সস্তা শুভেচ্ছায় সৌন্দর্য হানির শিকার নগরী অপসারনের নেই কোন উদ্যোগ

চন্দন জ্যোতি॥ সস্তা শুভেচ্ছায় এখন বিরক্তি ধরেছে নগরবাসীর  মনে। সেই শারদীয় দূর্গোৎসব শুরুর ২/৩ দিন পূর্বেই বরিশাল নগরীতে শুরু হয় সস্তা শুভেচ্ছা জানানোর প্রতিযোগিতা। শুধু তাই নয় বিশেষ করে নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক আর দৃশ্যমান স্পটগুলোও দখলের প্রতিযোগিতা লক্ষ্য করা গেছে। শারদীয় উৎসব শুরুর সাথে সাথেই নগরীর সৌন্দর্য ঢেকে যায় বিশাল বিশাল আকৃতির শুভেচ্ছা বিলবোর্ড, ব্যানার আর ফেষ্টুনে। এসব সস্তা শুভেচ্ছা জয় করতে পারেনি মানুষের মন। বিলবোডর্, ব্যানার আর ফেষ্টুনে ছিলো কথিত শুভেচ্ছা প্রদানকারীদের বাহারী ঢঙের ছবি। ৫দিনের শারদীয় উৎসব শেষ হতে না হতেই পট পরিবর্তন হয় শুভেচ্ছা জ্ঞাপনে। কারণ পবিত্র ঈদ-উল-আযহা। তাই আবার নতুন আঙ্গিকে টানানো হয় কথিত শুভেচ্ছা বিলবোডর্, ব্যানার আর ফেষ্টুন। ফলে গত দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে কথিত শুভেচ্ছায় ঢেকে আছে পুরো নগরী। এরমধ্যে কোথাও কোথাও সারা বছরই টানানো থাকে শুভেচ্ছা বিজ্ঞাপন। স্থানীয় ভাবে একটি কথা প্রচলিত আছে, তা হলো রোজ রোজ মাংস পোলাও রিবক্তিকর হয়ে দাঁড়ায়। প্রচলিত ঐ কথার মতোই নিজেদের প্রচার প্রচারনার নামে সস্তায় টানানো ঐ শুভেচ্ছায় নগরবাসী অনেকটাই বিরক্ত হয়ে উঠেছে। যেমন কোন গরুর হাটের পূর্বে বা হাটের সময় শুনতে পাই রেকর্ড করা মাইকিং যেমন গরুর হাট এক বিশাল গরুর হাট। থাকা, খাওয়ার সু-ব্যবস্থা রয়েছে। হাট শেষ হবার পূর্বেই বন্ধ হয়ে যায় ঐ মাইকিং। তবে যদি হাট শেষ  হবার পরেও ঐ রেকর্ড বাজানো হয়। তাহলে তা শুনে মানুষ কি মন্তব্য করতে পারে তা বলার প্রয়োজন নেই।
যদি ঈদ-উল-ফিতরের ছুটি শেষ হবার পর পরই স্ব-স্ব উদ্যোগে সস্তার শুভেচ্ছা সরিয়ে নেওয়া হতো তাহলে শুভেচ্ছা এখন বিরক্তিকর হয়ে উঠত না। বরং নগরবাসী স্বাদ পেতো ঐতিহাসিক বিবির পুকুর সহ বিভিন্ন চোখ জুড়ানো স্পটের। সেই স্বাদ ছাড়াই ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরে যেতে হয়েছে অনেককে।
এ বিষয়ে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোঃ আহসান হাবিব কামাল জানান, নগরী থেকে সকল ধরনের শুভেচ্ছা বিলবোর্ড, ব্যানার ফেষ্টুন সরিয়ে ফেলার জন্য ইতিমধ্যে মাইকিং শুরু হয়েছে। স্ব ইচ্ছায় যদি অপসারণ করা না হয় তাহলে বিসিসি খুব দ্রুত নগরী পরিচ্ছন্ন রাখতে অপসারণ করে ফেলবে। নগরীর  সৌন্দর্য রক্ষায় কোন আপোষ চলবে না বলেও জানান তিনি।