবার রাতের দ্বিতীয় ম্যাচে স্পেনকে ২-০ গোলে হারিয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করল চিলি। আর এই ম্যাচের মধ্য দিয়েই নির্ধারিত হয়ে গেল ‘বি’ গ্রুপের ভাগ্য। ৬ পয়েন্ট নিয়ে হল্যান্ড আর চিলি দ্বিতীয় রাউন্ডের টিকিট পেয়ে যাওয়ায় বিদায় নিশ্চিত হয়ে গেল বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেন ও অস্ট্রেলিয়ার। এর আগে স্পেন ও চিলি মুখোমুখি হয়েছে মোট ১০ বার। এরমধ্যে আটটি খেলাই জয় পেয়েছে স্পেন। বাকি দুই ম্যাচ ড্র হয়। ২০০৬ সালের পর থেকে পরপর দুই ম্যাচ হারেনি স্পেন। অথচ এই বিশ্বকাপে হল্যান্ড ও চিলির কাছে পরপর দুই নাস্তানাবুদ হলো বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।

নিজেদের প্রথম ম্যাচে হল্যান্ডের কাছে ৫-১ গোলে হেরে অনেকটাই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন দেল বস্কের শিষ্যরা। সেই হতাশার বৃত্তেই মারাকানাতে তাদের জন্য রচিত হলো সমাধি। মৃত্যু হলো টিকি টাকার!

খেলার প্রথম থেকেই গোলের জন্য মরিয়া ছিল স্পেন। মাঝে মাঝে লং পাসেও খেলতে থাকে জাভি ইনিয়েস্তরা। ৯ মিনিটে ইনিয়েস্তা ও ১৫ মিনিটে কস্তার দুইটি ভালো প্রচেষ্টা রুখে দেন চিলির গোলরক্ষক। ২০ মিনিটের মাথায় প্রথম সুযোগ পেয়ে কাজে লাগাই চিলি। গোল মুখে ক্যাসিয়াসের সামনে পড়া একটি বল দারুণভাবে স্পেনের জালে জড়ান ভারগেজ। জাবি আলানসোর একটি দুর্বল পাসের কারণেই এই বিপদ ভর করে স্পেন শিবিরে। ৪৩ মিনিটে চিলিকে আরো এগিয়ে দেন আরাঙগুইজ। ২-০ গোলে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় চিলি।

দ্বিতীয়ার্ধে বেশ কয়েকটি ভালো আক্রমণ হলেও গোলে দেখা পায়নি কোনো দলই।

ক্যামেরুনকে উড়িয়ে দিল ক্রোয়েশিয়া

ক্যামেরুনকে গোল বন্যায় ভাসিয়ে দারুণ এক জয় ছিনিয়ে নিয়েছে ক্রোয়েশিয়া। বৃহস্পতিবার ভাের রাতের ম্যাচে আফ্রিকার অদম্য সিংহদের ৪-০ গোলে হারিয়েছে তারা। এই পরাজয়ের মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেল ক্যামেরুন।

খেলার ১০ মিনিটের মাথায় ওলিক গোল করে এগিয়ে নেন ক্রোয়েশিয়াকে। প্রথমার্ধের খেলা শেষে ১০- গােলে এগিয়ে থাকে ক্রোয়েশিয়া। দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচে ফেরা তো দূরে থাক আরও তিনটি গোল হজম করে বিশ্বকাপ থেকেই ছিটকে যায় ক্যামেরুন।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ৪৮ মিনিটের মাথায় দলের পক্ষে দ্বিতীয় গোলটি করেন পেরিসিক। এরপর ৬১ ও ৭৩ মিনিটে দুটি গোল করে দলের জয় নিশ্চিত করেন মানজুকিচ।

 

অজিদের হারালো ডাচরা

গেলবারের দুঃখ ভূলে অধরা প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছে বর্তমান রানার্স আপ ও ২০১৪ বিশ্বকাপের অন্যতম ফেবারিট নেদারল্যান্ডস। গতকাল বুধবার রাতে ব্রাজিলের পোর্তো অ্যালেগ্রোতে ‘বি’ গ্রুপের এ খেলায় অস্ট্রেলিয়াকে ৩-২ গোলে হারায় ডাচরা। আগের খেলায় স্পেনকে বিধ্বস্ত করার পর মেমফিস ডেপের গোলটি নেদারল্যান্ডসকে টানা দ্বিতীয় জয়টি এনে দেয়।

নেদারল্যান্ডসের আরিয়ান রোবেন ২০তম মিনিটে দলকে এগিয়ে দিয়েছিলেন। দুর্দান্ত বেগে এগিয়ে গিয়ে কোনাকুনি শটে দলকে এগিয়ে দিলে তা এক মিনিটের বেশি ধরে রাখতে পারেনি তারা।

ডাচরা ভাবতে পারেনি বিশ্ব র্যাংকিং বিচারে এবারের প্রতিযোগিতায় সবচাইতে দুর্বল দল অস্ট্রেলিয়া তাদের বিরুদ্ধে বুক চিতিয়ে দাড়িয়ে দুইবার তাদের জালে বল পাঠাবে। কোচ লুই ফন গলের দল যাই ভেবে থাকুক না কেন অস্ট্রেলিয়ার এক গোলে পিছিয়ে পড়ার পরের মিনিটেই সমতা ফেরায় অভিজ্ঞ টিম কাহিলের বাম পায়ের কড়া শটের লক্ষ্যভেদে।

অস্ট্রেলিয়া এরপর ৫৪ মিনিটে অধিনায়ক মাইল জেডিনাকের গোলে ডাচদের বিষ্ময়ে বিমুঢ় করে ২-১ গোলে এগিয়েও যায়। তবে এটি ছিল রেফারির সংশয় জাগানো এক পেনাল্টির সিদ্ধান্তে পাওয়া গোল।

আগের খেলায় স্পানিশদের ৫-১ গোলে হারানোর পর বাড়তি আত্নবিশ্বাস নিয়ে খেলতে নামা পার্সির দল অবশ্য তাতে ভড়কে যায়নি। বরং বাড়তি উদ্যমে খেলে ১০ মিনিটের ব্যবধানে দুই গোল দিয়ে দ্বিতীয় জয়ের পথে এগিয়ে যায়। ৫৮ মিনিটে দলকে আবারো এগিয়ে দেয়ার কাজটি করেন ম্যানচেষ্টার ইউনাইটেডের স্ট্রাইকার পার্সি। অধিনায়ক পার্সির এটি জাতীয় দলের হয়ে ১৭তম গোল। ৬৮ মিনিটে মেমফিস ডেপের গোল ডাচদের জয়টি নিশ্চিত করে দেয়।

অস্ট্রেলিয়া গ্রুপের প্রথম খেলায় চিলির কাছে ৩-১ গোলে পরাস্ত হয়েছিল বলে এদিন মরিয়া তাগিদেই খেলতে নামে এবং সাহসী লড়াই উপহার দেয় দর্শকদের। এমনকি পিছিয়ে শেষ মিনিটগুলোয় হাল ছাড়েনি এশিয়ার হয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপে খেলতে যাওয়া দেশটি।