সরকারি দপ্তরে নিরাপত্তা জোরদার

রুবেল খান॥ নাশকতা রোধে নগরীর সরকারি দপ্তরগুলোতে বৃদ্ধি করা হয়েছে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। বাড়ানো হয়েছে র‌্যাব-পুলিশের নজরদারী। টহল দল ছাড়াও নাশকতা রোধে সাদা পোশাকে রয়েছেন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা।
এদিকে প্রশাসনের পাশাপাশি সরকারের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা গুলোতে গ্রহণ করা হয়েছে বিশেষ সতর্কতা ব্যবস্থা। স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষে নিজস্ব ব্যবস্থার সাথে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে চলাচলের একাধিক গেট। গতকাল রবিবার নগরীর বিভিন্ন সরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ঘুরে দেখা গেছে এমন চিত্র।
তবে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা গুলোতে বিশেষ নজরদারী ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের কৌশলগত কারণে কিছুটা ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে সুবিধা ভোগিদের। তার পরেও জনগনের জান মালের নিরাপত্তার স্বার্থে প্রশাসন ও দাপ্তরিক কর্মকর্তাদের এমন কৌশলকে সাধুবাদও জানিয়েছেন অনেকে।
সূত্রমতে, সরকার বিরোধী আন্দোলনের নামে দেশ জুড়ে চলছে জ্বালাও পোড়াও আন্দোলন। তারই অংশ হিসেবে বরিশাল নগরী সহ জেলার বিভিন্ন সরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় অগ্নি সংযোগের মাধ্যমে করা হচ্ছে নাশকতা। যানবাহনের পাশাপাশি ইতোমধ্যে নগরীর বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় অগ্নি সংযোগ করেছে দুর্বৃত্তরা। এতে পুড়ে নষ্ট হচ্ছে বহু বছরের গুরুত্বপূর্ণ তথ্যভিত্তিক কাগজপত্র, আসবাবপত্র সহ বিভিণœ গুরুত্বপূর্ণ মালামাল। সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি সীমাহীন ক্ষতির সম্মুক্ষীণ হচ্ছে বরিশাল তথা দেশের নাগরিকরা।
এর অংশ বিশেষ চারদিন পূর্বে দুর্বৃত্তরা অগ্নি সংযোগ করে বরিশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালত কম্পাউন্ডে সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে। অগ্নি সংযোগের ফলে আদালতে বিচারকের এজলাস, কয়েক হাজার গুরুত্বপূর্ণ নথি, জমির দলিলাদি সহ ৪টি ভবনের সমস্ত মালামাল ভস্মিভূত হয়। ফায়ার সার্ভিসের প্রতিবেদন অনুযায়ী পেট্রোল অথবা গানপাউডার জাতীয় দ্রবের মাধ্যমে আদালতে অগ্নি সংযোগ করা হয়েছে।
এই ঘটনার একদিন পূর্বে অগ্নি সংযোগ করা হয় নগরীর গোড়াচাঁদ দাস রোডে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা আঞ্চলিক উপ-পরিচালকের কার্যালয়ে। দুর্বৃত্তদের দেয়া পেট্রোলের আগুনে পুড়ে যায় ঐ কার্যালয়ের একটি কম্পিউটার ও প্রিন্টার।
এর পূর্বে নাশকতার চেষ্টায় আগুন দেয়া হয় একই স্থানে অবস্থিত মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড কার্যালয়ে। তবে স্থানীয় এবং ফায়ার সার্ভিসের উপস্থিতিতে অল্পের জন্য ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পায় মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড।
এর আগে অগ্নি সংযোগ করা হয় নগরীর সিএন্ডবি রোডে উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ের উপজেলা চেয়ারম্যানের কক্ষে। তবে বড় ধরনের ক্ষতির আগেই বিষয়টি দেখতে পেয়ে আগুন নিভিয়ে ফেলে সেখানকার কর্মচারীরা।
