সিটিএসবির কনষ্টেবল ও তার দুই পুত্রের বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর পুলিশ কমিশনারের কাছে নালিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ সিটি এসবি’র কনষ্টেবল (ওয়াচার) কবির ও তার গুনধর ছেলে শামিম আহসান সহ তিন পিতা পুত্রের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে নগরীর চাঁদমারী কলনির বাসিন্দারা। স্থানীয় ভাড়াটিয়া খ্যাত এই তিন পিতা-পূত্রের ঘুষ বানিজ্য, মাদক ব্যবসা আর অনৈতিক কর্মকান্ডে অতিষ্ঠ হয়ে অবশেষে নগর পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে এলাকার বাসীন্দারা। একই সাথে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য অভিযোগের অনুলিপি প্রদান করা হয়েছে পুলিশের আইজিপি, উপ-পুলিশ কমিশনার, সহকারী পুলিশ কমিশনার ও সিটি এসবি’র ডিআইও ওয়ানকে।
এ অভিযোগের ভিত্তিতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ইতিমধ্যে অভিযোগকারীদের স্বাক্ষগ্রহন সম্পন্ন হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন পুলিশ কর্মকর্তারা।
চাঁদমারী মাদ্রাসা কলোনীবাসী স্বাক্ষরিত মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (কোতয়ালী) বরাবর প্রেরিত অভিযোগ পত্র সূত্রে উল্লেখ্য করা হয়েছে, মাদ্রাসা কলোনীর ভাড়াটিয়া মেট্রোপলিটন পুলিশের সিটি এসবি’র কনষ্ট্রাবল কবির হোসেন ও ছেলে স্থানীয় রহিম-রূপবান ক্ষ্যাত একটি পত্রিকার হলুদ সাংবাদিক শামিম আহসান ও বখাটে মাদকাশক্ত ইভটিজার ওলি এমন কোন অসামাজিক এবং কু কাজ নেই যে তিন বাপ-ছেলে করেনি। তাদের অনৈতিক কর্মকান্ডের ফলে স্থানীয়দের পড়তে হচ্ছে ভোগান্তিতে। অভিযোগে বলা হয়েছে, সিটি এসবি’র কনষ্ট্রাবল কবির পূর্বে কেডিসি বস্তুতিতে ভাড়া থাকত। কিন্তু এখন সে বিলাশবহুল বাড়িতে ভাড়া থাকে। আর বলে বেড়ায় তিনি নগরীতে তিনটি বাড়ির মালিক। তিনি পাসপোর্ট অফিসের দালাল হিসেবে সুপরিচিত। ইতিপূর্বে দালালি করতে গিয়ে ধরা পড়ে সাময়িক বরাখান্ত হয়েছে কয়েকবার। বাবা পুলিশ ছেলে হলুদ সাংবাদিক হওয়ায় প্রভাব বিস্তার করে এলাকায় বসবাসকারীদের ভয় ভিতি প্রদর্শন ও জিম্মি করে অর্থ আত্মসাত ও অসামাজিক কর্মকান্ড করে বেড়ায়। হলুদ সাংবাদিক উপাধি পাওয়া শামিম নিজেকে মস্তবড় সাংবাদিক দাবী করে কলনীতে গাজা-ফেন্সিডিল সহ বিভিন্ন নেশা জাতীয় দ্রব্য বিক্রি করে যুব সমাজ ধ্বংসের পথে নিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। তবে এ বিষয়ে কেউ মুখ খুললে তাকে কালোবাজারী বানিয়ে পত্রিকায় মিথ্যা সংবাদ প্রকাশের হুমকি দেয় বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। সিটি এসবি’র কনষ্টেবল বেশে পাসপোর্ট অফিসের দালাল কবির এর ছোট ছেলে অলিও এলাকার চিহ্নত নেশাগ্রস্ত বখাটে ইভটিজার। সে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় পথে ঘাটে স্কুল-কলেজ গামি মেয়েদের বিভিন্ন ভাবে যৌন হয়রানি করে বেড়ায়। মেয়েদের ইভটিজিং করতে গিয়ে ইতিপূর্বে সে গনধোলাই খেয়েছে। স্থানীয় দুই কিশোরী লম্পট অলির লালশার শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। কিন্তু সামাজিক লোক-লজ্জা আর বাপ ছেলের ভয়ে তার মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না। তাছাড়া নোশার টাকার যোগান দিতে বাবা পুলিশ এবং ভাই মস্তবড় সাংবাদিক বলে প্রভাব খাটিয়ে সাধারন মানুষকে মারধর করে তাদের মোবাইল সেট ও টাকা ছিনতাই করে নিচ্ছে। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, অলি কলোনী সংলগ্ন ষ্টেডিয়ামে খেলোয়াড়দের ব্যাগ থেকে মোবাইল চুরির সময় ধরা পড়লে গনধোলাই দিয়ে তাকে ষ্টেডিয়াম থেকে বের করে দেয়া হয়। এ ঘটনায় অলি ও তার বখাটে সহযোগিরা ক্ষিপ্ত হয়ে খেলোয়াড়দের উপরে হামলা চালায়। আর এ হামলার ঘটনা চাঁপা দিতে ষ্টেডিয়ামের খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ প্রচার করেছে বলে অভিযোগ তোলা হয়েছে। অভিযোগে আরো বলা হয়েছে, এ ঘটনায় এলাকাবাসী স্থানীয় কাউন্সিলর এর নিকট অভিযোগ দিলে কাউন্সিলর সালিশ এর জন্য পুলিশ বাবা কবির ও তার ছেলে হলুদ সাংবাদিক শামীম আহসানকে ডাকলেও তারা সেখানে উপস্থিত হয়নি। উল্টো ষ্টেডিয়ামের খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগে মামলা দায়েরের হুমকি দিচ্ছে। এজন্য বিষয়টি তদন্ত করে পুলিশ-সাংবাদিক পিতা পুত্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য অভিযোগে দাবী জানানো হয়েছে।
এদিকে মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার মাহমুদ হাসান অভিযোগপত্রের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, অভিযোগ হাতে পেয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে তদন্ত শার্থে কমিটির সদস্যদের নাম প্রকাশ করতে অপারগতা প্রকাশ করেন তিনি। তবে সহকারী কমিশনার মাহামুদ হাসান জানান, গত বুধবার অভিযোগকারীদের স্বাক্ষ গ্রহন করা হয়েছে। এখন সরেজমিনে তদন্ত করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পেলে সিটি এসবি’র কনষ্টেবল কবির ও তার ছেলে হলুদ সাংবাদিক শামীম সহ তিন পিতা-পুত্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে জানান তিনি।