সিটি মেয়র পদে আ’লীগের মনোনয়ন পেতে প্রস্তুত প্রায় ডজন নেতা

রুবেল খান ॥ আর মাত্র এক বছর পরেই বরিশার সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন। সময় বাকি থাকলেও থেমে নেই সরকার দলীয় সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীদের দৌড়ঝাপ। অবশ্য অনেক আগেই বরিশাল জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে প্রার্থী হিসেবে সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ’র নাম চুড়ান্ত করে কেন্দ্র পাঠানো হয়েছে। তবে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নিয়ে নীতি নির্ধারনী মহলের ভাবনা ব্যতিক্রম। বিএনপি’র দুর্গ খ্যাত বরিশাল সিটি কর্পোরেশন মেয়রের আসনটি পুনরায় আওয়ামী লীগের ঘরে আনাই তাদের মুল লক্ষ্য। তাই তৃনমুলে জনপ্রিয়তার পাশাপাশি রাজনীতিতে দক্ষ সংগঠকের হাতেই নৌকার দায়িত্ব তুলে দেয়ার চিন্তা রয়েছে নীতি নির্ধারকদের। এ ক্ষেত্রে গোয়েন্দা প্রতিবেদনের উপরেও দৃষ্টি রাখবেন তারা। এদিকে নীতি নির্ধারকদের এমন চিন্তাধারা বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র প্রার্থীদের লাইন দীর্ঘ করে তুলছে। মাত্র কদিন পূর্বেও সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ সহ প্রার্থী হিসেবে দু’একজনের নাম শোনা গেলেও বর্তমানে অর্ধ ডজন ছাড়িয়েছে। আওয়ামীলীগে নতুন মুখ এবং ছাত্র প্রতিনিধি থেকে জ্যেষ্ঠ নেতাদের নামও উঠে আসছে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনী আলোচনায়। তবে এদের মধ্যে থেকে ৮ থেকে ৯ জন আসন্ন সিটি নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন চাওয়ার বিষয়ে মানসিকভাবে প্রস্তুতিও নিয়েছেন বলে জানাগেছে।
মনোনয়ন প্রত্যাশিদের তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ। এছাড়াও তালিকায় রয়েছেন বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীম, মহানগর আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি এ্যাড. আফজালুল করিম এবং শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবত এর পুত্র খোকন সেরনিয়াবাত।
এর বাইরেও যাদের নাম শোনা যাচ্ছে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ্যাড. গোলাম আব্বাস চৌধুরী দুলাল, নগর আ’লীগের সদস্য মাহামুদুল হক খান মামুন। এদের মধ্যে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম আব্বাস চৌধুরী দুলাল পরিস্থিতি বুঝে মনোনয়ন চাইবেন বলে জানিয়েছেন তার ঘনিষ্টজনেরা।
তাছাড়া মনোনয়ন দৌড়ে এখন পর্যন্ত যারা এগিয়ে আছেন তারা হলেন সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ, কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীম, খোকন সেরনিয়াবাত এবং এ্যাড. আফজালুল করিম। দলীয় নেতা-কর্মীরা বলছেন, উল্লেখিত চার জনের মধ্যে থেকেই আওয়ামী লীগের প্রার্থী নির্ধারন হবেন। তবে সে জন্য আরো কিছু সময় অপেক্ষা করতে হবে।