খোঁজ নিয়ে দেখাগেছে, নাশকতা সৃষ্টির লক্ষে ইতোপূর্বে সরকারের যেসব গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা গুলোতে অগ্নি সংযোগ করা হয়েছে তা রাতের আঁধারে। এসব স্থাপনাগুলো অতিগুরুত্বপূর্ণ হলেও অরক্ষিত স্থানে হওয়ায় দুর্বৃত্তরা খুব সহজেই নাশকতা সৃষ্টি করে পালিয়ে যেতে সক্ষম হচ্ছে।
এদিকে প্রশাসনের একাধিক সূত্র জানায়, নাশকতা কারীরা প্রশাসনের কঠর নজরদারীর ফলে রাস্তায় যানবাহনে নাশকতা সৃষ্টি করতে পারছে না। তাই এখন নাশকতা সৃষ্টির জন্য সরকারের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও দপ্তরগুলোকেই বেছে নিয়েছে। আর এজন্য প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে সরকারি স্থাপনাগুলোতে বিশেষ নজরদারী ব্যবস্থা করা হয়েছে।
গতকার রবিবার সরেজমিনে দেখাগেছে, আদালত চত্তর ছাড়াও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে জনগনের সেবামূলক প্রতিষ্ঠান শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি এই প্রতিষ্ঠানটির জরুরী বিভাগের একটি গেট বাদে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে প্রশাসনিক বিভাগের সহ আসা যাওয়ার অন্যান্য গেটগুলোও।
একই পরিস্থিতি দেখাগেছে, তৎ সংলগ্ন পানি উন্নয়ন বোর্ড, বিআইডব্লিউটিএ, জেলা প্রশাসন কার্যালয়, ভ’মি অফিস, শিক্ষা বোর্ড, গণপূর্ত অধিদপ্তর কার্যালয়, সড়ক ও জনপথ, শিক্ষা প্রকৌশল কার্যালয়, এলজিইডি, বিআরটিসি কার্যালয় এবং উপজেলা পরিষদ সহ অন্যান্য সরকারি স্থাপনা গুলোতে। এখানে র‌্যাব-পুলিশের বিশেষ নজরদারীর পাশাপাশি নিজস্ব ভাবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
জানতে চাইলে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. শহীদুল ইসলাম বলেন, নগরীতে একের পর এক সরকারি দপ্তরে নাশকা সৃষ্টিতে অগ্নি সংযোগ করা হচ্ছে। এজন্য মেট্রোপলিটন পুলিশের নির্দেশে তারা সতর্কতা মূলক বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছেন।
তিনি আরো জানান, নিরাপত্তার স্বার্থে হাসপাতালের জরুরী বিভাগ সহ অন্য সকল গেট বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। সেখানে অতিরিক্ত নিরাপত্তা প্রহরীর মাধ্যমে নজরদারী করা হচ্ছে। তার পরেও পুরো হাসপাতাল সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে নিরাপত্তা বলয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে।
নিরাপত্তা জোরদারের বিষয়ে একই কথা জানিয়েছেন বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান জিয়াউল হক। তিনি বলেন, সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি নিজস্ব জনবল দিয়ে সিকিউরিটি ব্যবস্থাতো রয়েছেই।
মহানগর পুলিশের মুখপাত্র সিনিয়র সহকারী কমিশনার মো. আজাদ রহমান কমিশনার শৈবাল কান্তি চৌধুরীর বরাত দিয়ে পরিবর্তনকে জানান, নাশকতা সৃষ্টিকারীদের হাত থেকে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এবং জনগনের জান মালের নিরাপত্তার স্বার্থে সকল সরকারি প্রতিষ্ঠানে পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ মোতায়েন ছাড়াও রয়েছে টহল টিম ও সিভিল পোশাকে গোয়েন্দা পুলিশ সদস্য। সরকারি দপ্তর গুলোতে রাতে এবং দিনে কারণ ছাড়া কাউকে অযথা ঘোরাফেরা না করার নির্দেশ দেয়ার পাশাপাশি কাউকে সন্দেহজনক মনে হলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মহানগর পুলিশের এই কর্মকর্তা।