সু-সময়ের অপেক্ষায় বিএনপির নেতারা

সাইদ মেমন ॥ বরিশাল জেলা ও মহানগর বিএনপি সহ অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীদের রাজনৈতিক কর্মসূচীতে অংশগ্রহনের মানোবল চূড়ান্ত পর্যায়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। কর্মীদের সংগঠিত করায় নেতাদের ব্যর্থতা ও বিপদে পাশে না দাড়ানোয় এই অবস্থা বলে তৃণমূলের নেতারা জানিয়েছেন। বর্তমানে নেতাদের গা বাচিয়ে চলার কারনে কোন কর্মসূচীতে তেমন কোন নেতা কর্মীদের উপস্থিতি থাকে না। দলের সাধারন পর্যায়ের জনপ্রিয়তাকে পুজি করে নেতারা সুসময়ে সক্রিয় হওয়ার ভাবভঙ্গির কারনে সকল আন্দোলন সংগ্রামে ব্যর্থ হচ্ছে তারা।
এই কারনে সর্বশেষ খালেদা জিয়ার গাড়ি বহরে হামলার হরতাল পালনে কোন কর্মসূচী ছিলো না নগরী ও জেলায়। দলীয় চেয়ারপার্সনের গাড়িতে একের পর এক হামলার ঘটনায় কোন প্রতিক্রিয়া নেই বিএনপিসহ সহযোগি সংগঠনের নেতা-কর্মীদের মধ্যে। কেন্দ্রের ডাকে হরতালের সমর্থনে মিছিল তো দুরের কথা নগরীসহ জেলার বিস্তীর্ন এলাকার সড়কে সামান্য পিকেটিং হয়নি। লাগাতার অবরোধে যে পিকেটিং হয়েছে। তা তৃণমূল পর্যায়ের কর্মীরা করেছে। তা নেতারা জানতো না।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ছাত্রদল নেতা জানান, কেন্দ্রের চাপে নগরীর বিস্তীর্ন সড়কে পিকেটিং করতে উপস্থিত হয়। তারা পিকেটিং শুরুর পূর্বে দেখতে পান একটি বাসে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। খবর নিয়ে জানতে পারেন ছাত্রদল কর্মীর খাতায়ও নাম উঠেনি এমন কিশোর বয়সী কয়েকজন ওই অগ্নিসংযোগ করেছে। এভাবে অবরোধে অখ্যাত কর্মীরা পিকেটিং করেছে। যাতে জেলা ও মহানগরের তো নয়ই, তৃণমূলের নেতাদেরও কোন কৃতিত্ব নেই।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অপর এক নেতা জানায়, শুধু এখানকার নেতাদের জন্য নয়, কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতাদের গা বাচানো ভূমিকায় তৃণমূল পর্যায়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা থাকা সত্ত্বেও আন্দোলনে ব্যর্থ বিএনপি। তার মতে, কেন্দ্রীয় নেতারা যদি থাকতো তাহলে প্রশাসন এত কঠোর হতে পারতো না। এতে নগরীসহ সারা দেশে আন্দোলন সফল হতো ওই নেতা পরোক্ষভাবে চেয়ারপার্সন ও তার ছেলে তারেক রহমানের ভূমিকাকেও দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, সারাদেশে বর্তমানে সরকারের কর্মকান্ডে সাধারন মানুষরা ক্ষুব্ধ। তারা সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছে। কিন্তু তাদের নেতৃত্ব দেয়ার মতো নেতা না থাকায় সুযোগ পাচ্ছে না। চেয়ারপার্সনের কার্যালয়ে অবস্থান না করে রাজপথে অবস্থান করলে সরকার বিরোধী আন্দোলন জোরদার হতো। তাহলে এতদিনে সরকার নির্বাচন দিতে বাধ্য থাকতো। তার ঘরে অবস্থানের কারনে সাধারন নেতারা দুর্বল