সুনশান নিরব নগরী

সাইদ মেমন ॥ নগরীর পরিবেশ গতকাল শুক্রবার ছিলো অন্য রকম। দিনভর সুনশান নিরবতায় কেটেছে। সামান্য কিছু যানবাহন চললেও তাতে যাত্রী ছিলো না। চালকদের মধ্যে ছিলো ঝিম-ঝিম ভাব। কয়েকজনের সাথে আলাপকালে জানিয়েছেন, প্রথম রোযা, শুক্রবার বন্ধের দিন ও প্রখর রৌদ্র তাপ।
মিলন নামে এক অটো চালক বলেন, জুম্মার নামাজের পর গাড়ী নিয়ে রাস্তায় নেমে তো অবাক। কারন হিসেবে তিনি বলেন, শুক্রবার বন্ধের দিন হওয়ায় যাত্রী কম থাকে। কিন্তু গতকাল তো রাস্তায় তেমন কোন লোকজন দেখাই যায়নি। নগরীর প্রধান সড়ক সদর রোডের উত্তর থেকে দক্ষিন প্রান্তে দেখা গেছে সামান্য কয়েকটি অটো ও দুই একটি রিকসা ছাড়া তেমন কোন যানবাহন ছিলো না। গুটি কয়েক দোকান খোলা থাকলেও কোন ক্রেতা পায়নি তারা। যানবাহনের হর্ন ও মানুষের কোলাহল নেই। সুনশান নিরবতায় নগরীকে পুরো অন্য রকম মনে হয়েছে। চিরচেনা মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধানের নগরী ছিলো গতকাল। অলি-গলির অবস্থা আরো ভয়াবহ। দিনের গলির অবস্থা গভীর রাতের আবহ নিয়ে এসেছিলো।
ঢাকা থেকে আসা এক ব্যক্তি তো নগরীর দৃশ্য দেখে হতবাক। তিনি বলেন, অনেকদিন পর বরিশাল নগরীতে এলাম। রাস্তায় কোন লোকজন নেই। সব মার্কেট বন্ধ। প্রথমে একটু খটকাই লেগেছিলো। সামান্য ভয়ও মনে উকি দিয়েছে।
ইফতারের পূর্ব মুহুর্তে কিছু লোকজন রাস্তায় দেখা গিয়েছে। কারো মধ্যে ব্যস্ততার ছাপ চোখে পড়েনি। প্রথম রোযার ক্লান্তি আর আলস্যে ভরা দৃশ্য ছিলো সকলের অবয়বে। চলনের গতি ছিলো মন্থর।
যেসব ব্যবসায়ীরা তাদের প্রতিষ্ঠান খুলেছিলো তাদের সাথে আলাপকালে জানিয়েছে, নগরীর এমন দৃশ্য কাছাকাছি সময়ে দেখেননি। বিক্রির কোঠা কারো-কারো প্রায় শুন্যের কোঠায় ছিলো। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলে শুধু শুধুই বিদ্যুৎ বিল উঠিয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন অনেকে।
নগরীর ফজলুল হক এভিনিউ এলাকার প্রথম শ্রেনীর সেলুনে গিয়ে তো অবাক। শুধু নরসুন্দরা রয়েছেন। তেমন কেউ ক্ষৌরকর্ম করতে আসেনি বলে জানিয়েছেন ক্ষৌরকাররা। বিকেল থেকে ইফতারের পর পর্যন্ত মাত্র আড়াইশ টাকার ক্ষৌরকর্মের কাজ করেছেন। সেলুনের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত যন্ত্র ছাড়াও বৈদ্যুতিক পাখা ও আলোক সজ্জার বিদ্যুত ব্যবহারের টাকাও উঠেনি।
নরসুন্দর গৌতম জানালেন, এই অবস্থা আরো অন্তত চার পাঁচদিন থাকবে। গতকাল প্রথম রোযা শতকরা ৯৫ ভাগ মুসলমানরা রেখেছেন। আস্তে আস্তে তা কমবে। তখন তাদের কাজ বাড়বে।
নগরীর বাসিন্দা পুলিশ সদস্য রাব্বানী জানান, জুমার নামাজ পড়ে বাসা থেকে বের হয়ে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেয়ার পরিকল্পনা করেছি। কিন্তু কেউ বাসা থেকে বের হয়নি। বাধ্য হয়ে মসজিদে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছি।
রোযা না রাখা আরেক নগরবাসী বললেন, রোযা না রাখলেও বের হয়ে পর্দার আড়ালে গিয়ে কিছু খেতে মন সায় দেয়নি। এছাড়া রোদ্রের তাপদাহ বাসা থেকে বের হওয়ার আগ্রহ কমিয়ে দিয়েছে। তাই দিনে একটিবারও বাসা থেকে বের হননি।
এছাড়া বছরের প্রথম ইফতার পরিবারের সাথে করার জন্য নগরবাসীকে ঘরবন্দী করে রেখেছে। আর এতে ফাঁকা সড়কের নগর অন্যরকম হিসেবে ধরা দিয়েছে।