‘সুরক্ষিত মানবাধিকার সমৃদ্ধ জীবন’ শীর্ষক গোল টেবিল বৈঠকে জেলা প্রশাসক ॥ মানবাধিকার লঙ্ঘনকারীদের রুখে দিতে হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ মানবাধিকার লঙ্ঘনকারীদের রুখে দিতে হবে বলে জানিয়ে জেলা প্রশাসক শহীদুল আলম বলেন, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় দেশের সুশীল সমাজকে খুব গুরুত্বপূর্ন ভুমিকা রাখতে হবে। শুধু মুখে মানবাধিকার নিয়ে কথা বললেই হবে না। তাদের রাজপথেও নামতে হবে। নগরীতে ‘সুরক্ষিত মানবাধিকার সমৃদ্ধ জীবন’ শীর্ষক গোল টেবিল বৈঠকে জেলা প্রশাসক এ কথা বলেন। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত গোল টেবিল বৈঠকে জেলা প্রশাসক আরো বলেন, কমিশনকে শুধুমাত্র ঢাকা কেন্দ্রীক কাজ করলে হবে না। প্রতিটি জেলা উপজেলা পর্যায়ে কাজ করতে হবে। জনবল বৃদ্ধি করতে হবে।

দৈনিক আজকের পরিবর্তনের সহযোগিতায় গতকাল শুক্রবার বরিশাল প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকের সভাপতিত্ব করেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সদস্য নিরুপা দেওয়ান।
বৈঠকের সভাপতি নিরুপা দেওয়ান বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় মানবাধিকার কমিশন এর আত্মপ্রকাশ ঘটে। এর পরে ২০০৯ সালে সর্ব প্রথম ৭ সদস্য বিশিষ্ট মানবাধিকার কমিশন গঠন করা হয়। এ কমিশন কার্যক্রম শুরু করে ২০১০ সাল থেকে। এছাড়া প্রতি বছরের ১০ ডিসেম্বর পালন হয়ে আসছে মানবাধিকার দিবস। এ বছরও মানবাধিকার দিবস পালন করা হবে।
মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা ও আইন বাস্তবায়নে উপস্থিত সকলের সুচিন্তিত মতামত এবং সহযোগিতার চেয়ে নিরুপা দেওয়ান বলেন, শুরুতে দেশের মানুষ মানবাধিকার মানে কি তা বুঝতা না। কিন্তু এখন মানবাধিকার মানে বুঝতে শিখেছে দেশের জনগন। আমরা চেষ্টা করছি মানবাধিকার সম্পর্কে সচেতনতা ও অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে। ইতোমধ্যে দক্ষিণাঞ্চল সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ইউনিয়ন পর্যায়ে মানবাধিকার কমিশন কাজ শুরু হয়েছে।
তিনি বলেন, যে যেই অবস্থায় রয়েছি, সেই অবস্থা থেকে কাজ করলে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠিত করা সম্ভব। আমরা চাই শুধু ঢাকা কেন্দ্রীক নয়। দেধের প্রতিটি জেলা এবং উপজেলা পর্যায়ে মানবাধিকার কমিশন এর কার্যক্রম ব্যাপক ভাবে চালু করতে।
আলোচনা কালে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা ও আইন বাস্তবায়নের বিষয়ে মতামত ব্যক্ত করে জেলা প্রশাসক মোঃ শহীদুল আলম বলেন, এ দেশে সমষ্টিগত ভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘন করা হচ্ছে। আর এর সাথে জড়িত মহা শক্তিশালীরা। এরা শক্তি আদায় করে শুধু মাত্র মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্যই। তাই মানবাধিকার কমিশনকেই এদের চিহ্নিত করতে হবে।
তিনি বলেন, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা এবং এর বাস্তবায়নে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। কেউ না আসলে একাই মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে এগিয়ে যেতে হবে। লক্ষ ঠিক থাকলে এক সময় দেখা যাবে অধিকার আদায়ের আন্দোলনে সংখ্যা গরিষ্ঠতা মিলবে এবং মানবাধিকার প্রতিষ্ঠাও হবে। আর সকলে মিলে মানবাধিকার লঙ্ঘনকারীদের প্রতিরোধ করতে হবে।
এছাড়া উপস্থিত আলোচিক বৃন্দ তাদের মতামত প্রকাশ করে বলেন, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা করার মুল দায়িত্ব রাষ্ট্রের। আর রাষ্ট্র দুর্বল তাই মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা সম্ভব হচ্ছে না। তারা আরো বলেন, মানবাধিকার কমিশন আছে। কিন্তু এর বাস্তবায়নে সরকারের তেমন কোন ভুমিকা নেই। যে মানবাধিকার নিয়ে কথা বলছে। সেই কমিশনের চেয়ারম্যানকে নিয়েই আপত্তিকর বক্তব্য দিচ্ছে পুলিশের কর্তা ব্যক্তি ও সরকার পক্ষের নেতারা। কিন্তু মানবাধিকার রক্ষায় সকলের আগে এগিয়ে আসার কথা শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী ও সরকার দলীয়দের। তা না করে তারাই মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বক্তারা। তাই এ অবস্থা থেকে সরকার ও শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীকে এগিয়ে আসতে হবে। তবেই মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব বলে দাবী করেন বক্তারা।
বক্তারা মানবাধিকার কমিশনকে শক্তিশালী করন এবং বিভিন্ন পর্যায়ে বিশেষ করে নারী ও শিশু নির্যাতন, সংখ্যালঘু নির্যাতন, শিক্ষা স্বাস্থ্য খাতে মানবাধিকার লংঘনের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তুলে ধরেন।

গোলা টেবিল আলোচনা সভায় অন্যান্যদের মাঝে উপস্থিত থেকে মতামত প্রদান করেন বরিশাল প্রেসক্লাবের সভাপতি কাজী আবুল কালাম আজাদ, সাধারন সম্পাদক পুলক চ্যাটার্জী, সাবেক সভাপতি ও প্রবীন আইনজীবী এ্যাড. মানবেন্দ্র বটব্যাল, এ্যাড. এসএম ইকবাল, জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারন সম্পাদক মহসিন মন্টু, শিক্ষক নেতা ও ইসলামিয়া কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মহসিন উল ইসলাম হাবুল, বেসরকারী টেলিভিশন চ্যানেল ইন্ডিপেন্ডেন্ট এর বরিশাল প্রতিনিধি ও দৈনিক মতবাদের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মুরাদ আহম্মেদ, যুগান্তর বরিশাল ব্যুরো প্রধান আক্তার ফারুক শাহীন, মানবাধিকার জোট এর সভাপতি ডাঃ সৈয়দ হবিবুর রহমান, বরিশাল চেম্বার অব কমার্স এর পরিচালক মিনাল কান্তি সাহা, আভাস’র নির্বাহী পরিচালক রহিমা সুলতানা কাজল, মহিলা পরিষদের সভাপতি রাবেয়া খাতুন, ইসলামিয়া কলেজের সহযোগী অধ্যাপক ফয়জুন্নাহার শেলী, সেইভ দ্যা চিল্ডেন এর উপ-পরিচালক শহীদুল ইসলাম, উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান আপনজন এর গোপাল সরকার, বরগুনার তালতলি ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক ক্ষিঞ্চারী বিশ্বাস, সেইন্ট বাংলাদেশ এর নির্বাহী পরিচালক জাহাঙ্গীর কবির, প্রান্তজন এর নির্বাহী পরিচালক এসএম শাহজাদা প্রমুখ।