সিদ্ধান্ত কার সঠিক কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের না মহানগর সভাপতির !!

সাইদ মেমন/ রুবেল খান ॥ ছাত্রলীগের মহানগর শাখার সভাপতি জসিম উদ্দিনের দ্বৈত ভূমিকার কারণে মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাস অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছে। কেন্দ্রের নির্দেশে সভাপতি জসিম উদ্দিন মেডিকেল কলেজ শাখার নবগঠিত কমিটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করে। যা ছাত্রলীগের মহানগর শাখার প্যাডে লিখিতভাবে কেন্দ্রে পাঠিয়েছে। তার ও সাধারণ সম্পাদকের অনুমোদিত কমিটির কার্যক্রম স্থগিত রাখার বিষয়টি শুধু গোপন রাখেনি। দৈনিক পরিবর্তন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর অস্বীকারও করেছে।
যার কারনে নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দ কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দকে শুভেচ্ছা জানানোর মিছিলে পাল্টা পাল্টি অবস্থান নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়েছে। নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখতে উভয় পক্ষ ক্যাম্পাসে মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে। যে কোন সময় বড় ধরনের রক্তক্ষয়ি সংঘর্ষের আশংকা করছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
দৈনিক পরিবর্তন পত্রিকায় ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসাইনের পাঠানো ওই পত্রে সভাপতি জসিম উদ্দিনের স্বাক্ষর রয়েছে।
সেই পত্রে লেখা (হুবহু) রয়েছে “নবগঠিত শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ শাখার ছাত্রলীগের সকল কর্মকান্ড সাময়িকভাবে স্থগিত করা হলো”।
সভাপতি জসিম উদ্দিন বলেন, আমরা মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগের কমিটি স্থগিত করিনি। তাছাড়া কেন্দ্র থেকে স্থগিত করা হয়েছে মর্মে এমন কোন নোটিশ আমি পাইনি। যে কারনে মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগের ওই কমিটিই বহাল রয়েছে।
জসিম উদ্দিন আরো বলেন, আমি শুনেছি মেডিকেল কলেজ কমিটি কেন বাতিল করা হবে না তা জানতে চেয়ে কেন্দ্র থেকে মহানগর সভাপতি এবং সম্পাদককে নোটিশ করবে। নোটিশের জবাবের উপর ভিত্তি করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। কিন্তু এমন কথা লোকমুখে শুনলেও এখন পর্যন্ত আমরাও কোন শোকজ নোটিশ পাইনি।
এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. জাকির হোসাইন পাল্টা প্রশ্ন করে বলেন, সিদ্ধান্ত কার সঠিক, কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের না মহানগর সভাপতির। মহানগর কমিটির সভাপতি বা সম্পাদক কি বললো সেটা বুঝে লাভ নেই। কেন্দ্রীয় কমিটি যে সিদ্ধান্ত দিয়েছে তাই বহাল থাকবে। এরপর তিনি কেন্দ্রের কাছে পাঠানো সভাপতি জসিম উদ্দিনের স্বাক্ষরিত ওই পত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পাঠিয়ে দিয়েছেন।
কমিটি স্থগিত রাখার বিষয় নিয়ে জাকির হোসাইন বলেন, মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগের কার্যক্রম আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। একই সাথে কমিটি গঠন নিয়ে পাওয়া অভিযোগ সম্পর্কে মহানগর সভাপতি এবং সম্পাদককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে। অভিযোগ তদন্তের পর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
মহানগর ছাত্রলীগ নেতাদের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সিদ্ধান্তের বিরোধীতা করার বিষয়ে কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. জাকির হোসাইন বলেন, কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের বাইরে ছাত্রলীগের কোন পদ-পদবিধারী নেতা বিরোধীতা করলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।