সাংবাদিক শওকত মাহমুদ গ্রেপ্তার

বিডিনিউজ ॥ ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের পরাজিত প্রার্থী তাবিথ আউয়ালের সংবাদ সম্মেলনে যাওয়ার পথে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সাংবাদিক ইউনিয়ন নেতা শওকত মাহমুদকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকার পান্থপথের সামারাই কনভেনশন সেন্টারের কাছে গাড়ি থামিয়ে বিএনপিপন্থি এই সাংবাদিক নেতাকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা সাদা রঙের একটি মাইক্রোবাসে করে নিয়ে যায় বলে আদর্শ ঢাকা আন্দোলনের প্রচার ও প্রকাশনা কমিটির সদস্য জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু জানান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল নিজের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, “শওকত মাহমুদের নামে কয়েকটি
মামলা আছে। এ কারণেই তাকে ধরা হয়েছে।” গোয়েন্দা পুলিশের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, নাশকতার অভিযোগে যাত্রাবাড়ী থানার একাধিক মামলায় শওকত মাহমুদ আসামি। সামারাই কনভেনশন সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচনে ‘কারচুপির অভিযোগ’ তুলে ধরার কথা ছিল তাবিথ আউয়ালের পক্ষে ভোটের প্রচারে কাজ করা আদর্শ ঢাকা আন্দোলনের নেতাদের। বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) একাংশের সভাপতি শওকত মাহমুদ এর সদস্য সচিব। গত ২৮ এপ্রিল অনুষ্ঠিত ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী আনিসুল হকের কাছে হেরে যান বিএনপি নেতা আবদুল আউয়াল মিন্টুর ছেলে তাবিথ।
আগের ঘোষণা অনুযায়ী, তাবিথ আউয়াল, আদর্শ ঢাকা আন্দোলনের আহ্বায়ক অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (একাংশের) সভাপতি আবদুল হাই শিকদার, সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, সাবেক সচিব আব্দুর রশিদ সরকারসহ আরও কয়েকজন মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে পান্থপথের ওই সম্মেলন কেন্দ্রের সামনে জড়ো হলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এরপর রাস্তা থেকে শওকত মাহমুদ গ্রেপ্তার হলে সংবাদ সম্মেলন প- হয়ে যায়।
আদর্শ ঢাকা আন্দোলনের জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সামার্ইা কনভেনশন সেন্টার আগেই তালাবন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। এ কারণে সংবাদ সম্মেলন করা সম্ভব হয়নি।”
অনুষ্ঠান প- হয়ে যাওয়ার পর আর্দশ ঢাকা আন্দোলনের আহ্বায়ক অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের বলেন, “শওকত মাহমুদকে আটক করে নেওয়ার ঘটনায় আমি উদ্বিগ্ন ও ক্ষুব্ধ। এটা পুলিশের একটি অগণতান্ত্রিক পদক্ষেপ। আমরা অবিলম্বে তাকে ছেড়ে দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।”
তিনি বলেন, ‘‘ আমরা কোনো রাজনৈতিক সংগঠন করি না। আমরা সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলতে এখানে আসিনি। গত ২৮ এপ্রিল সিটি নিবার্চনে যেসব অনিয়ম ও ভুল হয়েছে, তা তুলে ধরার জন্যই এখানে একটি সেমিনার করতে এসেছি।
‘‘ এজন্য আর্দশ ঢাকা আগে থেকে কলাবাগান থানাকে অবহিত করেছে। থানা আমাদের নিষেধও করেনি। কিন্তু সকালে এসে দেখি হঠাৎ করেই হলরুম বন্ধ করে দিয়েছে। আমি মনে করি, এটা কোনো ভদ্র কাজ হয়নি।”
অবশ্য কনভেনশন সেন্টারের কর্মচারী শাহ পরান জানান, ‘নিরাপত্তার কারণে’ আদর্শ ঢাকা আন্দোলনকে এই অনুষ্ঠান করতে না দেওয়া হবে না বলে সোমবারই কলাবাগান থানা থেকে ‘নির্দেশ দেওয়া’ হয়েছিল।
অন্যদিকে ঘটনাস্থলে কর্তব্যরত কলাবাগান থানার ওসি আবিদুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা স্বাভাবিক ডিউটিতে ছিলাম। সামারাই কর্তৃপক্ষই অনুষ্ঠান বাতিল করেছে।”