সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতে জলাবদ্ধ নগরী

রুবেল খান ॥ গত ২৭ ঘন্টায় ৪৮ বছরের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পরিমান বৃষ্টিপাত হয়েছে। আরো বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা থাকায় পরিমান প্রথমকে ছাড়িয়ে গিয়ে নতুন রেকর্ড করার শংকা করছেন আবহাওয়া পর্যবেক্ষকরা। স্মরনকালের সেরা টানা বর্ষনে নগরী জলমগ্ন হয়ে পড়ে। নগরীর বর্ধিত এলাকা থেকে শুরু করে শহরের প্রধান সড়কগুলোতে বৃষ্টির পানি ২ ফুট জমে যায়। এতে নগরবাসী এক প্রকার গৃহবন্দি হয়ে পড়ে। সৌখিন মৎস্য শিকারীরা সড়কে জাল দিয়ে মাছ শিকার করেছে। তবে সকাল থেকে সিটি মেয়রের কঠোর তৎপরতায় মাত্র কয়েক ঘন্টা ব্যবধানে জলাবদ্ধতা মুক্ত হয় নগরীর অতিগুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও এলাকা। সেই সাথে পুরোপুরি জলাবদ্ধতা মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত বাতিল করা হয়েছে বিসিসি’র সকল পরিচ্ছন্ন কর্মী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি।
বরিশাল আবহাওয়া অফিসের জ্যেষ্ঠ পর্যবেক্ষক মো. মিলন হাওলাদার জানান, উত্তর বঙ্গোপসাগর এলাকায় মৌসুমী বায়ু প্রবল থাকায় প্রবল বর্ষন হয়েছে। গত বুধবার থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টি আরো ২/১ দিন থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
মিলন হাওলাদার জানান, গত বুধবার থেকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বর্ষনের পরিমান গত ৪৮ বছরের রেকর্ড অতিক্রম করেছে। আবহাওয়া অফিসের রেকর্ড অনুযায়ী ১৯৬৭ সালে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড রয়েছে। তখন বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছিলো ২৫৮ মিলিমিটার। আর ৪৮ বছর পরে এসে বুধবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ৯টা পর্যন্ত বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ২৪০ দশমিক ৬ মিলিমিটার। দুপুরের পর কিছু সময়ের জন্য বৃষ্টি থামলেও বিকাল ৩টা থেকে পূনরায় শুরু হয়ে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ১.৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়।
এই পর্যবেক্ষক বলেন, তাদের পর্যবেক্ষনে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী বৃষ্টিপাতের পরিমান ১৯৬৭ সনের রেকর্ড অতিক্রম করতে পারে।
টানা বর্ষনে নগরীর বর্ধিত এলাকা সহ শহরের প্রধান প্রধান সড়ক, স্থাপনায় ব্যাপক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে নগরীর প্রান কেন্দ্র সদর রোড, বগুরা রোড, অক্সফোর্ড মিশন রোড, নবগ্রাম রোড (হাতেম আলী কলেজ সড়ক), অশ্বিনী কুমার টাউন হলের সামনে, চক বাজার, মহসিন মার্কেট, বহুমুখি সিটি মার্কেট, গোরস্থান রোড, আমতলার মোড়, জুমিরখান সড়ক, কেডিসি, স্টেডিয়াম কলোনী, ভিআইপি কলোনী, চতুর্থ শ্রেনী স্টাফ কোয়ার্টার, শেবাচিম হাসপাতালের সামনে, হাতেম আলী কলেজ, বিএম কলেজ, বরিশাল কলেজ, পলাশপুর, আমানতগঞ্জ, কাউনিয়া, সিকদারপাড়া, সাগরদী ব্রাঞ্চ রোড সহ নগরীর বর্ধিত এলাকাগুলো বৃষ্টির পানিতে প্লাবিত হয়ে যায়। পানিতে পুকুর, খাল, ডোবা এবং ঘেরে পানি বৃদ্ধি পেয়ে চাষ করা মাছ পানিতে রাস্তায় বেরিয়ে পড়ে। যে কারনে প্রতিটি ব্যস্ততম রাস্তা, পার্ক এবং খেলার মাঠে জাল, খুচন, মশারী সহ বিভিন্ন উপকরন নিয়ে মাছ শিকারে নেমে পড়ে স্থানীয়রা। সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত যে যার মত করে অসংখ্য মাছ শিকার করে তারা। তবে গতকাল বৃহস্পতিবার নগরীতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হলেও নদীর পানি ছিলো গত বুধবারের থেকে অনেকাংশে কম।
এদিকে প্রবল বৃষ্টিতে নগরীতে হাটু সমান জলাবদ্ধতা দেখে ঘরে বসে থাকতে পারেননি স্বয়ং বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আহসান হাবিব কামাল। সকাল ৭টার দিকেই তিনি ছাতা নিয়ে নেমে পড়েন পানিবন্ধি হয়ে পড়া নগরবাসীর দুর্দশা প্রত্যক্ষ করতে। পাশাপাশি জলাবদ্ধতা দূর করতে নিজে দাড়িয়ে থেকে পরিচ্ছন্ন কর্মী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দিয়ে কাজ করান। মেয়রের হস্তক্ষেপে তাৎক্ষনিক ভাবে পানি নিষ্কাসনের ড্রেন পরিস্কার করায় মাত্র কয়েক ঘন্টার ব্যবধানে সদর রোড সংলগ্ন অনেক এলাকার পানি নেমে যায়।
জানতে চাইলে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আহসান হাবিব কামাল বলেন, প্রবল বর্ষনের কারনে নগরীতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। তবে নগর কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষনিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করায় রাস্তা থেকে পানি নেমে গেছে।
তিনি বলেন, নগরীর বেশ কিছু ড্রেনের মুখে ময়লা আবর্জনা জমেছে বলে পানি নামতে পারেনি। পরে সেই সব ড্রেনগুলো চিহ্নিত করে তাৎক্ষনিক ভাবে পরিস্কার করে দিলে পানি নেমে যায়। তাছাড়া বাকি যেসব ড্রেন রয়েছে সেগুলো পরিস্কার এবং আবর্জনা মুক্ত করতে পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা কাজ করে যাচ্ছে। জলাবদ্ধতার কারনে পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের পাশাপাশি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। সেই সাথে নগরবাসীকে ময়লা আবর্জনা রাস্তায় ও ড্রেনে না ফেলে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলার জন্যও অনুরোধ জানিয়ে মেয়র আহসান হাবিব কামাল বলেন, এতে নগরী জলাবদ্ধতা মুক্ত হবে।