সরকারি হাতেম আলী কলেজে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপে সংঘর্ষ

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ পিকনিকের টিকিট ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে বরিশাল সরকারী সৈয়দ হাতেম আলী কলেজে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে কলেজ ক্যাম্পাসে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। ঘটনার কিছু সময় পরেই কলেজ ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা ক্যাম্পাসে অস্ত্রের মহরা দেয়। এতে সাধারন শিক্ষার্থীদের মাঝে আতংক ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীরা জানান, জেলা ছাত্রলীগের উদ্যোগে সহ-সভাপতি সাইদুর রহমান সোহেল সহ তার অনুসারীরা সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজের শিক্ষার্থীদের নিয়ে একটি পিকনিকের আয়োজন করেন। মেঘনা নদীর তীরে আয়োজিত পিকনিকেট অংশ গ্রহনের জন্য ৪০০ টাকা এন্ট্রিফি নির্ধারন করে টিকেট ছাপায় পিকনিক কমিটির আহ্বায়ক এবং জেলা ছাত্রলীগ নেতা সাইদুর রহমান সোহেল। তবে পিকনিকে যেতে হলে কোন শিক্ষার্থীকে অগ্রীম টাকা দিতে হবে না বলে ঘোষনা দেন কলেজ কর্তৃপক্ষ। পিকনিকের টাকা ফরম ফিলাপের টাকা থেকে কেটে রাখার সিদ্ধান্তে সম্মতি দেয় শিক্ষার্থীরা। ফলে ছাপানো পিকনিকেটর টিকেট নিয়ে বিপাকে পড়ে ছাত্রলীগ। ফলে শিক্ষার্থীদের বাধ্যতামুলক টিকিট ধরিয়ে দেয়ার পাশাপাশি বহিরাগতদের পিকনিকে অন্তঃর্ভূক্ত করতে তাদের কাছে নগদ টাকায় টিকেট বিক্রি করার লক্ষ্যে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপ টিকেট ভাগাভাগি করে। এ নিয়ে জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সাইদুর রহমান সোহেল অনুসারী রিফাতের সাথে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক অনুসারী রিয়াদের বাকবিতন্ডার সৃষ্টি হয়। এক পর্যায় সাইদুর রহমান সোহেল এবং রিফাত সহ তাদের সহযোগিরা অপর ছাত্রলীগ কর্মী রিয়াদকে ক্যাম্পাসের প্রশাসনিক শাখায় হিসাব রক্ষন কর্মকর্তার রুমে নিয়ে আটকে রেখে বেধড়ক পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে আলেকান্দা পুলিশ ফাঁড়ি এবং কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থল হাতেম আলী কলেজ ক্যাম্পাসে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে।
এদিকে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনার কিছুক্ষন পরেই বিকাল ৩টার দিকে সাইদুর রহমান সোহেল অনুসারী ছাত্রলীগ নামধারী ক্যাডাররা বহিরাগতদের সাথে নিয়ে ক্যাম্পাসে সশস্ত্র মহরা দেয়। এতে করে ক্যাম্পাসে থাকা সাধারন শিক্ষার্থীদের মাঝে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রাখতে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হলে অস্ত্র সস্ত্রে সজ্জিত ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়।
তবে পিকনিকের টিকিট ভাগাভাগি নিয়ে দ্বন্দ্বের অভিযোগ অস্বীকার করে জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সাইদুর রহমান সোহেল বলেন, সিনিয়র জুনিয়র নিয়ে নিজেদের মধ্যে একটু হাতাহাতি হয়েছে মাত্র। এটা পত্রিকায় লেখার মত বড় কোন বিষয় নয়।
আলেকান্দা পুলিশ ফাঁড়ির টিএসআই নজরুল ইসলাম জানান, কলেজে ঝামেলা শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে এনেছি। বড় ধরনের কিছু না হলেও পরবর্তী অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশও মোতায়ন করা রয়েছে।
সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজ অধ্যক্ষ শচীন চন্দ্র রায় বলেন, ঘটনাটি আমি শুনেছি। তবে এটা বড় ধরনের কোন ঘটনা নয়। ছাত্রলীগের কয়েকজন ছাত্র’র মধ্যে একটু মারামারি হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।