সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে কবর খুঁড়ে কাফনের কাপড় পড়ে বিদ্রোহী প্রার্থীর আত্মহত্যার হুমকি

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে মুলাদীর কাজীরচর ইউপিতে কাফনের কাপড় পরিধান করে কবর খুঁড়ে বিদ্রোহী প্রার্থী ইঞ্জিঃ ইউসুফ আলী হাওলাদারের আত্মহত্যার হুমকি নিয়ে তুলকলাম কান্ড ঘটেছে। গতকাল শুক্রবার দুপুরের পর ওই প্রার্থীকে কবর থেকে উদ্ধার করে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে। সন্ধ্যায় বহিস্কৃত বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থক নারী পুরুষরা সড়ক অবরোধকালে পুলিশের সাথে সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে পুলিশকে টিয়ারসেল নিক্ষেপসহ লাঠিচার্জ করতে হয়েছে। কর্মী সমর্থকরাও পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেছে। এতে ওই প্রার্থীর ১০ নারী সমর্থক আহত হয়েছে।
আওয়ামীলীগের বহিষ্কৃত বিদ্রোহী প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইউসুফ আলী হাওলাদার মুলাদী উপজেলার জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রত্যক্ষদর্শী জানায়, ইউপিতে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে সাবেক চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার ইউসুফ আলী হাওলাদার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোটের লড়াইয়ে অবতীর্ন হয়। ইউপিতে জনপ্রিয় ওই প্রার্থীর প্রচার প্রচারণা ইতিমধ্যেই সাড়া জাগিয়েছে। এই কারণে আ’লীগ মনোনীত প্রার্থী মন্টু বিশ্বাসের সমর্থক খলিল পালোয়ান, অলি পালোয়ান ও শের-ই আলম পালোয়ানসহ ক্যাডাররা তার প্রচার-প্রচারণায় বাঁধা দিচ্ছে। এছাড়াও বিভিন্ন সময় তাকে ভোটের লড়াই থেকে সরে দাড়ানোর জন্য হত্যাসহ নানা হুমকি দেয়া হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেছেন। ক্যাডারদের ভয়ে প্রার্থী ও তার অনুসারীরা নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা এক প্রকার বন্ধ করে দিয়েছে।
বাধ্য হয়ে শুক্রবার সকালে তিনি কাজিরচর গ্রামের বাড়ীর সামনে নিজে কবর করেন। পরে কাফনের কাপড় পরিধান করে কবরে অবস্থান নেয়। ওই খবর পেয়ে তার সমর্থকরা বাড়ীর সামনে এসে জড়ো হয়। তাদের উদ্দেশ্যে প্রার্থী আগামী ২২ মার্চের ভোট সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ না হলে আত্মহত্যার হুমকি দেয় প্রার্থী ইউসুফ আলী। এই খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মাসুদসহ পুলিশ সেখানে যায়।
তখন জড়ো হওয়া সমর্থকরা প্রার্থীকে আটক করা হবে ধারণা করে। তার সমর্থকরাও কবরে গিয়ে অবস্থান নেয়। চারপাশে সমর্থকসহ উৎসুক জনতার ভীড় বাড়তে থাকে। দীর্ঘক্ষণ সমর্থক ও প্রার্থীকে ভোট সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার আশ্বাস দিয়ে কবর থেকে উঠিয়ে আনে প্রশাসনের কর্মকর্তারা। এরপর তাকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে যাওয়া হয়।
হাজার হাজার নারী পুরুষ সমর্থকরা তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ধারণা করে মুলাদী-প্যাদার হাট সড়কে শুয়ে পড়ে। এতে দুই ঘন্টা ধরে যানাবাহন চলাচল বন্ধ থাকে।
সন্ধ্যার আগে পুলিশ সেখানে গিয়ে সমর্থকদের রাস্তা থেকে সরে যাওয়ার আহবান করে। কিন্তু প্রার্থীকে ছেড়ে দেয়া না হলে সড়ক থেকে নড়বে না বলে অনঢ় থাকে সমর্থক নারী-পুরুষরা।
এক পর্যায়ে পুলিশ ৪/৫ রাউন্ড টিয়ারসেল নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করে তাদের সড়ক থেকে সরে যেতে বাধ্য করে। পুলিশের লাঠিচার্জে ইঞ্জিঃ ইউসুফ আলীর সমর্থক ১০ নারী-পুরুষ আহত হয়েছে বলে প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন।
পুলিশ হেফাজতে থাকা প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইউসুফ আলী মোবাইল ফোনে জানান, জনগণকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, তা রক্ষা করা প্রয়োজন। এর জন্য কি করা যায় ভেবে কোন উপায় খুজে পায়নি। ভোট যাতে সুষ্ঠু হয়। সেই জন্য ঢাকা পর্যন্ত গেছি। নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর আচরনে টেকা দায় হয়ে পড়ে। তারা ভোট কেন্দ্র দখল করে নৌকা প্রতীকে সিল মেরে ব্যালট বাক্স ভরার পরিকল্পনা করেছে।
এদিকে জনগন তাকে মাঠ থেকে সরে না দাড়ানোসহ যাতে ভোট দিতে পারেন সেই উপায় খুজে বের করার দাবি করেছে।
ভোটারদের তার উপর যে বিশ্বাস ও আস্থা তা আরো মজবুত করতে তিনি সুষ্ঠুভাবে ভোট দেয়ার ব্যবস্থার জন্য জীবন দিতে রাজি আছেন তা প্রমানে ওই কাজ করেছেন।
এর মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন ভোট কেন্দ্র দখল করে জাল ভোট দিতে হলে লাশের উপর দিয়ে যেতে হবে। সেই কবর তিনি আগেই খুড়েছেন। একই সাথে কাফনের কাপড় পরিধান করেছেন।
মুলাদী থানার ওসি মতিয়ার রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, প্রার্থী বর্তমানে তাদের হেফাজতে রয়েছেন। তবে লাঠিচার্জ ও টিয়ারসেল নিক্ষেপের কথা অস্বীকার করে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন ওসি।