সাদিয়া গনধর্ষন ও হত্যা ॥ প্রেমিক ও সহযোগি আদালতে জবানবন্দি দেবে আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ নগরীর বাংলাদেশ ইনষ্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি’র প্যাথলজি বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্রী সাদিয়া আক্তার (২১) গনধর্ষন ও হত্যার পর লাশ নদীতে ভাসিয়ে দেয়া মোবাইল ফোন প্রেমিক ও তার সহযোগিরা তাদের দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেবে। আজ তারা আদালতে জবানবন্দি দেবে বলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আব্দুল ওয়াহাব জানিয়েছেন। ওই দুইজন হলো-মোবাইল ফোন প্রেমিককে মো. সিরাজুল ইসলাম (২৫) ও সহযোগি সপ্তম শ্রেনী পড়–য়া ছাত্র হাফিজ (১৪)। সিরাজ মঠবাড়িয়া উপজেলার খেজুরবাড়ীয়া গ্রামের ইব্রাহিম হাওলাদারের ছেলে। হাফিজ মঠবাড়িয়ার বড় মাছুয়া ইউনাইটেড হাই ইনষ্টিটিউশনের ছাত্র ও একই এলাকার দেলোয়ার আকনের ছেলে।

তবে এখন পর্যন্ত ছাত্রী সাদিয়া আক্তারের লাশ উদ্ধার হয়নি। উদ্ধারের সম্ভাবনাও খুবই ক্ষীন। একইভাবে ঘটনায় জড়িত অপর আসামী নাজমুল ইসলাম নয়ন ওরফে সমীরকেও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। সে বাগেরহাটের শরনখোলার মালিয়া রাজাপুর এলাকার আব্দুর রব হাওলাদারের ছেলে। গ্রেপ্তারকৃত দুই আসামী সিরাজ ও হাফিজকে নিয়ে গতকাল সোমবার কোতয়ালী মডেল থানায় সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। সেখানে সাদিয়াকে গনধর্ষন ও হত্যার পর লাশ নদীতে ভাসিয়ে দেয়ার ঘটনার বর্ননা করেছে পুলিশ। নির্মম ও লোমহর্ষক ঘটনার শিকার ছাত্রী সাদিয়া নগরীর ২৭ নং ওয়ার্ডের ডেফুলিয়া খান বাড়ীর আলমগীর হোসেন খানের কন্যা। নগরীর ২৩নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মামা জালাল হাওলাদারের বাসায় থেকে পড়াশুনা করতো।
সাদিয়াকে গনধর্ষন ও হত্যার বিষয়ে কোতয়ালী মডেল থানায় সংবাদ সম্মেলনে দুই আসামীর পুলিশের কাছে দেয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী জানানো হয়, গত ১৯ নভেম্বর সকালে মামার বাসা থেকে কলেজের উদ্দেশ্যে বের হয় সাদিয়া। সে বাংলাদেশ ইনষ্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজিতে না গিয়ে নগরীর রুপাতলী বাসষ্ট্যান্ডে যায়। সেখানে অবস্থান করছিল মোবাইল ফোন প্রেমিক সিরাজ ও সহযোগি সমীর। তারা কৌশলে সাদিয়াকে মঠবাড়িয়া নিয়ে যায়। সেখানে বিভিন্নস্থানে ঘোরাঘুরি করার পর রাত সাড়ে ৯টার দিকে বড় মাছুয়া বটতলা এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে তাকে সিরাজ ধর্ষন করে। পরে সমীরও সাদিয়াকে ধর্ষন করে। এরপর হাফিজকে ফোন দিয়ে আনা হয়। স্কুল পড়–য়া হাফিজও তাকে জোড়পূর্বক ধর্ষন করেছে। তাদের পালাক্রমে ধর্ষনের পর সাদিয়া তাকে অনুনয় বিনয় করে বরিশাল নগরীগামী বাসে উঠিয়ে দেয়ার অনুরোধ করে। এক পর্যায়ে সে এই ঘটনা পুলিশকে জানিয়ে দেয়ার হুমকি দেয়। তখন তিনজন মিলে সাদিয়ার মুখ চেপে ধরে বেধরকভাবে কিল-ঘুষি ও লাথি দেয়। এতে সাদিয়া অজ্ঞান হয়ে পড়ে। তখন সাদিয়াকে ধরে বলেশ্বর নদীতে কচুরিপানার মধ্যে চুবিয়ে ধরে। এতে তার নিথর দেহ ডুবে যায়। কিছুক্ষন পর লাশ ভেসে উঠে। তখন লাশটি কচুরিপানার মধ্যে ফেলে নদীতের ¯্রােতের দিকে ঠেলে দেয়া হয়। তখন সাদিয়ার কানের স্বর্নের ঝুমকা খুলে রাখে হাফিজ। এছাড়া সাদিয়ার মোবাইল ফোন, ব্যাগ ও জামা-কাপড় নদীতে ফেলে দেয়। ওই স্বর্নের ঝুমকা মোবাইল ফোন প্রেমিক সিরাজ’র ঘর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।