সরকার দেশে জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করে বিএনপিকে ঘায়েল করার রাজনীতি করছে -বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সরোয়ার

সিদ্দিকুর রহমান ॥ বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও মহানগর বিএনপির সভাপতি এ্যাড. মজিবর রহমান সরোয়ার বলেছেন, অবৈধ সরকারের উন্নয়নের নামে জনগণের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছে। যেখানে জনগনের ভোটের অধিকার নেই, সেখানে কোন উন্নয়ন হতে পারেনা। তাছাড়া দেশে শান্তি, আইনের শাসন, ন্যায়বিচার এবং গনতন্ত্রকে বাদ দিয়ে কোন উন্নয়নই সম্ভব নয়।
গতকাল শুক্রবার বেলা ১১ টায় নগরীর অশ্বিনী কুমার হলে অনুষ্ঠিত শহীদ রাষ্ট্রপতি ও বহুদলীয় গনতন্ত্রের প্রবক্তা জিয়াউর রহমানের ৩৬তম শাহাদৎ বার্ষিকী উপলক্ষ্যে মহানগর বিএনপির আয়োজনে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভা ও দোয়া মোনাজাত অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
এসময় তিনি আরো বলেন, দেশের উন্নয়ন হচ্ছে, জনগনের মানবিকতার উন্নয়ন। যেখানে ন্যায় বিচার নাই, আইনের শাসন নাই, সেখানে উন্নয়ন কোথায়। দেশের প্রতিটি দপ্তর আজ দুর্নীতিগ্রস্থ। আমাদের দেশে সংসদ আছে, দেশ ও জনগণের জন্য কথা বলার মত কোন বিরোধী দল নেই। এটা কেমন সংসদ যেখানে জনগনের বিষয় নিয়ে কোন কথা হয়না। তাই জনগন আর এই প্রহসনের সংসদ দেখতে চায়না।
সরোয়ার বলেন, বিএনপি দেশে জঙ্গিবাদের উত্থান দেখতে চায়না। আজ সরকার দেশে জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করে বিএনপিকে ঘায়েল করার রাজনীতি শুরু করেছে। এদেশের আপামর জনগন আওয়ামী লীগকে সে সুযোগ আর দেবেনা। কথিত গণতন্ত্রের নামে আজ অবৈধ সরকার দেশের মানুষের বাক স্বাধীনতা কেড়ে নিয়েছে। আওয়ামী লীগ আজ ভোটের জন্য দলের আদর্শ বিসর্জন দিয়ে বিভিন্ন দুয়ারে দুয়ারে ধর্না দিচ্ছে।
তিনি বলেন, সরকার আবারো ৫ জানুয়ারীর স্বপ্ন দেখছে। বর্তমানে দেশের মানুষ শান্তিতে নাই। তার মধ্যে আওয়ামী লীগ যে বিলাসবহুল বাজেট ঘোষনা করেছেন তা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে লুটপাটের জন্যই করেছে। মানুষকে নতুন করে স্বপ্ন দেখিয়ে ঘোষিত বাজেট তারা কখনই বাস্তবায়ন করতে পারবে না এবং আগেও পারেনি।
তাছাড়া আইন তৈরী না করে আওয়ামী লীগের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়েছে। এটা দলীয় নির্বাচন কমিশন। এই সরকারের অধিনে এই নির্বাচন কমিশন কোন কাজ করতে পারবে না। অতীতে বাংলাদেশের মানুষ নিরপেক্ষ সরকারের অধিনে ভোট দিতে পেরেছে। বিএনপি চায় নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার বা নিরপেক্ষ সরকার।
তাই দেশের মানুষের ভোটের অধিকারসহ গণতন্ত্র পুনঃরুদ্ধারের দলীয় নেতা কর্মীদের উদ্দেশ্য বলেন, দলে মত ভেদাভেদ থাকতে পারে তাই বলে ঐক্য নষ্ট করে নয়। এজন্য আগামীতে সকল নেতাকর্মীকে ঐক্যবদ্ধ ভাবে রাজপথে থেকে আন্দোলন সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগকে হঠানোর জন্য প্রস্তুত থাকার আহবান জানান তিনি।
এদিকে আলোচনা সভায় পদবঞ্চিত নেতাদের বিষয়ে জেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ এবায়েদুল হক চানঁ বলেন, এক সময় আমি দলের ভিতর থেকে ভুল করেছিলাম বলে, আমাকে দলের বাইরে ১০ বছর কাটাতে হয়েছে। তাই বলে আমি কখনো দলের কোন কর্মসূচিতে অনুপস্থিত ছিলাম না। দলের প্রতিটি কর্মসূচিতে অংশ গ্রহন করেছি বলেই আমি আবার দলে ফিরে এসেছি। আজ আপনারা পদ বঞ্চিত হওয়ার কথা বলেন, আপনাদের অনেকের দলে পদ আছে তাই দলে ফিরে এসে জাতীয়তাবাদী দলের পক্ষে কাজ করার আহবান জানান তিনি। সেই সাথে আগামী নির্বাচনে যুবদল, ছাত্রদল সহ দলের সকল অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতা কর্মীদের প্রহরীর দায়িত্ব পালন করার কথাও বলেন তিনি।
