সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে বিসিসি মেয়র প্রবল বৃষ্টিপাতে বিসিসি’র ৪শ’ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে

গত ২০ ও ২১ আগস্টের প্রবল বর্ষণের ফলে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন এলাকার ২৪৬ কিলোমিটার (কিঃমিঃ) বিটুমিনাস কার্পেটিং সড়ক ও নদী তীরবর্তী ও বর্ধিত এলাকায় প্রায় ৪১ কিঃমিঃ মাটির রাস্তার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এসব ক্ষতিগ্রস্তÍ সড়ক পুনঃনির্মাণ ও মেরামতে প্রায় ৪১৩ কোটি টাকার প্রয়োজন। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে সিটি করপোরেশনের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় মেয়র আহসান হাবিব কামাল এ তথ্য তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, ২১ আগস্ট রাত ৩টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ১৪ ঘণ্টায় ২৭২ দশমিক ১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। যা গত ৪৯ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের রেকর্ড। এতে সিটি কর্পোরেশন এলাকার বিভিন্ন সড়কের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আর্থিক অপ্রতুলতার বিসিসির রাজস্ব তহবিলের মাধ্যমে এসব সড়ক পুনঃনির্মাণ করা সম্ভব নয়। তাই সড়ক সংস্কার ও পুনঃনির্মাণের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে ৪শ’ কোটি টাকা বিশেষ বরাদ্দ আবেদন করা হয়েছে। বরাদ্দ পেলে জরুরিভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কার ও পুনঃনির্মাণ করা হবে।
তিনি জানান, দীর্ঘদিন পুনঃখনন না করায় ও অবৈধভাবে দখলের ফলে নগরীর অভ্যন্তরের ৪৬টি খাল ভরাট হয়ে নাব্যতা হারিয়েছে। ইতোমধ্যে জেলখাল দখলমুক্ত করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ খালগুলোর পার সংরক্ষণ ও পুনঃখননের জন্য ডিপিপি মন্ত্রণালয়ে দাখিল করা হয়েছে।
মেয়র বলেন “বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের সড়ক প্রশস্তকরণসহ উন্নয়ন এবং ব্রিজ কালভার্ট নির্মাণ” শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় নজরুল ইসলাম সড়ক, নিউ সদরঘাট রোড,পলাশপুর প্রধান সড়ক, ধান গবেষণা সড়ক বিসিক রোড, লাদেন সড়ক, কালাখান সড়ক, হাটখোলা সড়ক, ঈশা খান সড়ক, তিতুমীরসহ সড়ক, ২৮টি রাস্তা এবং জলাবদ্ধতা নিরশনকল্পে রূপাতলী বাসর্টামিনাল থেকে সাগরদী খাল পর্যন্ত ড্রেন, পরেশ সাগর থেকে কাস্টমস অফিস পর্যন্ত ড্রেন, শাহপরান সড়ক থেকে লাকুটিয়া খাল পর্যন্ত ড্রেন নির্মানসহ ১০টি পাকা নির্মানের জন্য কার্য্যাদেশ প্রদান করা হয়েছে, যার কিছু কিছু রাস্তা ও ড্রেনের কাজ ইতমধ্যেই আরম্ভ হয়েছে।
এছাড়া সাগরদী, চাঁদমারী, রুইয়া খালের উপর ৩টি আরসিসি গার্ডার ব্রীজ এবং পোর্ট রোডের সাথে রসুলপুরের সংযোগের জন্য ০১টি আয়রন ষ্ট্রাকচার ব্রীজের কার্যাদেশ প্রদান করা হয়েছে।
এছাড়া সিটি কর্পোরেশনের রাজস্ব তহবিল এবং বার্ষিক উন্নয়ন সহায়তা তহবিলের (থোক বরাদ্দ) আওতায় সদর রোড, লুৎফর রহমান সড়ক, একিনশাহ সড়ক, টিয়াখালী সড়ক, হরিণাফুলিয়া সড়কসহ ৩০টি ওয়ার্ডের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক নির্মাণ ও জলাবদ্ধতা নিরশনকল্পে পাকা ড্রেন নির্মাণের জন্য প্রায় ২২৬টি কাজের কার্যাদেশ ইতমধ্যেই প্রদান করা হয়েছে।
লাকুটিয়া সড়ক, নাপিতপাড়া সড়ক, মরিচপট্টি, পিয়াজপট্টি সড়ক, আহম্মেদ মোল্লা সড়ক, সিকদারপাড়া সড়ক, খান সড়কসহ সকল ওয়ার্ডের ক্ষতিগ্রস্থরাস্তা সমূহ সংস্কার / পুনঃনির্মাণ এবং পানি নিস্কাশনের জন্য পাকা ড্রেন নির্মাণ কাজের ইতমধ্যেই দরপত্র আহবান করা হয়েছে। কার্পেটিং রাস্ত পানিতে ডুবে গেলে খুব দ্রত নষ্ট হয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে যায়। তাই বর্তমান পরিষদ রাস্তার স্থায়ীত্বের লক্ষ্যে বরিশাল মহানগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে সিসি ও আরসিসি রাস্তা নির্মানের জন্য ৮৪ দশমিক ৭৩ কোটি টাকার ডিপিপি অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ের দাখিল করা হয়েছে।
দীর্ঘ দিন পুনঃখননের অভাবে এবং অবৈধ দখলের ফলে মহানগরীর বিদ্যমান ৪৬টি খাল ভরাট হয়ে নাব্যতা হারিয়েছে। ইতিমধ্যে বরিশাল জেলা প্রশাসন ও সিটি কর্পোরেশনের যৌথ উদ্যোগ জেল খাল অবৈধ দখল মুক্ত করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য খালগুলো ও অবৈধ দখল মুক্ত করা হবে। জেল খালসহ গুরুত্বপূর্ণ খাল সমূহের পাড় সংরক্ষণ ও পুনঃখননের জন্য ডিপিপি মন্ত্রণালয়ে দাখিল করা হয়েছে। অনুমোদন পাওয়া গেল খাল সমূহ পুনঃখনন করা হবে।

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন, বিসিসির ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইমতিয়াজ মাহামুদ জুয়েল, সাবেক ভারপ্রাপ্ত মেয়র কাউন্সিলর আলতাফ মাহমুদ সিকদার, প্যানেল মেয়র-৩ শরীফ তাসলিমা কালাম পলি, বিসিসি’র প্রধান প্রকৌশলী খান মোঃ নূরুল ইসলাম, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এমএ মোতালেব সহ সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। মতবিনিময় সভায় সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন বিসিসি’র কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যান পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কর কর্মকর্তা আবুল মাসুদ মামুন।