সার্কেল এএসপির ভাইকে ওসির নির্যাতনের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ আগৈলঝাড়ায় রাস্তা দিয়ে ধরে নিয়ে সার্কেল এএসপি’র ভাইকে নির্মম নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এর বিরুদ্ধে। গতকাল শুক্রবার বেলা ১২টার দিকে আগৈলঝাড়া থানায় ওসির রুমের মধ্যে এ ঘটনা ঘটে। ওসি’র নির্মম লাঠি পেটায় সার্কেল এএসপি’র ভাই রাসেল পাইক (২০) এর একটি হাত ভেঙ্গে যাওয়া ছাড়াও শরীরের বিভিন্ন স্থানে ফুলা জখমের সৃষ্টি হয়েছে। তবে রাসেলকে থানায় রুমের মধ্যে আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আগৈলঝাড়া থানার ওসি মনিরুল ইসলাম।
আহত রাসেল আগৈলঝাড়া উপজেলার বাকাল ইউনিয়নের ফুলশ্রি গ্রামের মৃত আয়ুব আলী পাইক এর ছেলে। এছাড়া তার বড় ভাই মঈনুল হক কলাপাড়া থানার সার্কেল এএসপি। পেশায় রাসেল একজন ব্যবসায়ী।
তিনি জানান, গতকাল বেলা ১২টার দিকে জেলা ছাত্রলীগ নেতা সাগদর এবং মনির সহ তিনজনের সাথে মোটর সাইকেল যোগে আগৈলঝাড়া পোষ্ট অফিস সংলগ্নে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যাচ্ছিলেন। এসময় গৈলা হাসপাতালের পূর্ব পাশে আগৈলঝাড়া থানার ওসি মনিরুল ইসলাম ছাত্রলীগ নেতা মনিরকে ডেকে মোটর সাইকেলের গতিরোধ করে। এর একটু পরেই তাকে (রাসেল) ডেকে নিয়ে নাম পরিচয় যানতে চায় ওসি মনিরুল ইসলাম। রাসেল অভিযোগ করেন, তিনি নাম বলার সাথে সাথে ওসি তাকে চর থাপ্পর মারতে শুরু করে। এক পর্যায় তাকে ধরে নিয়ে যায় আগৈলঝাড়া থানায়। সেখানে নিয়ে তার ব্যবহৃত মোবাইল সেট আটকে কেড়ে নেয় এবং তাকে ওসি’র কক্ষে নিয়ে দরজা আটকে দেয়। সেখানো কোন কথা বা কোন প্রকার অভিযোগ ছাড়াই লাঠি দিয়ে পিটিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাক্তক ভাবে ফুলা জখম করে। এসময় বার বার ওসির হাত পা ধরে বাচার জন্য আকুতি জানালেও নির্দয় ভাবে পেটাতে থাকে ওসি। এতে তার বাম হাতের হাড় ভেঙ্গে যায়। পরবর্তীতে রাসেলের বন্ধুরা তাকে থানা থেকে উদ্ধার করে পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি অবহিত করেন। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য প্রথমে স্থানীয় এবং পরে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালের অর্থপেডিক্স বিভাগে ভর্তি করে।
থানার মধ্যে নিজ কক্ষে আটকে সার্কেল এএসপি’র ভাই রাসেলকে নির্মম ভাবে নির্যাতনের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আগৈলঝাড়া থানার ওফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনিরুল ইসলাম বলেন, রাসেল স্থানীয় নগর বাড়ি গ্রামের বাসিন্দা ও শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত ডিগ্রি কলেজের রুপান্তি নামে এক ছাত্রীকে উত্তক্ত করে আসছিলো। এজন্য ছাত্রীর পরিবার রাসেলের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাকে থানায় নিয়ে এসে সতর্ক করেন তিনি। ওসি আরো বলেন, রাসেল একজন পুলিশ কর্মকর্তার ভাই বিধায় তাকে কোন মামলায় দেয়া হয়নি। সতর্ক করার পরে তার বন্ধুদের সাথে রাসেল চলে গেছে। কিন্তু তাকে নির্যাতন বা মারধর করেননি বলে জানান তিনি।