অন্যদিকে জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক এ্যাড. আবুল কালাম শাহিন বলেন, রাজনৈতিক ভাবে যারা সক্রিয় তারা কখনো পদবঞ্চিত হয় না। যোগ্যতার মাপকাঠিতে সবসময়ে মূল্যায়িত হয়। আর এখন যারা পদবঞ্চিত ত্যাগী নেতা বলে দাবী করছে, তারা অনেকে এখনও বিভিন্ন পদে রয়েছেন। আর যারা বিগত তিন চার বছর ধরে পদে নাই, তারা কেন এই আন্দোলন আগে করেননি। এখন কেন নাটক সৃষ্টি করছেন। এসময় তিনি বিএনপিকে সামনে অগ্রসর করার লক্ষ্যে সব ভেদাভেদ ভুলে সকলকে ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করার আহবান জানান।
একই বিষয়ে মহানগর বিএনপির সাধারন সম্পাদক জিয়া উদ্দিন সিকদার জিয়া বলেন, বর্তমানে যারা পদবঞ্চিত নেতা বলে দাবী করছেন, তার আসলে দলে পদ বঞ্চিত না, তারা হলেন সেই নেতা যারা দলের আন্দোলন-সংগ্রামে এবং দুঃসময়ের মামলা-হামলা থেকে বঞ্চিত নেতা। জাতীয়তাবাদী দল প্লাস এর রাজনীতি করে। মাইনাসের না। এ সময় তিনি আরো বলেন, যারা এই পদবঞ্চিত ত্যাগী নেতা বলে দাবী করে নতুন নাটক সৃষ্টি করতে চাচ্ছেন, তারা ভবিষ্যতে বরিশাল থেকে এক প্রকারের অবাঞ্চিত হয়ে যেতে পারেন। তাই পদ নয় দলকে ভালবেসে সকলের ঐক্যবদ্ধতাই পারে দলকে শক্তিশালী করতে। আলোচনা শেষে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রুহের মাগফেরাত কামনা করে দোয়া-মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভা ও দোয়া-মোনাজাত অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন দক্ষিন জেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ এবায়েদুল হক চাঁন, বিএনপির কেন্দ্রিয় সদস্য ও সাবেক সংসদ এবং উত্তর জেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক মেজবা উদ্দিন ফরহাদ, মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মনিরুজ্জামান ফারুক, মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক ও ওয়ার্ড কাউন্সিলর জিয়া উদ্দিন সিকদার জিয়া, জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক এ্যাড. আবুল কালাম শাহিন, মহানগর যুগ্ন সম্পাদক আনোয়ারুল হক তারিন, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভাপতি এ্যাড. আলী আহমেদ, বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারন সম্পাদক এ্যাড. নাজিম উদ্দিন আহমেদ পান্না, এ্যাড. আবুল কালাম আজাদ, মুক্তিযোদ্ধা ও সাংবাদিক নুরুল আলম ফরিদ, মহানগর বিএনপির দপ্তর সম্পাদক সাহেদ আকন স¤্রাট, শ্রমিকদলের বিভাগীয় সাধারন সম্পাদক এমডি ফারুক, শ্রমিকদল মহানগর সাধারন সম্পাদক মো. ফয়েজ আহমেদ, মহানগর মহিলা দল সভাপতি শামীমা আকবর, ছাত্রদলের মহানগর আহবায়ক খন্দকার আবুল হাসান লিমন ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল যুগ্ন আহবায়ক মাহাবুবুর রহমান পিন্টু প্রমুখ। এতে উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক সৈয়দ আকবর, সহ- সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আলাউদ্দিন, প্যানেল মেয়র শরীফ তাসলিমা কালাম পলি, সাবেক চেয়ারম্যান নুরল আমিন, জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক এ্যাড. হাফিজ আহমেদ বাবলু, মহানগর যুবদলের সহ-সভাপতি কামরুল হাসান রতন, কোতয়ালী বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ্ব মন্টু খান, মহানগর ছাত্রদলনেতা আরিফুর রহমান মুন্না, আরিফুল ইসলাম জনি, মহানগর বিএনপির তথ্য ও গবেষনা সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেনসহ মহানগরের ৩০টি ওয়ার্ডের সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক বৃন্দ।