সিটি টোল ইজারার দরপত্র স্থগিত

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের টেন্ডার সন্ত্রাসীর ফলে স্থগিত করা হলো বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের তিনটি প্রবেশ দারের সিটি টোল ইজারা কার্যক্রম। গতকাল মঙ্গলবার বিসিসি’র সচিব মো. খন্দকার আনোয়ার হোসেন স্বাক্ষরিত এক আদেশে ইজারা কার্যক্রম আপাতত স্থাগীত করা হয়েছে। সকাল ১০টার দিকে এই সংক্রান্ত একটি নোটিশ টানিয়ে দেয়া হয়েছে বিসিসি’র নোটিশ বোর্ডে। একারনে গতকাল দরপত্র দাখিলের শেষ দিন থাকলেও তা জমা নেয়া হয়নি বলে হাট বাজার শাখা সূত্র নিশ্চিত করেছেন।
নগর ভবনের হাট বাজার ও স্টল শাখার তত্তাবধায়ক নূর ইসলাম পরিবর্তনকে জানান, সোমবার বিসিসি’র আওতাধিন গরিয়ারপাড়, কালিজিরা ও রূপাতলীর নগরীতে প্রবেশ দ্বারের তিনটি সিটি টোল প্লাজা ইজারা দরপত্র বিক্রির শেষ দিন ছিলো। ইজারা দরপত্র বিক্রিকে কেন্দ্র করে ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ, জেলা, মহানগর ও বিএম কলেজ ছাত্রলীগের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এমনকি নেতা-কর্মীরা হাট বাজার শাখা দখল দিয়ে রাখায় দুপুর ১টা থেকে শেষ সময় বিকাল ৫টা পর্যন্ত দরপত্র বিক্রি করা সম্ভব হয়নি। এসব কারনে বিসিসি’র সচিব আপাতত ঐ তিনটি প্রবেশ দারের তিনটি সিটি টোল ইজারা কার্যক্রম আপাতত স্থাগিত করেছেন বলে জানান তিনি।
জানতে চাইলে বিসিসি’র সচিব মো. খন্দকার আনোয়ার হোসেন পরিবর্তনকে জানান, দরপত্র বিক্রিতে বাধা এবং সৃষ্টি জটিলতার কারনে আপাতত ইজারা কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। সিটি মেয়র আহসান হাবিব কামাল বরিশালে ফিরার পরে এই বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
উল্লেখ্য, নগরীতে প্রবেশের তিনটি সিটি টোল প্লাজার ইজারা গুছ প্রকিয়ায় নিতে না পেরে বরিশাল জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল হান্নান বাপ্পি, ২৫ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি মনির মোল্লা, সাধারন সম্পাদক বিদ্যুৎ কর্মকার পিংকুর আ’লীগ ও ছাত্রলীগের টেন্ডার সন্ত্রাসীদের সাথে ২৬ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি হুমায়ুন কবির, বিএম কলেজ অবৈধ কর্ম পরিষদের সহ-সভাপতি মঈন তুষার, সাধারন সম্পাদক নাহিদ সেরনিয়াবাত গ্রুপের টেন্ডারবাজদের মধ্যে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। এসময় তারা নগর ভবনের হাট বাজার শাখা দখলের পাশাপাশি মালামাল বিনষ্ট ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপর হামলার চেষ্টা করে। ফলে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আতংকে পালিয়ে যায়। সেই সুযোগে হাট বাজার শাখার তত্তাবধায়ক নূর ইসলামকে অপহরন করে অজ্ঞাত স্থানে তুলে নিয়ে আটকে রাখে ছাত্রলীগ ক্যাডার বাপ্পি ও ২৫ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের মনির মোল্লা ও পিংকু বাহিনী। যার ফলে দরপত্র বিক্রির শেষ সময় বিকাল ৫টা পর্যন্ত নূর ইসলাম ও পরিদর্শকের খোঁজ পায়নি কোন ঠিকাদাররা। এ নিয়ে গতকালের সংখ্যায় আজকের পরিবর্তনে প্রধান শিরো নামে একটি সংবাদ প্রকাশও হয়েছে।