দলীয় হিসাব নিকাশ এমনটি হলেও তৃনমুল নেতা-কর্মীদের বিশাল অংশের দাবী ভিন্ন। তাদের দাবী সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহকে মনোনয়ন দিতে হবে। কেননা শওকত হোসেন হিরন এর মৃত্যুর পরে তিনিই মহানগর আওয়ামী লীগের অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছেন। মহানগর আওয়ামী লীগের পাশাপাশি সু-সংগঠিত করেছেন নেতা-কর্মীদেরও। সাদিক আবদুল্লাহ’র দক্ষ নেতৃত্বের কারনেই মহানগর আ’লীগ বর্তমানে একটি শক্ত ভিত্তিতে অবস্থান করছে বলে দাবী নেতা-কর্মীদের। আর তাই ইতিপূর্বে দু’বার জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগ সম্মিলিত ভাবে বরিশাল সিটি নির্বাচনে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন সাদিক আবদুল্লাহকে দেয়ার জন্য কেন্দ্রে চিঠিও লিখেছেন। এখন শুধু সিদ্ধান্তের অপেক্ষা।
এদিকে এ্যাড. আফজালুল করিমকেও শক্ত প্রার্থী হিসেবে দেখছেন দলের একাংশের নেতা-কর্মীরা। তারা বলছেন আ’লীগ সভানেত্রী বরিশালের আফজালকে এক নামে চেনেন। তাছাড়া তিনি দলের সভানেত্রীর অনুগত কর্মী। ইতিপূর্বে নেত্রীর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সংসদ সদস্য পদে মনোনয়ন চেয়েও সড়ে দাড়িয়েছিলেন তিনি।
অপরদিকে মেয়র প্রার্থী কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীম বিগত ওয়ান ইলেভেনের সময়ে বরিশাল সদর আসনে এমপি পদে আ’লীগের নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেন। তার বিপরীত বিএনপি’র শক্ত প্রার্থী মজিবুর রহমান সরোয়ার হওয়ায় নির্বাচতে তেমন গতি হয়নি তার। তবে আ’লীগের ইতিহাসে সদর আসনে তিনিই সর্বোচ্চ ভোট পেয়েছেন বলে দাবী জাহিদ ফারুক শামীমের। আর তাই আসন্ন সিটি নির্বাচেন তার অগ্রাধীকার থাকবে বলেও মনে করছেন তার অনুসারীরা।
তাছাড়া মহানগর আওয়ামী লীগের সদস্য মাহমুদুল হক খান মামুনও দলের নিবেদিত প্রান। তিনি রাজনীতিবীদ এবং সমাজ সেবক। গত সিটি নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছিলেন। এ নির্বাচনেও তিনি দলের মনোনয়ন চাইবেন বলে তার ঘনিষ্টজনরা জানিয়েছেন।
এদিকে হঠাৎ করেই বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন নিয়ে আলোচনায় উঠে আসেন শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত এর পুত্র খোকন সেরনিয়াত। তবে বরিশালে আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে তিনি পুরোটাই নিউ কামার। রাজনৈতিক অঙ্গনে তার ওপেন সমর্থন নেই বললেই চলে। কেননা আওয়ামীলীগের দু.সময়ে খোকন সেরনিয়াবাত’র খবর ছিলো না বলে দাবী মাঠের রাজনৈতিক কর্মীদের। তার মধ্যেই হঠাৎ করে নির্বাচনী আলোচনায় তার নাম উঠে আসায় নির্বাচনী ভাবনা নিয়ে অনেকটা হ-য-ব-র-ল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে তৃনমুলে। দলীয় নেতা-কর্মীরা বলছেন, সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ’র মনোনয়ন প্রাপ্তিতে বাঁধা হতে পারে খোকন সেরনিয়াবাত। চাচা-ভাতিজার মনোনয়ন লড়াইয়ে অন্য কারোর কপাল খুলতে পারে বলেও দাবী দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের।
তবে স্থানীয় পর্যায়ে আওয়ামীলীগের জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ বলেন, মনোনয়ন যে কেউ দাবী করতে পারেন। কিন্তু সিদ্ধান্ত দিবে মনোনয়ন বোর্ড এবং দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনা। বরিশালের রাজনীতির বিষয়ে তার আলাদা নজর রয়েছে। সব কিছু বুঝে শুনে সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী তিনি নিজেই চূড়ান্ত করবেন বলে মনে করছেন জ্যেষ্ঠ নেতারা। তবে সবকিছুর উপরে মনোনয়ন চূড়ান্ত করবেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেক হাসিনা এবং বরিশালের সিদ্ধান্ত তিনি নিজেই দিবেন।