সেতু থেকে ঝাঁপ দিয়ে ছাত্রীর আত্মহত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ সেতু থেকে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়ছে। গত ৩৪ দিনের ব্যবধানে শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত সেতু (দপদপিয়া) থেকে কীর্তনখোলা নদীতে ঝাঁপ দিয়ে দুই তরুণী আত্মহত্যা করেছে। এছাড়াও ওই সেতু নির্মাণের পর পরই ঝাঁপ দিয়ে আরো দুই জন আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিল।
গতকাল শনিবার ওই সেতু দিয়ে ঝাঁপ দিয়ে কলেজ ছাত্রী শামীমা নাসরিন ওরফে আশামনি (২৩) আত্মহত্যা করে। সে নগরীর রূপাতলী এলাকার সোহাগ ভিলার ভাড়াটিয়া পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত হাবিলদার এনামুল হকের মেয়ে এবং সে নগরীর চাঁদমারীর এ্যাডভান্স ইন্সটিটিউট অব হেলথ এন্ড টেকনোলজীর ছাত্রী ছিলো।
এর আগে গত ১২ মার্চ বরিশাল নার্সিং কলেজের পুরাতন প্রথম বর্ষের ছাত্রী আখি গাইন (২০) ঝাঁপ দেয়। সে বানারীপাড়া উপজেলার কচুয়া এলাকার মৃত. অমল চন্দ্র গাইনের কন্যা। ঝাঁপ দিয়ে নিখোঁজের ৫৭ ঘন্টা পর কীর্তনখোলা নদীর দপদপিয়া পুরাতন ফেরিঘাট এলাকা থেকে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা তার লাশ উদ্ধার করে।
আশামনির আত্মহত্যার বিষয় সম্পর্কে কোতয়ালী থানার এএসআই মো. ফারুক জানান, বিকেলে সেতু থেকে কীর্তনখোলা নদীতে ঝাঁপ দেয়। তখন নদীতে বালু উত্তোলনরত বলগেটের শ্রমিকরা আশামনিকে উদ্ধার করে শেবাচিম হাসপাতালে নিয়ে যায়।
শের-ই- বাংলা মেডিকেলের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক ডা. দাশ রনবীর জানান, আশামনিকে হাসপাতালে ভর্তির আগেই তার মৃত্যু হয়।
পুলিশ জানায়, আশামনির স্বামী মো. মামুন ঢাকায় তিতাস গ্যাস কোম্পানীতে চাকুরী করেন। দীর্ঘ দিন ধরে তিনি আসেন না এবং স্ত্রীর খোঁজখবর নেয় না। পারিবারিক বিরোধের কারণেই আশামনি আত্মহত্যা করতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।
এদিকে আশামনির বাবা এনামুল হক জানান, তার মেয়ে মানসিক বিকারগ্রস্ত ছিলো। তার আত্মহত্যার কারণ তিনিও জানেন না।