সার্ভে সনদবিহীন নৌযানের অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে উত্তাল মেঘনা পাড়ি

বিশেষ প্রতিবেদক ॥ ঈদ মৌসুমে হাজার হাজার মানুষকে জিম্মি করে অতি মুনফার লোভে বেসরকারি নৌযানের সাথে রাষ্ট্রীয় নৌ-বানিজ্য প্রতিষ্ঠানের সী-ট্রাকগুলোও অবৈধভাবে ধারন ক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে সাগর মোহনার ভাটি মেঘনা পাড়ি দিচ্ছে। বিআইডব্লিউটসি’র মৌসুমী ইজারাদারগন বরিশালÑলক্ষ্মীপুর ও ভোলাÑলক্ষ্মীপুর রুটের দুটি সীÑট্রাক বিগত দীর্ঘদিন ধরেই বন্ধ রাখলেও গত ঈদ উল ফিতরের আগে পরে অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই করে ভয়াল মেঘনা পাড়ি দেয়। দিন দশেকের মাথায়ই ‘এসটিÑখিজির-৭’ ও ‘এসটি খিজির-৮’ নামের সীÑট্রাক দুটি বন্ধ করে দেয়া হলেও ঈদ উল আজহাকে সামনে রেখে গত ৮ সেপ্টেম্বর থেকে পুনরায় এসব সীÑট্রাক যাত্রী পরিবহনে নামান হয়।
গত দিন দশেক যাবতই এসটি খিজির-৭ ও এসটি খিজির-৮’ মাত্রারিতিরক্তি যাত্রী বোঝাই করে ভয়াল ভাটি মেঘনা পাড়ি দিলেও তা দেখার কেউ নেই। তবে ইতোমধ্যে লক্ষ্মীপুরের ভ্রাম্যমান আদালত বরিশালÑলক্ষ্মীপুর রুটে চলাচলকারী একটি বেসরকারী নৌযানকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে। নৌযানটি সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তর থেকে সার্ভে সনদ সহ সরকারী সব নিয়ম কানুনের মধ্যেই চলছিল।
এমনকি সরকারী দুটি সীÑট্রাকের মধ্যে এসটি খিজির-৭’এর সার্ভে মেয়াদও শেষ হয়ে গেছে গত ২আগস্ট। নিয়ম অনুযায়ী মার্কেন্টাইল মেরিন ডিপার্টমেন্ট-এর নটিক্যাল সার্ভেয়ার উপকূলীয় নৌযানসমুহ পরিদর্শন করে তার সার্ভে সনদ প্রদান করে থাকেন। কিন্তু এ নৌযানটির সার্ভে মেয়াদ শেষ হলেও বিআইডব্লিউটিসি নৌযানটির প্রয়োজনীয় ডকিং সহ তার পরিপূর্ণ জরিপ সম্পন্ন করিয়ে সার্ভে সনদ গ্রহনের কোন উদ্যোগ নেয়নি। এমনকি সার্ভে সনদের আবেদনের জন্য যে সরকারি ফি জমাদানের নির্দেশনা রয়েছে তাও দেয়া হয়নি বলে জানা গেছে। তবে এব্যাপারে বিআইডিব্লিউটিসি’র দায়িত্বশীল কেউ কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।
অপরদিকে ভোলাÑলক্ষ্মীপুর রুটে চলাচলকারী ‘এলসিটি কুতুবদিয়া’ নামের আরেকটি বেসরকারি যাত্রীবাহী নৌযানেরও সার্ভে সনদ পেরিয়ে যাবার পরে প্রতিদিন অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে উত্তাল মেঘনা পাড়ি দিচ্ছে। এমনকি নৌযানটির তলার বিভিন্ন অংশে ফাটল ধরার পরলেও সিমেন্ট প্লাষ্টার করে ভয়াবহ ঝুঁকি নিয়ে কুতুবদিয়া পরিচালনা করছে এর মালিক কর্তৃপক্ষ।
১৯৮২সালে ডেনমার্ক সরকারের আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় বিআইডব্লিউটিসি যে ৪টি উপকূলীয় যাত্রীবাহী নৌযান সংগ্রহ করে এলসিটি কুতবদিয়া তার অন্যতম। বানিজ্যিকভাবে সফল না হওয়ায় বছর পনের আগে ‘চলাচলের অযোগ্য’ ঘোষনা করে নৌযানটি বিক্রি করে দেয় সংস্থাটি। একটি বেসরকারী প্রতিষ্ঠান এলসিটি কুতুবদিয়া কেনার পরে এর দ্বিস্তর তলার একটি স্তর খুলে ফেলা হয়। এখন হাত বদল হয়ে সে নৌযানটিও অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে ভোলাÑলক্ষ্মীপুর রুটে প্রতিদিন ধারন ক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী বহন করছে । অথচ তার নিরাপত্তার নুন্যতম সনদটুকুও নেই।
বিআইডিব্লিউটিসি’র সী-ট্রাক দুটিও ধারন ক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে প্রতিদিন ভোলাÑলক্ষ্মীপর ও বরিশালÑলক্ষ্মীপুর রুটে যাত্রী বহন করছে। অথচ এর মধ্যে ভোলাÑলক্ষ্মীপুর রুটের এসটি খিজির-৭’এর সার্ভে সনদ শেষ হয়ে গেছে গত ২ আগস্ট। আর বরিশালÑলক্ষ্মীপুর রুটের এসটি খিজির-৮’এর মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ১৫ ডিসেম্বর।
তবে একটি অসমর্থিত সূত্রের মতে ইজারাদারের স্বার্থেই এসব সীÑট্রাক সময়মত সার্ভে সনদ নবায়ন করা হয়না। কারন ঈদ মৌসুমে বাড়তি যাত্রী বহনের পরেই ইজারাদার এসব সীÑট্রাক পরিচালনায় অনিহা প্রকাশ করবে। কিন্তু চুক্তি অনুযায়ী দৈনিক ভাড়া গুনতে হবে ইজারাদারকে। নৌযানের বড় ধরনের কোন কারিগরি ও যান্ত্রিক ত্রুটি ছাড়াও সার্ভে সনদ না থাকলে ইজারাদার ঐসব কারনে সী-ট্রাকের পরিচালন বন্ধ রেখে ভাড়া প্রদান থেকে রেহাই পাবে। আর এ কাজেই পরক্ষোভাবে সহায়ক হবে এসব সী-ট্রাকের সার্ভে সনদ না থাকার বিষয়টি।
এসব বিষয় নিয়ে গতকাল মার্কেন্টাইল মেরিন ডিপার্টমেন্ট-এর পরিচালক ও প্রধান নটিক্যাল সার্ভেয়ারের সাথে টেলিফোনে যোগাযোগের বহু চেষ্টা করেও তা সম্ভব হয়নি।