সরকারী শিশু সদনের কিশোরের মৃত্যু নিয়ে রহস্য

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ নগরীতে সরকারী শিশু সদনের (বালক) কিশোরের মৃত্যু নিয়ে রহস্যর সৃষ্টি হয়েছে। গতকাল শনিবার রাতে তার লাশ বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতাল থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। শিশু সদনের উপ-তত্ত্বাবধায়ক হেমায়েত উদ্দিন দাবী করেছে শিশুটি সদনের আবাসিক বালক ভবনের ৯নং কক্ষে ফ্যান লাগানো হুকের সাথে গলায় ফাঁস দিয়ে আতœহত্যা করেছে। বিকেল ৪ টার দিকে কিশোরকে ঝুলন্ত অবস্থা থেকে উদ্ধারের পর শেবাচিম হাসপাতালে নেয়। সেখানকার চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষনা করেছে। ওই কিশোর নাম মশিউর রহমান ইউসুফ (১৪)। পিতৃ-মাতৃ পরিচয়হীন ইউসুফ মানসিক ভারসাম্যহীন বলে দাবি করেছে উপ-তত্ত্বাবধায়ক হেমায়েত উদ্দিন।
কিশোরের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার দুই ঘন্টা পর পুলিশকে অবহিত করা এবং শিশু সদন কতৃপক্ষের আচরন সন্দেহের সৃষ্টি করেছে।
ঘটনাস্থলে যাওয়া কোতয়ালী মডেল থানার এসআই সাইদুল হক বলেন, সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টার দিকে থানার ওসিকে শিশু সদন থেকে অবহিত করা হয়। ওসির নির্দেশে হাসপাতালে গিয়ে লাশ উদ্ধারের পর ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছেন।
এসআই সাইদুল বলেন, ময়না তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারন বলতে পারবো। এই ঘটনায় থানায় অপমৃত্যুর মামলা হবে বলেন এসআই।
শিশু সদনে ওই কিশোরের কক্ষে আরো ৭ জন থাকে। তারা জানিয়েছে, ইউসুফ সহজ-সরল প্রকৃতির ও সব সময় আনন্দ করতো। সে সদনে আসার পর থেকে কখনো কারো সাথে বিবাদে জড়ায়নি।
শিশু সদন কতৃপক্ষ জানিয়েছে, আগৈলঝাড়া উপজেলায় ভুমিষ্ট হওয়ার পর গামছায় মধ্যে ফেলে রেখে যায় অজ্ঞাতরা। পরে এলাকাবাসী পেয়ে উপজেলার ছোটমনি নিবাসে দেয়। সেখানে তার প্রতিপালন শেষে ২০১২ সালের ১৪ এপ্রিল তাকে শিশু সদনে দেয়। শিশু সদন কতৃপক্ষ তাকে কিশোর মজলিসের প্রথম শ্রেনীতে ভর্তি করেছে।
এলাকাবাসী জানায়, শিশু সদনের ছাত্র হলেও এলাকার প্রতিটি বাসায় অবাধ যাতায়াত করতো। সহজ-সরল প্রকৃতির হওয়ায় প্রত্যেক বাসার বাসিন্দারা তাকে খাবার খেতে দিতো।
শিশু সদনের এক ছাত্র জানায়, ইউসুফ সব সময় ময়লা পোষাকে থাকতো। এই জন্য স্যাররা তাকে প্রায়ই মারধর করতো। সকালে সে কিশোর মজলিস কতৃপক্ষের শিক্ষা সফরে যাওয়ার বাসে উঠে। বাস ছেড়ে যাওয়ার পূর্ব মুহুর্তে বাস থেকে নেমে আসে।
বিকেলে সদনের সবাই মাঠে খেলার সময় তার সাথে দেখা হয়। সেই সময় সে পূর্বের মতো আচরন করেছে। তার মধ্যে কোন অস্বাভাবিকতা দেখা যায়নি।
সরোজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, আনুমানিক ১০ ফুট উচ্চতায় ফ্যানের হুক। ইউসুফের উচ্চতা সাড়ে ৪ ফুটের বেশি হবে না।
এক টুকরো রশি ও তিনটি গামছা শিকলের মতো করে বেধে ফাঁস বানিয়ে গলায় পেছিয়ে আতœহত্যা করেছে বলে দাবি করেছে কতৃপক্ষ।
কিন্তু সকলের দাবি ইউসুফের পক্ষে এভাবে আতœহত্যা করা সম্ভব নয়। এছাড়াও তাকে ঝুলন্ত অবস্থা থেকে উদ্ধার করে শিশু সদন কতৃপক্ষ হাসপাতালে নেয়। পরে সেই কক্ষ তালাবদ্ধ করে আলামত নষ্ট হওয়ার অজুহাতে কাউকে প্রবেশ করতে দেয়নি। এতে তার মৃত্যুর কারন নিয়ে রহস্যর সৃষ্টি হয়েছে।
এলাকাবাসীসহ সকলের ধারনা কতৃপক্ষের নির্যাতনে ইউসুফের মৃত্যু হয়েছে। পরে তাকে ঝুলিয়ে রাখা হয়।
সরকারী শিশু সদনের সভাপতি জেলা প্রশাসক ড. গাজী মো. সাইফুজ্জামান বলেন, ঘটনা শুনে হাসপাতালে গিয়ে কিশোরের লাশ দেখেছি। পুলিশকে ঘটনাটি গভীর ও কঠিনভাবে তদন্তের জন্য অনুরোধ করেছি। তারা সত্য উদঘাটনে সফল হবে এই আশাবাদ ব্যক্ত করছি।