সরকার দেশে আবারো বাকশাল কায়েম করতে যাচ্ছে-ড. খন্দকার মোশারফ হোসেন

রুবেল খান ॥ বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশারফ হোসেন বলেছেন, স্বৈরাচারী চরিত্র ধারণ করা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জনগনকে ধোকা দিচ্ছে। প্রতিবেশী দেশগুলোকে ভুল বুঝিয়ে গায়ের জোরে গনতন্ত্র ধ্বংস করে সে ক্ষমতা দখল করে আছেন। এই সরকার দেশে আবারো বাকশাল কায়েম করতে যাচ্ছে। কিন্তু ২০১৪ আর ২০১৮ এক নয়। ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারীর মত দেশ আর কোন পাতানো নির্বাচন নয়। এই সরকারের পাতানো আর কোন নির্বাচন মেনে নেয়া হবে না। নির্বাচনের আগে সংসদ ভেঙ্গে দিয়ে অন্তর্বতীকালিন সরকারের অধিনেই নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের গনতন্ত্র ফিরিয়ে আনা হবে। জন্য রাজপথে ওই লুটেরা বাহিনীর মোকাবেলা করতে হবে। কেননা গনতন্ত্র ফিরিয়ে আনা বিএনপি’র জন্য চ্যালেঞ্জ।
গতকাল বুধবার দুপুরে নগরীর সদর রোডে অশ্বিনী কুমার হলে বরিশাল মহানগর বিএনপি আয়োজিত কর্মী সভায় প্রধান অতিথি’র বক্তৃতায় ড. খন্দকার মোশারফ হোসেন এসব কথা বলেছেন। বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম-মহাসচিব ও মহানগর বিএনপি’র সভাপতি আলহাজ্ব এ্যাড. মজিবর রহমান সরোয়ার এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মী সভায় ড. খন্দকার মোশারফ হোসেন আরো বলেন, এই সরকার বিএনপিকে দমন করতে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সহ নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে একের পর এক ষড়যন্ত্র, মিথ্যা ও হয়রানী মুলকভাবে মামলা দিচ্ছে। ষড়যন্ত্র করে বিএনপিকে দুর্বল বানানো যাবে না। বরং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে গনতন্ত্র ফিরিয়ে আনা হবে। দেশে পাঁচই জানুয়ারীর মত আর কোন পাতানো নির্বাচন হতে দেয়া হবে না।
তিনি বলেন, ওয়ান ইলেভেনের সময় জিয়া অর্ফানেজ ট্রাস্ট মামলায় দেশনেত্রীকে জড়ানো হয়েছিলো। কিন্তু সেই ট্রাস্টের সাথে দেশনেত্রীর কোন সম্পৃক্ততাই নেই। তাই এখন পর্যন্ত কোন আইনজীবী দেশনেত্রীর বিরুদ্ধে ওই মিথ্যা অভিযোগের কোন সত্যতাও পায়নি। তার পরেও জিয়া আর্ফানেজ ট্রাস্ট মামলায় ফাঁসিয়ে বেগম খালেদা জিয়াকে নির্বাচন থেকে দুরে রাখার ষড়যন্ত্র করছে। কিন্তু ওয়ান ইলেভেনের সময় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে তিনটি মামলা হয়েছিলো। যার প্রধান স্বাক্ষী ছিলেন তাদের দলের শেখ সেলিম। কিন্তু ওয়ান ইলেভেন সরকারের সাথে যোগসাজস করে শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এসে তার সেই তিনটি মামলাসহ সাড়ে ৭ হাজার দুর্নীতি মামলা খারিজ ও প্রত্যাহার করে নেয়। আর আমাদের উপর চাপিয়ে দেয় লাখ লাখ মামলার বোঝা। এজন্য সপ্তাহে দু’দিন করে আমাদের আদালতের কাঠগড়ায় দাড়াতে হচ্ছে।
নির্বাচনী আলোচনায় প্রধান অতিথি বলেন, যারা দলের জন্য ভাবেননি, দলের কর্মীদের জন্য ভাবেননি। তারা মনোনয়নের আশা করবেন না। মাঝে মধ্যে নেতা-কর্মীদের কিছু দিয়ে দুরে সরে থাকাকে দলের প্রতি ভালোবাসা বোঝায় না। তাছাড়া দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যাকে ভালো মনে করবেন তাকেই দলীয় মনোনয়ন দিবে। মনে রাখতে হবে যাকেই মনোনয়ন দেয়া হোক তিনিই হবেন বিএনপি’র একমাত্র প্রার্থী। তার পক্ষেই সবার এক যোগে কাজ করতে হবে। ব্যক্তি নয়, দল ও গনতন্ত্রের সার্থে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে আহ্বান জানান তিনি।
সভাপতির বক্তৃতায় বিএনপি’র নির্বাহী কমিটির যুগ্ম মহাসচিব আলহাজ্ব এ্যাড. মজিবর রহমান সরোয়ার বলেছেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের প্রথম উদ্দেশ্য ছিলো গনতন্ত্র রক্ষা করা। কিন্তু সেই গনতন্ত্রকে বাক্স বন্ধি করে রেখেছে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার। আজ দেশে প্রশ্নফাঁস হচ্ছে, প্রধান বিচারপতিকে জোড় করে দেশ থেকে পাঠিয়ে দিয়ে চাকুরী থেকে অব্যহতি দেয়া হয়েছে। দ্রব্য মূল্যের উর্ধগতি, রিজার্ভ চুরি, গুম, খুন, ব্যাংক লুট করা হচ্ছে। আজ দেশে মত প্রকাশেল স্বাধীনতা নেই। বিশ্ব মানবাধিকার দিবসে মানবাধিকারের কথা বলতে রাস্তায় দাড়াতে পারছে না। আর এসব কিছুর মুল কারনই হচ্ছে দেশের গনতন্ত্র না থাকা। কেননা স্বাধীনতার রক্ষা কবজ হচ্ছে গনতন্ত্র। গনতন্ত্র ছাড়া স্বাধীনতা রক্ষা করা যাবে না।