হয়ে পড়েছে। যার কারনে যে যার মতো আত্মগোপনে চলে গেছে। আর এর পুরোপুরি সুবিধা নিয়েছে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। রাজপথ থেকে কোন নেতাকে নিয়ে গুম করার সাহস পেতো না। কত আর গ্রেপ্তার করতে পারতো? বিএনপির যে জনপ্রিয়তা তাতে লাখো নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার সম্ভব নয়। রাজপথে কেন্দ্রের নিষ্ক্রিয়তার প্রভাব পড়ছে নগরীতে। আরেক নেতা বলেন, এখন যে অবস্থা চলছে তাতে যেকোন সময় গুম হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই কারনে সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় রয়েছি। যখন সুসময় আসবে তখন সক্রিয় হবো। অপর এক নেতা বলেন, এমনিতে বরিশাল বিএনপির ঘাটি। এখানে হাজার নয়, লাখো কর্মী রয়েছে। তাদের সবাইকে আইন রক্ষাকারী বাহিনী হয়রানি করছে। তাদের সকলের তো খবর রাখা সম্ভব নয়। আর এখানকার বর্তমান নেতারা দীর্ঘদিন ধরে সরকার বিরোধী কর্মসূচী পালনে অর্থ ব্যয় করতে করতে আর্থিক দৈন্যতায় পড়েছেন। তাদের পক্ষে কর্মীদের অর্থ সহায়তা দিয়ে সংগঠিত করে সক্রিয় করা যাচ্ছে না। যার কারনে আন্দোলন জমে উঠছে না। আরেক নেতা বলেন, বর্তমানে যে মামলা দেয়া হচ্ছে সকলগুলোর মধ্যে পুলিশের উপর হামলা সহ নাশকতার অভিযোগ আনা হচ্ছে। বর্তমান আন্দোলন সংগ্রামে সক্রিয় হলে একটি বা দুটি নয়, দেখা যাবে ২০/৩০টি মামলার আসামী হতে হবে। দলের জন্য এসব মামলার আসামী তা ক্ষমতায় এলে মনে থাকবে না। তখন আমাকে শীর্ষ সন্ত্রাসী উপাধি পেতে হবে। এতে পূর্বশুরী কয়েক নেতার পরিণতিতে পড়তে হবে। তাই নিষ্ক্রিয় থাকাই শ্রেয়। বেচে থাকলে আর টাকা থাকলে সুসময়ে নেতার কাতারে চলে যাওয়া যাবে বলে মন্তব্য করেন ওই নেতা। এছাড়াও সাংগঠনিক দক্ষতা ও কর্মী শূন্যতায় পদবী দেয়ায় সমস্যা হচ্ছে বলে এক নেতা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বরিশাল বিএনপিসহ সহযোগী সংগঠনে পদ-পদবী এক প্রভাবশালী নেতার আশির্বাদ পুষ্টরা পায়। পদ-পদবী ধারীদের কোন যোগ্যতা না থাকলেও চলে। প্রভাবশালী ওই নেতার আনুগত্য থাকা আর সময় অসময়ে তার হয়ে অর্থ খরচ করতে পারলেই নেতা হওয়া যায়। ওই প্রভাবশালী নেতার আলোচিত এই নিয়মের কারনে ত্যাগী ও সাংগঠনিক দক্ষতা সম্পন্ন নেতারা কোনঠাসা হয়ে পড়েছেন। ওই নেতার দক্ষদের কারনে নিষ্ক্রিয় থাকায় নগরীতে সংগঠিত হতে পারছে না বিএনপি সহ অঙ্গসংগঠনের নেতা কর্মীরা। কোনঠাসা একাধিক ত্যাগী ও দক্ষ নেতারা বলেন, ওই নেতার কারনে এখানে সাংগঠনিক ভিত মজবুত করতে কেউ কাজ করে না। সকলেই ওই নেতার সাথে সুসম্পর্ক মজবুত রাখতে ব্যস্ত। এখানের বিএনপি সহ অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের মাঝে এ চর্চা হওয়ায় ব্যর্থ হচ্ছে আন্দোলন সংগ্রাম। ওই নেতার মতে সকলেই সুসময়ের অপেক্ষায় এখানকার নেতাকর্মীরা।