সর্বোচ্চ যাত্রীর বরিশাল ত্যাগ

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরা যাত্রীদের ভীড় বাড়ছে। ঈদের পর গতকাল বুধবারই সর্বোচ্চ সংখ্যক যাত্রী নিয়ে নৌবন্দর ত্যাগ করেছে রাজধানীগামী লঞ্চ। নাব্যতা সংকটে ফেরি পারাপারে অনিশ্চয়তা ও খানাখন্দের সড়কে বাসে যাত্রার দুর্ভোগ এড়াতে বেড়েছে লঞ্চ যাত্রীদের সংখ্যা। বরিশাল থেকে সরাসরি ঢাকা রুটের লঞ্চে ত্রিশ হাজারেরও বেশি যাত্রী ত্যাগ করেছে। বিআইডব্লিউটিএ’র নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের উপ-পরিচালক আজমল হুদা সরকার মিঠু জানান, গত কয়েক দিনের তুলনায় গতকাল বুধবার নৌ-বন্দরে যাত্রীদের ভীড় ছিলো অস্বাভাবিক। দুপুরের আগে থেকেই লঞ্চ যাত্রীরা নৌ বন্দরে এসে অবস্থান নিতে শুরু করে। যে কারনে সন্ধ্যার পর পরই বরিশাল-ঢাকা নৌ রুটের ছোট-বড় প্রায় সকল লঞ্চই যাত্রীতে পরিপূর্ন হয়ে যায়।
তিনি বলেন, গত মঙ্গলবার বরিশাল থেকে ১৪টি লঞ্চ যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। তবে যাত্রীদের চাপ বেড়ে যাওয়ায় গতকাল আরো দুটি লঞ্চ বাড়ানো হয়। বরিশাল নৌ-বন্দর থেকে ১৬ বেসরকারি লঞ্চ ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছে। এর বাইরে দিবা সার্ভিসে একটি গ্রীন লাইন ও বিআইডব্লিউটিসি’র একটি স্পেশাল সহ দুটি ষ্টীমার যাত্রী নিয়ে নদী বন্দর ত্যাগ করে। এর বাইরে ভায়া রুটের আরো চারটি লঞ্চ বরিশাল নৌ-বন্দর থেকে যাত্রী উঠিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে সন্ধ্যা নাগাদ ছেড়ে যায়।
তিনি বলেন, প্রত্যেকটি লঞ্চ সন্ধ্যার মধ্যে যাত্রীতে পূর্ন হয়। তাই নির্ধারিত সময়ের পূর্বে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার পর থেকেই বরিশাল-ঢাকা নৌ রুটের সরাসরি লঞ্চ ঘাট ত্যাগে বাধ্য করা হয়। রাত ৮টার মধ্যে ১৬টি লঞ্চ বন্দর ত্যাগ করেছে। তাছাড়া যাত্রীদের ভীর বেশি থাকায় বেশ কিছু সংখ্যক যাত্রীরা লঞ্চ যোগে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে যাত্রা করতে পারেনি।
যাত্রীদের সাথে আলাপকালে তারা বলেন, শনিবার থেকেই সকল পর্যায়ের অফিস, স্কুল-কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা কর্মস্থলে যোগদান করবেন। এজন্য বৃহস্পতি এবং শুক্রবার লঞ্চে ভীর বেশি হবে ভেবেই গতকাল বুধবার তারা যাত্রা শুরু করেন। কিন্তু নদী বন্দরে এসে যে পরিস্থিতি দেখতে পান তাতে করে বৃহস্পতি কিংবা শুক্রবার যাওয়াটাই অনেক ভালো ছিলো বলেও মন্তব্য করেছেন যাত্রীরা।
এদিকে সদর নৌ থানা’র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বেল্লাল হোসেন বলেন, যাত্রীদের নিরাপত্তায় ও নৌযানে অতিরিক্ত যাত্রী উঠানো প্রতিরোধে বন্দরে ভ্রাম্যমান আদালতের সাথে তাদের পুলিশ সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করছে। সাথে বিআইডব্লিউটিএ’র কর্মকর্তা-কর্মচারী, আনসার, কোষ্টগার্ড ও ফায়ার সার্ভিস, মহানগর ও ট্রাফিক পুলিশ এবং সাদাপোশাকধারী পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা নৌ বন্দর এলাকায় দায়িত্ব পালনের কারনে নিরাপদেই যাত্রীরা গন্তব্যের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছে।
এদিকে বরিশাল জেলা বাস মালিক গ্রুপের সভাপতি আলহাজ্ব আফতাব হোসেন বলেন, ঈদের পরে গত কয়েক দিন বাসে যাত্রীদের ভীড় ছিলো। তবে তার থেকে বেশি ভীড় ছিলো গতকাল বুধবার। যে কারনে কোন প্রকার সিডিউল ছাড়াই পরিবহনে যাত্রী হওয়া মাত্রই গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। তবে ঈদ ফেরত যাত্রীদের মধ্যে ঢাকার যাত্রীদের চাপ অনেক বেশি বলে জানিয়েছেন তিনি।