সৈয়দ আনিচের নেতৃত্বে ২৩ শতাংশ জমি দখলের চেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ নগরীর বেলতলা এলাকায় আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা সৈয়দ আনিচের নেতৃত্বে তিনটি পরিবারকে উচ্ছেদ করে ২৩ শতাংশ জমি দখলের চেষ্টা চালানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় ১১০ বছরের বৃদ্ধ সহ তিন পরিবারের সদস্যদের বেদম মারধর করে ঘরে থাকা মালামাল লুটপাট ও ভাংচুর করা হয়। তখন বেশ কিছু আসবাবপত্র বাইরে ফেলে দেয়া হয়। নগরীর কালীবাড়ী রোডের ভাড়াটিয়া বাসিন্দা ভূমিদস্যু মুনসুর আলী ফকিরের সাথে চুক্তিতে সৈয়দ আনিচ ওই জমি দখলে নিতে মাঠে নামেন বলে স্থানীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে। পুলিশের কারণে জমি দখলে ব্যর্থ হয়ে আনিচ কোতোয়ালী মডেল থানার এসআই হেলালুজ্জামানকে শত শত লোকের সামনে চাকরি খেয়ে ফেলার হুমকি দেন।
এলাকাবাসী ও উচ্ছেদকৃত পরিবারের সদস্যরা জানান, নগরীর বেলতলা বাজারের পাশে বাৎসরিক ভিত্তিতে ইজারা নিয়ে ২৩ শতাংশ সরকারী জমিতে গত ৫০ বছর ধরে বাস করছেন মতিউর রহমান, মাওলানা রফিকুল ইসলাম ও মাওলানা খলিলুর রহমানের পরিবার। ওয়ারিশ সূত্র দীর্ঘদিন ধরে ওই জামি দাবি করে আসছে মুনসুর আলী নামের এক ব্যক্তি। জমি দাবি করলেও তিনি কোনদিন ওই জমির পক্ষে কোন কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। কাগজপত্র না থাকায় মুনসুর জমি দখল নেয়ার জন্য আদালত কিংবা কোন আইনশৃংখলা বাহিনীর কাছেও যাননি।
গতকাল রোববার আকস্মিকভাবে আওয়ামী লীগ নেতা সৈয়দ আনিচ নগরীর বিভিন্ন স্থান থেকে সন্ত্রাসী ভাড়া করে এনে ওই তিনটি পরিবারের উপর হামলা চালায়। আনিচের উপস্থিতিতে সন্ত্রাসীরা তিনটি পরিবারের সদস্যদের বেদম মারধর করে বসত ঘরে থাকা মালামাল লুটপাট ও ভাংচুর চালায়। এক পর্যায়ে সন্ত্রাসীদের নির্যাতনে ওই তিন পরিবারের সদস্যরা ঘর ছেড়ে বাহিরে বের হতে বাধ্য হয়। তাদের নির্যাতনের হাত থেকে রক্ষা পায়নি পরিবারগুলোর শিশু সন্তানরাও। এ সময় ১১০ বছরের বৃদ্ধ জেলা জজ আদালতের সাবেক প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ মতিউর রহমানকে লাঞ্ছিত করে দখল সন্ত্রাসীরা। এ দখল প্রক্রিয়ায় অংশ নেয় অর্ধশত মহিলাও। এলাকাবাসী সবকিছু দেখলেও ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী নেতা সৈয়দ আনিচ সেখানে উপস্থিত থাকায় সকলে নিশ্চুপ ভূমিকা পালন করেন।
তার রক্ত চক্ষু উপেক্ষা করা কারো সাধ্য ছিল না অসহায় পরিবার গুলোকে সাহায্য করার। ওই সময় তার সাথে অবস্থান করছিল নগরীর দখলবাজ হিসেবে খ্যাত মুনসুর। এলাকাবাসী জানায়, মুনসুর ওই জমি দখলে নিতে আনিচের সাথে মোটা অংকের টাকা চুক্তিবদ্ধ হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী আনিচ দাড়িয়ে থেকে ওই জমি দখলে নেয়ার চেষ্টা চালিয়েছে। দখলে বাধা দেয়ায় কোতয়ালী মডেল থানার এসআই হেলালুজ্জামানের উপর রুষ্ট হন আওয়ামী লীগ নেতা সৈয়দ আনিচ। এসআই হেলালুজ্জামানের চাকরি খেয়ে ফেলার হুমকি দেন তিনি। তবে এসব ঘটনা অস্বীকার করেছেন আওয়ামী লীগ নেতা সৈয়দ আনিচ। এ ব্যাপারে কোতোয়ালী মডেল থানার সহকারী কমিশনার আসাদুজ্জামান জানান, ঘটনাস্থলে গিয়ে পূর্বে বসবাসকৃত তিনটি পরিবারকে তাদের ঘরে উঠিয়ে দেয়া হয়েছে। উভয় পক্ষকে কাগজপত্র নিয়ে থানায় আসার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এখন পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।