মজিবর রহমান সরোয়ার বলেন, শেখ হাসিনা বিএনপিকে ভয় পায়। তাই সরকার আজ লেভেল প্লেইং ফিল্ড দিতে চাচ্ছে না। কারন তারা ইচ্ছেমত নির্বান করবে। কিন্তু আমরা চাই লেভেল প্লেইং ফিল্ড। আর শেখ হাসিনা চায় তার অধিনে নির্বাচন। আমরা চাই সেনাবাহিনী আর শেখ হাসিনা চায় নিজস্ব বাহিনী। মনে রাখতে হবে ইনব্যালেন্স হলে দেশের মানুষ বসে থাকবে না। পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।
নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য একটাই গনতন্ত্র ফিরিয়ে আনা। এজন্য প্রত্যেকটি নেতা-কর্মীকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। নিজেদের মধ্যকার হিসাব-নিকাশ না করে দলের জন্য ভাবতে হবে। গনতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার হাতকে আরো শক্তিশালী করতে দলীয় নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বরিশাল বিভাগের দায়িত্বে থাকা বিএনপি’র কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এ্যাড. বিলকিছ আক্তার জাহান খান শিরিন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মাহাবুল হক নান্নু, বরিশাল সিটি মেয়র মো. আহসান হাবিব কামাল, দক্ষিণ জেলা বিএনপি’র সভাপতি এবায়দুল হক চান, উত্তর জেলা বিএনপি’র সভাপতি মেজবাহ উদ্দিন ফরহাদ, মহানগর শাখার ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক জিয়াউদ্দিন সিকদার, দক্ষিণ জেলার সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. আবুল কালাম শাহিন, মহানগর বিএনপি’র সিনিয়র সহ-সভাপতি মনিরুজ্জামান খান ফারুক প্রমুখ।
এদিকে বিকাল ৩টায় অশ্বিনী কুমার টাউন হলে কর্মী সভা করেছে দক্ষিণ জেলা বিএনপি। কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব এবায়েদুল হক চান এর সভাপতিত্বে কর্মী সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপি’র স্থানীয় কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশারফ হোসেন। প্রধান বক্তা ছিলেন বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম মহাসচিব আলহাজ্ব এ্যাড. মজিবর রহমান সরোয়ার।
এছাড়া বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সভাপতি সেলিমা রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক এ্যাড. বিলকিছ আক্তার জাহান শিরিন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুল হক নান্নু, উত্তর জেলা বিএনপি’র সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য মেজবাহ উদ্দিন ফরহাদ, দক্ষিণ জেলার সহ-সভাপতি শাহ মো. আবুল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. আবুল কালাম শাহিন, আজিজুল হক আক্কাস প্রমুখ।
এর আগে গতকাল বুধবার ভোরে নৌ পথে দুই দিনের সাংগঠনিক সফরে বরিশালে আসেন বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশারফ হোসেন। সকালে শত শত নেতা-কর্মী নৌ বন্দরে তাকে শুভেচ্ছা জানায়। এসময় বিএনপি নেতা-কর্মীদের শ্লোগানে মুখোরিত হয় নৌ বন্দর এলাকায়। এসময় মজিবর রহমান সরোয়ার, বিলকিছ আক্তার জাহান শিরিন, আহসান হাবিব কামাল সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ নৌ বন্দরে উপস্থিত ছিলেন। পরে বিশাল শোডাউন দিয়ে খন্দকার মোশারফ হোসেনকে নৌ বন্দর থেকে নিয়ে আসা হয়। সাংগঠনিক সফলের প্রথম দিন গতকাল মহানগর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপি’র কর্মী সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন তিনি। আজ কর্মসূচির শেষে দিনে উত্তলা বিএনপি’র কর্মী সভায় অংশ নিবেন তিনি। আজ বৃহস্পতিবার সফর শেষে ঢাকায় ফিরবেন বিএনপি’র এই জ্যেষ্ঠ নেতা। তাছাড়া কেন্দ্রীয় নেতার সাংগঠনিক সফরকে ঘিরে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীদের মধ্যে প্রানচাঞ্চল্যতা ফিরে আসতে দেখা গেছে।