সিটি টোলের সিংহভাগ যাচ্ছে নেতাকর্মীদের পকেটে

রুবেল খান॥ নগরীর প্রবেশদ্বারের তিনটি সিটি টোল থেকে লাখ লাখ টাকা আদায় হলেও তা জমা হচ্ছে না সিটি কর্পোরেশনের ফান্ডে। শুরু থেকে নামে মাত্র টোলের টাকা জমা হলেও সিহংভাগই চলে যাচ্ছে দলীয় নেতা-কর্মীদের পকেটে। যার ফলে অর্থ প্রাপ্তি এবং উন্নয়ন কর্মকান্ড থেকে বঞ্চিত হচ্ছে নগরবাসী।
বরিশাল সিটি কর্পোরেশন সূত্রে জানা গেছে, ২০১২ সালে প্রয়াত এমপি এ্যাড. শওকত হোসেন হিরন মেয়র থাকা কালে নগরীর তিন তিনটি পয়েন্টে সিটি টোল প্লাজা স্থাপন করেন। বিসিসি’র আয় বৃদ্ধি এবং উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে নগরীতে প্রবেশকারী পন্যবাহী যানবাহন থেকে সিটি টোল আদায় করা হতো। প্রতিটি বড় লোড ট্রাক থেকে ৫০ টাকা এবং ছোট লোড ট্রাক থেকে ৩০ টাকা হারে টোল আদায়ের বিধান চালু করা হয়। কিন্তু যে চিন্তাধারা নিয়ে গড়িয়ারপাড়, কালিজিরা এবং দপদপিয়ায় টোল প্লাজা স্থাপন করা হয়েছিলো সেই উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন হয়নি আদৌ। কেননা টোল প্লাজার কার্যক্রম শুরুর পর থেকে সিটি টোল বাবদ আদায় হওয়ায় অর্থের সিংহভাগই চলে যাচ্ছে রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের পকেটে। বর্তমান মেয়র দায়িত্ব গ্রহনের পরেও ঘটেনি এর কোন পরিবর্তন।
বিসিসি’র হাট বাজার শাখা সূত্রে জানা গেছে, ২০১২ সালে সিটি টোল প্লাজা স্থাপনের পরে আদৌ তা ইজারা দেয়া হয়নি। সাবেক মেয়রের সময় থেকেই ইজারা ছাড়াই দলীয় নেতা-কর্মীরা তিনটি টোল প্লাজা ভাগ বাটোয়ারা করে চালায়। কিন্তু তখনকার সময় নামে মাত্র কিছু টাকা বিসিসিতে জমা দেয়া হয়।
এদিকে বর্তমান মেয়র দায়িত্ব গ্রহনের পরে বিএনপি নেতা-কর্মীরা দখলে নেয় তিনটি টোল প্লাজা। এনিয়ে আওয়ামীলীগ এবং বিএনপি’র মাঝে কিছুটা বিরোধও হয়। এ দ্বন্দ্বের ফলে খানিক সময়ের জন্য বন্ধ থাকে টোল আদায় কার্যক্রম। শেষ পর্যন্ত আওয়ামীলীগ এবং বিএনপি নেতা-কর্মীদের সমঝোতার মধ্য দিয়ে পুনরায় শুরু হয় টোল আদায়। কিন্তু রূপাতলী সিটি টোল প্লাজা নিয়ন্ত্রন নিয়ে স্থানীয় দুই কাউন্সিলর’র কর্মী সমর্থকদের মধ্যে বিরোধ লেগেই থাকে। পরবর্তীতে ঐ টোল প্লাজাটি পুরোপুরি ভাবে বিসিসি’র হাট বাজার শাখার নিয়ন্ত্রনে চলে যায়। কিন্তু এর পরেও প্রাপ্তি বঞ্চিত রয়েছে বিসিসি।
খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, নগরীর গরিয়ারপাড় সিটি টোল প্লাজা নিয়ন্ত্রন করছেন আওয়ামীলীগ এবং বিএনপি’র নেতা-কর্মীরা। নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, এ টোল প্লাজাটি তিনটি টোল প্লাজার মধ্যে অন্যতম। এখান থেকে প্রতিদিন প্রায় ১০ হাজার টাকা আদায় হচ্ছে। কিন্তু সিটি কর্পোরেশনে জমা দেয়া হচ্ছে মাত্র চার থেকে সাড়ে ৪ হাজার টাকা।
কালিজিরা টোল প্লাজা নিয়ন্ত্রন করছেন স্থানীয় কাউন্সিলর ও বিএনপি নেতার লোকজন। এখান থেকে প্রতিদিন টোল আদায় হচ্ছে প্রায় দুই থেকে তিন হাজার টাকা। কিন্তু বিসিসিতে জমা দেয়া হচ্ছে ১৫শ টাকা।
এছাড়া রূপাতলী টোল প্লাজা নিয়ন্ত্রন করছে বিসিসি’র কর্মীরা। সেখান থেকে প্রতিদিন দুই হাজারের উর্ধে টোল আদায় হলেও জমা দেয়া হচ্ছে এক থেকে ১২শ টাকা।
এ তিনটি টোল প্লাজা থেকে আদায় হওয়া টাকার আংশিক বিসিসিতে জমা দেয়া হলেও বাকি টাকা চলে যাচ্ছে নিয়ন্ত্রনকারীদের পকেটে। শুধু তাই নয়, টোলের আংশিক যে টাকা বিসিসিতে জমা দেয়া হয় তা থেকেও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে হাট বাজার শাখায় দায়িত্বরতদের বিরুদ্ধে। প্রতিটি টোল প্লাজার জমা হওয়া টাকা থেকে পাঁচশ থেকে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত তারা আত্মসাত করে নামে মাত্র টাকা জমা দেয়া হচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছেন এ শাখায় কর্মরত নির্ভরযোগ্য কয়েকটি সূত্র।
তবে জমা হওয়া টাকা আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার করে হাট বাজার শাখার তত্ত্বাবধায়ক এস এম আবুল কালাম  বলেন, কোন রাজনৈতিক নেতারা নয়। শুধু মাত্র বিসিসি’র কর্মীরা সিটি টোল আদায় করছে। এছাড়া সেখান থেকে প্রতিদিন গড়ে ৫শ থেকে ৪ হাজার টাকা জমা হচ্ছে। এর মধ্যে গরিয়ারপাড় থেকে তিন থেকে ৪ হাজার, কালিজিরা টোল প্লাজা থেকে ৫/৭ শত টাকা এবং রূপাতলীর দপদপিয়া টোল প্লাজা থেকে এক হাজার থেকে ১২শ টাকা জমা হচ্ছে। যে টাকা জমা হচ্ছে তাই বিসিসি’র ফান্ডে জমা হচ্ছে বলেও দাবী করেন তিনি। তবে আগামী বছর থেকে তিনটি টোল প্লাজা ইজারার মাধ্যমে টোল আদায় করা হবে বলেও জানিয়েছেন এস এম আবুল কালাম  ।